ঈদুল আজহা
কোরবানির পশু। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
পবিত্র ঈদুল আজহায় দেশে মোট ৯৩ লাখ ৬৭ হাজার ৪১৮টি গবাদিপশু কোরবানি হয়েছে। বিভাগ হিসেবে সর্বোচ্চ কোরবানি হয়েছে ঢাকায়। আর সর্বনিম্ন কোরবানি হয়েছে সিলেটে।
সচিবালয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বৃহস্পতিবার আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব তথ্য জানান মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
দেশব্যাপী কোরবানিকৃত গবাদিপশুর প্রাথমিক হিসাব এবং সরকারের গৃহীত কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করতে এ প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের আওতাধীন আটটি বিভাগ থেকে প্রাপ্ত প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী এ বছর মোট কোরবানিকৃত পশুর সংখ্যা ৯৩ লাখ ৬৭ হাজার ৪১৮টি। এর মধ্যে গরু ও মহিষ ৪৮ লাখ ৬৪ হাজার ১৫৮টি, ছাগল ও ভেড়া ৪৫ লাখ ২ হাজার ২৩৩টি এবং অন্যান্য পশু ১ হাজার ২৭টি।
তিনি জানান, এ বছর কোরবানিযোগ্য পশুর মোট চাহিদা ছিল ১ কোটি ১ লাখ ৬ হাজার ৩৩৪টি। এর বিপরীতে দেশে কোরবানিযোগ্য পশুর প্রাপ্যতা ছিল ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৪০টি। কোরবানি শেষে দেশে ২৯ লাখ ৬৬ হাজার ৪২২টি পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে। দেশীয় খামারিদের উৎপাদিত পশুর মাধ্যমেই এ বছরও কোরবানির শতভাগ চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হয়েছে।
সালাউদ্দিন টুকু জানান, বিভাগভিত্তিক হিসেবে সবচেয়ে বেশি পশু কোরবানি হয়েছে ঢাকা বিভাগে এবং দ্বিতীয় সর্বোচ্চ কোরবানি হয়েছে রাজশাহী বিভাগে। এছাড়া গত বছরের তুলনায় এ বছর কোরবানির পশুর সংখ্যা বেড়েছে ২ লাখ ৩১ হাজার ৪১৮টি।
তিনি বলেন, ঢাকা বিভাগে সর্বাধিক ২৩ লাখ ৫১ হাজার ৬৬৬টি পশু কোরবানি হয়েছে। রাজশাহী বিভাগে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৩ লাখ ৪২ হাজার ৮৬৯টি পশু কোরবানি হয়েছে। চট্টগ্রাম বিভাগে কোরবানি হয়েছে ১৭ লাখ ৩৪ হাজার ২৫টি পশু। এ ছাড়া রংপুর বিভাগে ১০ লাখ ৫০ হাজার ৫৫৪টি, খুলনা বিভাগে ৮ লাখ ৪৬ হাজার ৫টি, বরিশাল বিভাগে ৪ লাখ ১৬০টি, ময়মনসিংহ বিভাগে ৩ লাখ ৬৭ হাজার ৮১৮টি এবং সিলেট বিভাগে ২ লাখ ৭৪ হাজার ৩২১টি পশু কোরবানি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ২০২৫ সালে কোরবানির পশুর সম্ভাব্য চাহিদা ছিল ১ কোটি ৩ লাখ ৭৯ হাজার ২০২টি এবং প্রাপ্যতা ছিল ১ কোটি ২৪ লাখ ৪৭ হাজার ৩৩৭টি। ওই বছর দেশে মোট ৯১ লাখ ৩৬ হাজার পশু কোরবানি হয়েছিল এবং উদ্বৃত্ত ছিল ৩৩ লাখ ১১ হাজার ৩৩৭টি পশু। সে হিসেবে গত বছরের তুলনায় এ বছর ২ লাখ ৩১ হাজার ৪১৮টি বেশি পশু কোরবানি হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের সময়োপযোগী নীতি সহায়তা, খামারিদের কঠোর পরিশ্রম এবং উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের ফলে প্রাণিসম্পদ খাত আজ একটি শক্তিশালী ও আত্মনির্ভরশীল অবস্থানে পৌঁছেছে। গ্রামীণ অর্থনীতি আরও শক্তিশালী করা এবং প্রাণিসম্পদ খাতের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকার আধুনিক প্রযুক্তি ও খামারিবান্ধব নীতি বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে।
এ সময় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খানসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।