× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

এনবিআরে আরেক মতিউর

প্রবা প্রতিবেদন

প্রকাশ : ০২ জুন ২০২৬ ১১:৪৯ এএম

আপডেট : ০২ জুন ২০২৬ ১২:৩৯ পিএম

মতিউর রহমান ও সহিদুল ইসলাম। কোলাজ: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

মতিউর রহমান ও সহিদুল ইসলাম। কোলাজ: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

দুদকের অনুসন্ধানে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ছাগলকাণ্ডের মতিউর রহমানের ১৫০ কোটি টাকার সম্পত্তির তথ্য উঠে এসেছে। তবে এর কয়েক গুণ সম্পত্তি রয়েছে তারই সহকর্মী সহিদুল ইসলামের।

সম্প্রতি সংবাদমাধ্যম এশিয়া পোস্টের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, নামে-বেনামে সহিদুল ইসলামের অন্তত ৪০০ কোটি টাকার সম্পত্তি রয়েছে। 

অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজধানীর অভিজাত এলাকা বসুন্ধরায় ২০ ফ্ল্যাটের ১০ তলা একটি বাড়ি রয়েছে সহিদুল ইসলামের স্ত্রী ফাহমিদা রাব্বির নামে, যার দাম অন্তত ১০০ কোটি টাকা।

বসুন্ধরা ছাড়াও আমিন বাজারের মধুমতি মডেল টাউনেও নিজেদের সাম্রাজ্য গড়েছেন এই দম্পতি। যেখানে ৩৫ কাঠা জমির ওপর ১০ কোটি টাকা মূল্যের বাংলো বাড়ি রয়েছে তাদের। এখানেই রয়েছে আরও অন্তত ৯০ কোটি টাকার ৫টি জমি।

শুধু জমি নয়, ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকায় ৫৩টি ফ্ল্যাটের সন্ধান পেয়েছে এশিয়া পোস্ট। নতুন শহর পূর্বাচলেও ৪টি প্লট কিনেছেন এই দম্পতি। যার বাজারমূল্য প্রায় ৬০ কোটি টাকা।

সহিদুল দম্পতির সম্পত্তি যাচাই-বাছাই করতে গিয়ে দেখা যায়, মিরপুরের আরামবাগে ১০টি ফ্ল্যাটের একটি ভবন রয়েছে সহিদুলের স্ত্রীর নামে। রাজধানীর ইস্কাটনে গার্ডেনিয়া টাওয়ারেও রয়েছে একটি ফ্ল্যাট। বাংলামোটরে স্বজন টাওয়ারে রয়েছে দুটি ফ্ল্যাট, মিরপুরের ইস্টার্ন হাউজিংয়ের দ্বিতীয় প্রজেক্টে শ্যালকের নামে ৬ তলা ভবন করে দিয়েছেন সহিদুল ইসলাম।

অন্যদিকে নিউমার্কেট ও আজিজ সুপার মার্কেটে ৪ কোটি টাকা মূল্যের দুটি দোকান, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরে কয়েক কোটি টাকার জমি রয়েছে সহিদুল দম্পতির। 

এখানেই শেষ নয়, শেয়ার বাজারে ৮০ কোটি টাকা বিনিয়োগের তথ্যও পাওয়া গেছে।

কাস্টমস ক্যাডারের ১৩ ব্যাচের কর্মকর্তা ছিলেন সহিদুল ইসলাম। তার গ্রামের বাড়ি বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জে। চাকরিজীবনে তিনি এনবিআরের বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালকও ছিলেন তিনি। তবে সম্প্রতি অবসরে গেছেন এনবিআরের সদস্য হিসেবে। 

সহিদুলের সহকর্মী ও কাস্টমস ক্যাডারের প্রথম শ্রেণির কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, শহিদুল ইসলামের মতো একজন কর্মকর্তা চাকরিজীবনে বেতন পান দেড় কোটি টাকার মতো। এর বাইরে স্কলারশিপ ও বিদেশ সফর বাবদ পান ১ কোটি টাকা। আর পেনশন পান দেড় কোটি টাকার কিছু কম-বেশি। চাকরিজীবনে পারিবারিক ও অন্যান্য খরচ বাদ দিয়ে সর্বোচ্চ আড়াই কোটি টাকার বেশি সঞ্চয় সম্ভব নয়।

এসব বিষয়ে জানতে সহিদুল ইসলামের বসুন্ধরার বাসায় গেলে নিরাপত্তা কর্মীরা জানান, তিনি (সহিদুল ইসলাম) সংবাদকর্মীদের সঙ্গে কথা বলবেন না। পরবর্তীতে সহিদুলের ৩টি ও তার স্ত্রীর ১টি মোবাইল নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়, তবে তারা এতে সাড়া দেননি।

একজন সরকারি কর্মচারীর এতো সম্পদ থাকার বিষয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে বৈধ প্রক্রিয়ায় এতো সম্পত্তির মালিক হওয়ার কোনও সুযোগ নেই। যোগসাজশের মাধ্যমে কর ফাঁকির ব্যবস্থা করে এ সম্পদ অর্জন করে থাকতে পারেন তিনি। এটা হলে রাষ্ট্র রাজস্ব বঞ্চিত হয়েছে। এ ধরনের ব্যাক্তির ক্লাইন্ট লিস্ট দেখলে আসল তথ্য বের হবে।”

তিনি বলেন, “কোনো কর্মকর্তার জ্ঞাতআয় বহির্ভূত এত সম্পত্তি থাকলে রাষ্ট্রের উচিত তা খতিয়ে দেখা।”

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা