প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০১ জুন ২০২৬ ১৬:৪১ পিএম
আপডেট : ০১ জুন ২০২৬ ১৭:১৮ পিএম
ভারতীয় পুশইন রোধে বেনাপোল সীমান্তে বিজিবির সর্তক পাহারা। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ।
পশ্চিমবঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের বিভিন্ন স্থানে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) বিতর্কিত কর্মকাণ্ড নতুন করে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে।
এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনাও বেড়েছে। সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে বিএসএফের পুশইনের চেষ্টা পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করে তুলছে। এই অবস্থায় সীমান্তে নজরদারি ও টহল জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
এদিকে লালমনিরহাট
সীমান্তে বিএসএফের একের পর এক অপতৎপরতায় সেখানকার পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। সাতক্ষীরা
সীমান্তে চামড়া পাচার ও পুশইনের চেষ্টা চলছে। এসব অপতৎপরতা রোধে সীমান্তে বিজিবির
নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। চুয়াডাঙ্গার দর্শনা বারাদি দিয়ে অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করার
সময় ১০ জনকে আটক করেছে বিজিবি। এ ছাড়া হিলি সীমান্তে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বাংলাদেশিকে
ফেরত দিয়েছে বিএসএফ।
ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছেন, সীমান্তে বেড়া দেওয়ার জন্য পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার বিএসএফকে ৭২১ একর জমি দিয়েছে। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কড়াকড়ির জন্য তিনি নতুন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন।তবে ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভিতে লেখক ও সাংবাদিক জয়ন্ত ঘোষালের বিশ্লেষণে দু-দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নের আভাসও মিলেছে। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে আমাদের প্রতিবেদকদের পাঠানো খবরÑ
লালমনিরহাট
সাম্প্রতিক সময়ে লালমনিরহাটের
বিভিন্ন সীমান্তে বিএসএফের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে উদ্বেগ বেড়েছে। বিএসএফের
গুলিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যু, সীমান্ত আইন লঙ্ঘন করে বাঁশের খুঁটি স্থাপনের চেষ্টা,
তিনবিঘা করিডোর এলাকায় উত্তেজনা, ভারতীয় চোরাকারবারিদের অনুপ্রবেশের চেষ্টা, সীমান্ত
এলাকায় ভারতের ড্রোন পড়ে যাওয়া এবং পুশইনের চেষ্টাসহ নানা ঘটনায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ
তৈরি হয়েছে।
জানা যায়, গত ১৪
মে ভোরে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার বনচৌকি বিওপির সীমান্তবর্তী এলাকায় বিএসএফের
গুলিতে খাদেমুল ইসলাম (২৪) নামে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হন। এর আগে ৮ এপ্রিল পাটগ্রাম
সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত হন আলী হোসেন (৩৮) নামে আরেক বাংলাদেশি। পরপর দুই বাংলাদেশির
মৃত্যুর ঘটনায় সীমান্তে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
সম্প্রতি পাটগ্রাম
উপজেলার কুচলিবাড়ী ইউনিয়নের কলসীমুখ সীমান্ত এলাকায় আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে বাঁশের
খুঁটি স্থাপনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ। বিষয়টি বিজিবির নজরে এলে তাৎক্ষণিকভাবে আপত্তি
জানানো হয়। বিজিবির কঠোর অবস্থানের মুখে শেষ পর্যন্ত বিএসএফ খুঁটি সরিয়ে নিতে বাধ্য
হয়।
তিনবিঘা করিডোর
এলাকায় ভারতীয় সার্ভে বিভাগের সদস্যদের উপস্থিতিতে সীমান্তের নিকটবর্তী স্থানে নতুন
করে বাঁশের খুঁটি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হলে আবারও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি মোকাবিলায়
অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয় এবং পরে বিজিবি ও বিএসএফের অধিনায়ক পর্যায়ে পতাকা
বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে আন্তর্জাতিক সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে কোনো স্থায়ী স্থাপনা
নির্মাণ না করার বিষয়ে বিজিবি তাদের অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।
কলসীমুখ সীমান্ত
দিয়ে ভারতীয় চোরাকারবারিদের একটি দল বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করলে বিজিবি তাদের বাধা
দেয়। সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে এগিয়ে আসায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি
ছোড়ে বিজিবি। পরে তারা ভারতের অভ্যন্তরে পালিয়ে যায়।
সীমান্ত এলাকায়
একটি ভারতীয় ড্রোন পড়ে যাওয়ার ঘটনাও স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
পাশাপাশি সীমান্তে পুশইনের আশঙ্কা নিয়েও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিজিবি।
সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক এসব ঘটনার পর লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি, রংপুর ৫১ বিজিবি এবং তিস্তা-টু ৬১ বিজিবির সদস্যরা সীমান্তে নজরদারি বাড়িয়েছেন। ১৫ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মেহেদী ইমাম বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
সাতক্ষীরা
সাতক্ষীরা সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ, কোরবানির পশুর চামড়া পাচার ও পুশইনের চেষ্টা প্রতিরোধে
বিজিবি সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় জনবল বাড়ানোর পাশাপাশি টহল জোরদার করা
হয়েছে।
খবরে বলা হয়েছে,
ভারতে বসবাসরত বাংলাভাষী অনেককে আটক করে সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় স্থাপিত অস্থায়ী
হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হয়েছে। তাদের বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে। এসব ব্যক্তিকে
বাংলাদেশি দাবি করে ভারতীয় বিএসএফ যেকোনো সময় সীমান্ত পথে বাংলাদেশে পুশইন করতে পারে।
সাতক্ষীরার কলারোয়া সীমান্তের বিপরীতে ভারতের হাকিমপুর এলাকায় ইতোমধ্যে বিপুলসংখ্যক
বাংলাভাষী নারী-পুরুষ ও শিশুকে জড়ো করা হয়েছে বলে একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রে
জানা গেছে।
এমন পরিস্থিতিতে
সাতক্ষীরা সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিজিবি। একই সঙ্গে কোরবানির পশুর
চামড়া যাতে ভারতে পাচার না হতে পারে সে বিষয়েও কঠোর নজর রাখা হচ্ছে। সাতক্ষীরা বিজিবি
৩৩ ব্যাটালিয়ানের অধিনায়ক লে. কর্নেল কাজী আশিকুর রহমান বলেন, সীমান্তজুড়ে বিজিবির
জনবল বাড়িয়ে টহল জোরদার করা হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা
জেলার দর্শনা বারাদি সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করার সময় ১০ জনকে আটক করেছে বিজিবি। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ২ জন পুরুষ, ৩ জন মহিলা এবং ৫ জন শিশু রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, তাদেরকে পুশইনের জন্য সীমান্তে ঠেলে দিয়েছে বিএসএফ। চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের (৬ বিজিবি) বারাদি বিওপির নিয়মিত টহল দল গতকাল রবিবার ভোরে তাদের আটক করে। বিজিবি চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল নাজমুল হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
হিলি (দিনাজপুর)
জেলার হাকিমপুর উপজেলার হিলি সীমান্তে বিএসএফ ও বিজিবির মধ্যে অনুষ্ঠিত পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে এক বাংলাদেশি নাগরিককে ফেরত দেওয়া হয়েছে। ফেরত আসা ওই ব্যক্তির নাম বিষ্ণু কুমার সরকার (৩২)। তিনি সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর থানার দুর্গাদহ গ্রামের মৃত বিশ্বনাথ সরকারের ছেলে। গত শুক্রবার দুপুরে তাকে পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। হাকিমপুর হিলি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বেনাপোল
পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে
যশোর ৪৯ ও খুলনার ২১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের আওতাধীন বেনাপোল ও শার্শার বিভিন্ন সীমান্ত
দিয়ে চোরাচালান, পুশইন এবং কোরবানির পশুর চামড়া পাচার প্রতিরোধে সীমান্তজুড়ে বিজিবির
টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং
অফিসার লে. কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান ও খুলনা ২১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং
অফিসার লে. কর্নেল নাফিজ ইমতিয়াজ আহসান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। কমান্ডিং অফিসার বলেন,
সীমান্ত দিয়ে যাতে চামড়া ভারতে পাচার হয়ে যেতে না পারে, সেজন্য সতর্ক অবস্থানে রয়েছে
বিজিবি সদস্যরা।
বিএসএফকে ৭২১
হেক্টর জমি দিল শুভেন্দু সরকার : কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করতে বিএসএফকে ৭২১ একর জমি দিয়েছে
শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার। গত বৃহস্পতিবার ভারতের গুজরাটের
গান্ধীনগরে আয়োজিত এক সভায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, শপথ গ্রহণের
সাত দিনের মাথায় বিএসএফকে ৭২১ হেক্টর জমি হস্তান্তর করেছে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকার।
এই ৭২১ হেক্টর জমির মধ্যে ৬০০ হেক্টর জমি বাংলাদেশ-পশ্চিমবঙ্গ বিভিন্ন সীমান্তবর্তী
অঞ্চলের এবং বাকি ১২১ হেক্টর জমি স্পর্শকাতর চিকেন্স নেক এলাকার।
অমিত শাহ বলেন,
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার ডিটেনশন সেন্টার স্থাপন করার পর অবৈধ অনুপ্রবেশকারীরা এখন
নিজস্ব উদ্যোগে তাদের নিজ দেশে ফিরে যেতে শুরু করেছে। যেসব অবৈধ অভিবাসী স্বেচ্ছায়
চলে যেতে চান, তাদের রাজ্য সরকার সহায়তা করতে প্রস্তুত। অভিযান শুরু হওয়ার আগে তারা
যদি ফিরে যান, তবে তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা করা হবে না।
বাংলাদেশ-পশ্চিমবঙ্গ সীমান্তের অধিকাংশ এলাকাজুড়ে কাঁটাতারের বেড়া থাকলেও কিছু কিছু অংশ অরক্ষিত ছিল। অরক্ষিত সেসব অংশে বেড়া নির্মাণের জন্য পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে জমি চেয়েছিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। কিন্তু বিভিন্ন জটিলতার কারণে মমতার আমলে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সেই চাওয়া পূরণ হয়নি।
কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নের আভাস
এদিকে গত শনিবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিতে প্রকাশিত লেখক ও সাংবাদিক জয়ন্ত ঘোষালের বিশ্লেষণ থেকে জানা যায়, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বিজয়ের পর দলটির ভাষায় ‘ডাবল-ইঞ্জিন সরকার’ প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত নিরাপত্তা এখন প্রশাসনের অন্যতম অগ্রাধিকার। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, এবার আর কেবল রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, বরং বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপের মাধ্যমে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হবে। এলোমেলো বা তড়িঘড়ি ‘পুশব্যাক’ অভিযানের পরিবর্তে প্রকৃত অনুপ্রবেশকারীদের সঠিকভাবে শনাক্ত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। সূত্রমতে, অমিত শাহ কর্মকর্তাদের এমন কোনো পদক্ষেপ না নিতে নির্দেশ দিয়েছেন, যা অপ্রয়োজনীয়ভাবে ভারত-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষতি করতে পারে। অতীতে যথাযথ যাচাই-বাছাই বা বাংলাদেশের সঙ্গে সমন্বয় ছাড়া সন্দেহভাজন অনুপ্রবেশকারীদের ফেরত পাঠানোর ঘটনায় ঢাকা তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিল, যা দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছিল। ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ইতোমধ্যে একটি বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা তৈরি করেছে। পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো সন্দেহভাজন অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত করা, প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত করা এবং আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা। ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্তের মোট দৈর্ঘ্য ২ হাজার ২১৬ দশমিক ৭ কিলোমিটার। এর মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৬৪৮ কিলোমিটার এলাকায় বেড়া নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। তবে প্রায় ৫৬৯ কিলোমিটার সীমান্ত এখনও বেড়াবিহীন রয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির নির্বাচনী বিজয়ের পর,
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী
নতুন সরকারের অন্যতম শীর্ষ প্রশাসনিক অগ্রাধিকার হিসেবে সীমান্তে বেড়া নির্মাণকে
রেখেছেন বলে জানা গেছে। সাংবাদিক জয়ন্ত ঘোষাল উল্লেখ করেন, ভারত সরকার
সীমান্তে বেড়া নির্মাণ ত্বরান্বিত করতে বিএসএফের জন্য প্রায় ৬০০ একর জমি হস্তান্তরের
অনুমোদন দিয়েছে। শিলিগুড়ির ফানসিদেওয়ায়
ইতোমধ্যে ২৭ কিলোমিটার সীমান্তজুড়ে বেড়া নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে।
জানা গেছে,
মুখ্য সচিব ও ভূমি বিভাগকে ৪৫
দিনের মধ্যে সমস্ত জমি হস্তান্তর সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভারতের অনেক স্থানীয় বাসিন্দা দাবি করেছেন, বেড়া যেন শূন্যরেখার
কাছাকাছি বা সরাসরি সীমারেখাতেই নির্মাণ করা হয়। তবে বাংলাদেশ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এ
ধরনের উদ্যোগের বিরোধিতা করে আসছে এবং দাবি করছে যে তা পূর্ববর্তী সীমান্ত সমঝোতার
পরিপন্থী। সাম্প্রতিক
দ্বিপক্ষীয় বৈঠকগুলোতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) প্রায় ৯০টি বিতর্কিত স্থানে
নতুন করে যৌথ পরিদর্শনের দাবি জানিয়েছে। একই সময়ে, দুর্গম ভূখণ্ডও বড় চ্যালেঞ্জ
হয়ে রয়েছে। প্রায় ১৭৫ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকা নদী ও জলাভূমি অধ্যুষিত। ইছামতী ও
পদ্মার মতো নদীগুলোতে চর জেগে ওঠা এবং মাটির পরিবর্তনশীলতার কারণে প্রচলিত বেড়া নির্মাণ
প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। এ কারণে ভারত ক্যামেরা, ড্রোন, তাপসংবেদী সেন্সর ও রাডারভিত্তিক
‘স্মার্ট ফেন্সিং’ প্রযুক্তি ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছে। এ ছাড়া ১৯৭৫ সালের ভারত-বাংলাদেশ
সীমান্ত চুক্তির ‘১৫০ গজ নিয়ম’ও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই নিয়মের কারণে অনেক ক্ষেত্রে
আন্তর্জাতিক সীমারেখার কাছাকাছি স্থায়ী কাঠামো নির্মাণ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য
দেখা দেয়। নিরাপত্তা
বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা শুধু নিরাপত্তার বিষয় নয়; এর সঙ্গে কূটনীতি,
অর্থনীতি, অভিবাসন এবং স্থানীয় জনগণের জীবন-জীবিকার প্রশ্নও জড়িত। ফলে পুরো সীমান্তে
বেড়া নির্মাণ ও নিরাপত্তা জোরদারের কাজ শেষ করতে আরও দীর্ঘ সময় লাগতে পারে।
বিশ্বের অন্যান্য দেশেও সীমান্ত
নিয়ন্ত্রণ রাজনৈতিক বক্তৃতার চেয়ে অনেক বেশি জটিল বলে প্রমাণিত হয়েছে। সীমান্ত সুরক্ষা
নিয়ে জয়ন্ত ঘোষাল বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রথম
মেয়াদে মেক্সিকো সীমান্ত পুরোপুরি বন্ধ করার কঠোর প্রতিশ্রুতি দিলেও অবৈধ অভিবাসন
বন্ধ করা যায়নি।
এদিকে বিজেপি মনে করছে, সীমান্ত
নিরাপত্তা দৃশ্যমানভাবে উন্নত করতে পারলে পশ্চিমবঙ্গে তাদের রাজনৈতিক অবস্থান আরও শক্তিশালী
হবে।