মধ্যাঞ্চলীয় অফিস
প্রকাশ : ২৭ মে ২০২৬ ১৯:২২ পিএম
শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান এলাকায় বিজিবি মোতায়েন। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দেশের অন্যতম বৃহৎ ঈদ জামাত। এবারের ১৯৯তম ঈদ জামাতকে ঘিরে প্রশাসন কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। মুসল্লিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে দুই প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে।
শোলাকিয়া ঈদগাহ ও এর আশপাশের এলাকায় বুধবার দুপুর থেকে বিজিবি সদস্যদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। এছাড়াও পুলিশ, র্যাব এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত থাকবেন।
নেত্রকোনা ব্যাটালিয়নের (৩১ বিজিবি) পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তৌহিদুল বারী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, জেলা প্রশাসন ও অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে বিজিবি সদস্যরা ঈদগাহ ময়দান ও আশপাশের এলাকায় একটি সুদৃঢ় নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে দায়িত্ব পালন করবেন। সহকারী পরিচালক মিজানুর রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বে দুই প্লাটুন বিজিবি বর্তমানে শোলাকিয়া ঈদগাহে নিরাপত্তা বিধানে কাজ করছে।
এ বছর শোলাকিয়ায় সকাল ৯টায় ১৯৯তম ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে ইমামতি করবেন মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। লাখো মুসল্লির সমাগকে কেন্দ্র করে জেলা প্রশাসন ইতোমধ্যেই সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।
জেলা প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে, এবারের ঈদ জামাতকে ঘিরে চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পুরো ঈদগাহ মাঠ ও শহরের নিরাপত্তায় প্রায় ৬০০ জন পুলিশ সদস্য, দুই প্লাটুন বিজিবি এবং ৫৫ জন র্যাব সদস্য মোতায়েন থাকবেন। মাঠে ৪টি ওয়াচ টাওয়ার স্থাপন করা হয়েছে এবং পুরো এলাকাকে ৮টি সেক্টরে ভাগ করে দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে। পাশাপাশি, ৯ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে দায়িত্ব পালন করবেন।
নিরাপত্তা জোরদারে পুরো ঈদগাহ মাঠজুড়ে স্থাপন করা হয়েছে ৬৪টি সিসিটিভি ক্যামেরা। শহরের বিভিন্ন প্রবেশপথে বসানো হবে চেকপোস্ট। মুসল্লিদের সুবিধার্থে বিশেষ ট্রেন চলাচলের ব্যবস্থাও করেছে প্রশাসন। ভৈরব থেকে বিশেষ ট্রেন সকাল ৬টায় ছেড়ে কিশোরগঞ্জ পৌঁছাবে সকাল ৮টায়। অন্যদিকে ময়মনসিংহ থেকে সকাল ৫টা ৩০ মিনিটে ছেড়ে ট্রেনটি কিশোরগঞ্জ পৌঁছাবে সকাল ৮টা ১০ মিনিটে। উভয় ট্রেনই ফিরতি যাত্রা শুরু করবে দুপুর ১২টায়।
মুসল্লিদের সুবিধার জন্য মাঠে ৫০টি অস্থায়ী অজুখানা, ২০টি স্থায়ী টয়লেট ও ২০টি ইউরিনালের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া ২ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার দুটি পানির ভ্যান স্থাপন করা হবে। চিকিৎসাসেবার জন্য অ্যাম্বুলেন্স, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রীসহ মেডিক্যাল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
জেলা প্রশাসন আরও জানিয়েছে, নিরাপত্তার স্বার্থে জায়নামাজ ছাড়া অন্য কোনো বস্তু নিয়ে মাঠে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। প্রবেশপথে তল্লাশির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে।
এর আগে ২০১৬ সালের ৭ জুলাই ঈদুল ফিতরের নামাজ চলাকালে শোলাকিয়া ঈদগাহের কাছে পুলিশের একটি নিরাপত্তা চৌকিতে জঙ্গি হামলায় দুই পুলিশ সদস্যসহ চারজন নিহত হন। ওই ঘটনার পর থেকেই শোলাকিয়ার ঈদ জামাতে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
১৮২৮ সালে শোলাকিয়া ঈদগাহে এক লাখ ২৫ হাজার মুসল্লি একসঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করেছিলেন। সেই থেকেই ‘সোয়ালাখিয়া’ নামটি পরবর্তীতে ‘শোলাকিয়া’ নামে পরিচিতি পায়। প্রায় দুই শতাব্দীর ঐতিহ্যবাহী এই ঈদগাহে নামাজ আদায়ে বেশি সওয়াব পাওয়া যায়— এমন বিশ্বাসে প্রতি বছর দেশ-বিদেশের লাখো মুসল্লি এখানে সমবেত হন।