× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ

বঞ্চিতই থাকছেন সিনিয়র নেতারা

আসাদুজ্জামান সম্রাট

প্রকাশ : ০৩ জুন ২০২৬ ১১:০৯ এএম

আপডেট : ০৩ জুন ২০২৬ ১১:১১ এএম

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের লোগো। ছবি: সংগৃহীত

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের লোগো। ছবি: সংগৃহীত

বাজেট অধিবেশনের আগেই সম্প্রসারণ ঘটতে পারে মন্ত্রিসভার। আরও কয়েকজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী যুক্ত হতে পারেন এতে। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সম্ভাব্য এই মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের তালিকায় বিএনপির সিনিয়র কোনো নেতার নাম নেই। এবারও মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে চলেছেন অপেক্ষাকৃত কম পরিচিত নিচের সারির নেতারা। এমন প্রেক্ষাপটে সাবেক পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের মতো আরও কয়েকজন মন্ত্রীর পদত্যাগের ঘটনাও ঘটতে পারে। 

দীর্ঘদিন পর তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত নতুন বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পেয়েছেন সিনিয়র অল্প কয়েকজন নেতা। পুরোপুরিই উপেক্ষিত হয়েছেন মধ্যম সারির নেতারা। তবে স্থান দেওয়া হয়েছে অপেক্ষাকৃত তরুণ এবং নিচের সারির নেতাদের। এই টিমের ওপরই দায়িত্ব বর্তায় সরকারের ১৮০ দিনের প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের। কিন্তু এই দায়িত্ব মন্ত্রিসভার কাজের গতিকে যেন আরও শ্লথ করে দিয়েছে। কারণ মন্ত্রণালয়ের ‍গুরুত্বপূর্ণ কোনো সিদ্ধান্তে বিতর্ক হতে পারেÑ এমন বিষয় এড়িয়ে চলছেন এই মন্ত্রিসভার সবাই।

এরই মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগে দলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। তার বাবা সুবিমল দেওয়ান ছিলেন প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ‘উপজাতি বিষয়ক উপদেষ্টা’। ২০০৫ সালে জুডিসিয়াল সার্ভিসের যুগ্ম জেলা জজের চাকরি ছেড়ে রাঙামাটিতে বিএনপির হাল ধরেন দীপেন দেওয়ান। তবে আইনি জটিলতায় ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে ব্যর্থ হন। এবার রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার ১৮ বছরের মাথায় প্রথম জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিয়ে সারা দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ ব্যবধানে জয়লাভ করে এবং মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়ে আলোচনার আলোয় উঠে আসেন তিনি। সে কারণে কেন তিনি পদত্যাগ করলেন, তা নিয়েও ব্যাপক আলোচনা চলছে। অনেকেই বলছেন, দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র সাড়ে তিন মাসের মাথায় তার এই পদত্যাগ সরকারের জন্যও অস্বস্তিকর। তিনি পার্বত্যাঞ্চলের মন্ত্রী বলে বিষয়টি নানা সংবেদনশীলতাও সৃষ্টি করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, স্থানীয় ক্ষেত্রে আধিপত্য ধরে রাখার চেষ্টা এবং তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ পুনর্গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে মতবিরোধের কারণে তাকে সরে যেতে হয়েছে।

বাদ পড়তে পারেন আরও কেউ কেউ

ধারণা করা হচ্ছে, আরও কয়েকজন মন্ত্রীকে দ্রুতই দীপেন দেওয়ানের মতো মন্ত্রিসভা থেকে বিদায় নিতে হবে। কারও কারও ক্ষেত্রে আবার দপ্তর পুনর্বণ্টনের ঘটনা ঘটতে পারে। বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্প্রতি মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্যকে ডেকে নিয়ে তাদের কার্যক্রমে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এর মধ্যে একজন মন্ত্রীকে তার দপ্তরের বিভিন্ন নিয়োগ, কাজে সমন্বয়হীনতা ও প্রতিমন্ত্রীকে উপেক্ষা করাসহ বিভিন্ন ইস্যুতে বকাঝকাও করেছেন। মন্ত্রিসভার আরও কয়েকজন সদস্যের প্রতি তার শ্যেনদৃষ্টি রয়েছে।

পাশাপাশি একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়া মন্ত্রিদের কাঁধ থেকে প্রধানমন্ত্রী চাইছেন কাজের বোঝা কমিয়ে দিতে। বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনের প্রত্যয় থাকলেও অনেক মন্ত্রী গা-ছাড়াভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। অনেক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর বক্তব্যের সঙ্গে প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের মিল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর মানসিক দূরত্বের সুযোগ নিচ্ছেন কোনো কোনো মন্ত্রণালয়ের সচিবও। প্রশাসনিক কাজে বিশৃঙ্খলাও দেখা যাচ্ছে। সব মিলিয়ে মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ ও দপ্তর পুনর্বণ্টনের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী সবিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন।

স্থান পাচ্ছেন না সিনিয়র নেতারা

তবে মন্ত্রিসভার আসন্ন সম্প্রসারণের তালিকায় এবার বিএনপির সিনিয়র নেতাদের কারও নাম রাখা হয়নি বলে জানা গেছে। এ তালিকায় নেই বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান ও সেলিমা রহমান। স্থায়ী কমিটির কয়েকজন উপদেষ্টা পরিষদে স্থান পেলেও এবং কেউ কেউ আলোচনায় থাকলেও এদের ভাগ্যে শিকে ছিঁড়ছে না শিগগিরই।

এমনকি এর পরের সারির নেতাদের মধ্যে আলতাফ হোসেন চৌধুরী, ড. ওসমান ফারুক, গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, মজিবর রহমান সরোয়ার, জয়নুল আবদিন ফারুক, বরকত উল্লাহ ভুলু, আমান উল্লাহ আমান, মাহাবুব উদ্দিন খোকন, খায়রুল কবির খোকন, ফজলুল হক মিলন, মোহাম্মদ শাহজাহান, অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, মনিরুল হক চৌধুরী, ইঞ্জিনিয়ার মইনুল ইসলাম খান শান্ত প্রমুখের নামও নেই আলোচনায়। উল্লেখ্য, এদের সবাই চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অথবা দলের ভাইস চেয়ারম্যান।

মন্ত্রিসভায় সংসদের বাইরে থাকা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, হাবিব উন নবী খান সোহেল, শামসুজ্জামান দুদু, নাজিম উদ্দিন আলমদের অন্তুর্ভুক্তির ব্যাপারেও আপাতত কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানা গেছে। এ রকম গুঞ্জন রয়েছে যে, এদের অনেককে স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন করা হবে। কিন্তু এ আলোচনার বাস্তব কোনো ভিত্তি খুঁজে পাওয়া যায়নি। এ বছর কাউন্সিল হলে এদের দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।

আলোচনায় আছেন যারা

মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণে সাম্প্রতিক সময়ে ৫-৬টি নাম আলোচনায় এসেছে। এদের মধ্যে চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ অন্যতম। তার বাবা শরাফত উল্লাহও বিএনপির নিবেদিত নেতা ছিলেন। নির্বাচনী গণসংযোগকালে তার ওপর গুলি চালানো হয়েছিল। তিনি বিজিএমইএর সাবেক নেতা। পটুয়াখালী-৮ আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক ছাত্রনেতা এবিএম মোশাররফ হোসেনের নামও উচ্চারিত হচ্ছে বেশ জোরেশোরে। কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামও আলোচনায় রয়েছেন। তিনিও তৈরি পোশাক খাতের একজন ব্যবসায়ী।

টেকনোক্র্যাট কোটায় বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহিদুর রহমানও যুক্ত হতে পারেন মন্ত্রিসভায়। বৃহত্তর নোয়াখালী অঞ্চল থেকে কাউকে যুক্ত করলে জয়নুল আবদিন ফারুক, বরকত উল্লাহ ভুলু ও ব্যারিস্টার মাহাবুব উদ্দিন খোকনের ভাগ্যবদল হতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত কারও নাম আলোচনায় আসেনি। মন্ত্রিসভা গঠনে এবার তরুণ সংসদ সদস্যরা প্রাধান্য পাওয়ায় মধ্যম সারির নেতারা সবচেয়ে বেশি বঞ্চিত হয়েছেন।

প্রসঙ্গত, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে ১৭ ফেব্রুয়ারি ৫০ সদস্যের মন্ত্রিসভা গঠন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। যাতে একজন মন্ত্রীকে তিনটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিতে দেখা গেছে। পরে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নানাভাবে সমন্বয় করা হলেও এখনও প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা রয়ে গেছে। সরকারকে গতিশীল করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে মন্ত্রণালয় ভিত্তিক উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা ৪৯ জন। যার মধ্যে তিনজন টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা