ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ (বাঁয়ে), চুরি হওয়া লাগেজ এবং মোস্তফা কামাল পলাশ। কোলাজ: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে হাজিদের লাগেজ চুরির ঘটনায় ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ দুঃখ প্রকাশ করেছেন বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদ মোস্তফা কামাল পলাশ।
তিনি জানিয়েছেন, বিমানবন্দরে তার বাবার লাগেজ চুরির ঘটনা শুনে ধর্মমন্ত্রী তাকে ফোন করে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি তার বাবার কাছেও ফোন করে দুঃখ প্রকাশ করবেন বলে জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন: ধর্মমন্ত্রীর ত্বরিত উদ্যোগে দেশে ফিরলেন আটকে পড়া ৩৩ উমরাহ যাত্রী |
নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে বুধবার বিকাল ৩টা ৪ মিনিটে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানিয়েছেন মোস্তফা কামাল পলাশ।
পোস্টে তিনি লিখেছেন, “প্রধানমন্ত্রীর প্রেস টিমের সদস্য ছোট ভাই কেএম নাজমুল হক ঢাকা বিমান বন্দরে হাজিদের লাগেজ চুরির ঘটনাটি জানার পর ধর্মমন্ত্রী ও বিমান পরিবহণ মন্ত্রীকে অবহিত করেছে। আমাকে অবাক করে দিয়ে সৌদি আরবের মক্কা শহর থেকে নিজে ফোন দিয়েছেন বাংলাদেশ সরকারের ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ। উনি আমার কাছে পুরো ঘটনা শুনে দুঃখ প্রকাশ করেছেন ও সেই সাথে হাজিদের লাগেজ চুরির দুঃসংবাদ শুনে খুবই লজ্জিত হয়েছেন।”
মোস্তফা কামাল পলাশ লেখেন, “উনি (ধর্মমন্ত্রী) আমাকে জানিয়েছেন, উনি উনার মন্ত্রণালয় ও সরকারের অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের সাথে কথা বলে আজ রাত থেকেই হাজিদের লাগেজ চুরি প্রতিরোধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। সেই সাথে তিনি জানিয়েছেন, উনি নিজে আমার আব্বার সাথে কথা বলে লাগেজ চুরির জন্য দুঃখ প্রকাশ করবেন।”
তিনি আরও লেখেন, “আমি আশা করছি আজ রাত থেকে আগত হাজি সাহেব/সাহেবানদের লাগেজ কেটে মালামাল চুরি বন্ধ হবে।”
এর আগে দুপুর ২টা ১০ মিনিটে হাজিদের লাগেজ চুরি সংক্রান্ত আরও একটি পোস্ট দেন মোস্তফা কামাল পলাশ। সেখানে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “আপনি কি জানেন যে আজ রাত ৩টার সময় পবিত্র হজ শেষে বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটে যে ৪১৯ জন হাজি দেশে ফিরেছেন তাদের মধ্যে প্রায় ১৫০ জনের লাগেজ কেটে মালামাল বের করে নিয়েছে ঢাকা বিমান বন্দরের ইমানদার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা? এই ১৫০ জন হতভাগ্য হাজির মধ্যে আমার আব্বাও ছিল একজন।”
তিনি লেখেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, ২০২৬ সালের হজ্জ ফ্লাইট চালুর দিনে আপনি হজযাত্রীদের কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন সামান্য অব্যবস্থাপনার জন্য। সেই সাথে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে আগামী বছর থেকে হজের প্রথম ফ্লাইট থেকেই কোনও অব্যবস্থাপনা থাকবে না। জুন মাসের ১ তারিখ থেকে হজ শেষে হাজি সাহেবরা দেশের ফেরা শুরু করেছে। কোরবানির ঈদ ৫ দিন পূর্বে শেষ হয়ে গেলেও বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কর্মরত চোরদের নতুন করে ঈদ শুরু হয়েছে। এই ঈদ রোজার ঈদ না কিংবা কোরবানির ঈদও না। এই ঈদ হলো চুরির ঈদ; হাজিদের লাগেজ কাটার ঈদ। পবিত্র হজ শেষ হাজিরা নিজেদের পরিবার ও আত্মীয় স্বজনদের জন্য সামান্য উপহার হিসেবে যে উপহার সামগ্রী নিয়ে এসেছে সেই উপহার সামগ্রীগুলো চুরির ঈদ।”
তিনি আরও লেখেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনার প্রতি বিনীত অনুরোধ, যে হাজি সাহেবরা আজকে থেকে ফিরবে তাদের লাগেজগুলো রক্ষার ব্যবস্থা করুন।”