সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে মঙ্গলবার বাংলাদেশে নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকোন আরাল্ড গুলব্র্যান্ডসেনের সৌজন্য সাক্ষাৎ। ছবি: প্রতিদিনেরে বাংলাদেশ
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে নরওয়ে ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও জোরালো ভূমিকা চেয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
সচিবালয়ে মন্ত্রীর সঙ্গে মঙ্গলবার বাংলাদেশে নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকোন আরাল্ড গুলব্র্যান্ডসেনের সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার দীর্ঘমেয়াদি অবস্থান বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন।
বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, বিনিয়োগ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ১৯৭২ সালে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং দেশের উন্নয়নে নরওয়ের ধারাবাহিক সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ থেকে নরওয়েতে ওষুধ, চামড়াজাত পণ্য, আইটি সেবা, পাটজাত পণ্য ও হস্তশিল্প রপ্তানির সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি, জাহাজ নির্মাণ ও প্যাকেজিং খাতে নরওয়ের বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান।
আরও পড়ুন: ‘কাঁটাতারের বন্দি জীবনে’ আরও একটি ঈদ রোহিঙ্গা শরণার্থীদের |
জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিতে দুই দেশের সহযোগিতা আরও বাড়ানো প্রয়োজন। শিক্ষা, গবেষণা, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণেও সম্পর্ক জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
রোহিঙ্গা ইস্যুতে নরওয়ের মানবিক সহায়তা ও নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিলের কার্যক্রমের প্রশংসা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে তিনি বলেন, সংকটের স্থায়ী সমাধান হলো রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন।
জবাবে নরওয়ের রাষ্ট্রদূত বলেন, জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে বাংলাদেশ ও নরওয়ের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। বাংলাদেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতায় নরওয়ে ভবিষ্যতেও পাশে থাকবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।