প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৬ মে ২০২৬ ১২:২৮ পিএম
আপডেট : ২৬ মে ২০২৬ ১২:৩৩ পিএম
ফেসবুক পেজে সোমবার বিকাল ৪টায় একটি দীর্ঘ স্ট্যাটাস দিয়ে বিষয়টির ব্যাখ্যা দিয়েছেন রফিকুল ইসলাম মাদানী। কোলাজ: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফের আলোচনায় এসেছেন ইসলামি বক্তা রফিকুল ইসলাম মাদানী। ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে তার খালি কণ্ঠে গাওয়া এক গানের ভিডিও। ভিডিওটি প্রকাশ হওয়ার পর থেকেই শুরু হয়েছে আলোচনা সমালোচন। এবার নিজের ভাইরাল হওয়া গানের ভিডিও নিয়ে মুখ খুলেছেন রফিকুল মাদানী।
নিজের ফেসবুক পেজে সোমবার বিকাল ৪টায় একটি দীর্ঘ স্ট্যাটাস দিয়ে বিষয়টির ব্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি।
তিনি লেখেন, “আমি প্রথম বিয়ে করার পর আজ থেকে আড়াই বছর আগে সিলেটের একটি রিসোর্টে বসে আমার স্ত্রীকে একটা সংগীত শোনাচ্ছিলাম। তখন সিলেটের এক বেইমান, সাকালাইন শাফি পিছন থেকে ভিডিও করে ফেলে। আমি যখন বিষয়টি দেখে ফেলি, তখন সে বলে, ‘ভাই, এই ভিডিও আমি কখনোই ছাড়ব না’”।
সেই সাকালাইন শাফির কাছে আরও ভিডিও আছে উল্লেখ করে মাদানী লেখেন, “আরেকটা ভিডিও তার কাছে ছিল যেটা এক জায়গায় নৌকা দিয়ে ঘুরতে গিয়ে মজা করছিলাম, সেটাও সে ভিডিও করে ফেলে এবং আমি যখন বলি ভাই ভিডিও ডিলিট করুন, তখন সে কসম খায়, বলে ভাই আমি কখনও ভিডিও কোথাও প্রচার করব না”।
তবে সেই ব্যক্তি কথা রাখেনি দাবি করে তিনি লেখেন, “কিন্তু একটা কথাও সে রাখেনি, সেই বেইমানির প্রতি কষ্ট পেয়ে বিগত দুই বছর ধরে সিলেটের কোনো জেলায় প্রোগ্রামে যাই না। অনেক বন্ধু মুহিব্বিন ফোন করে দাওয়াত দেয়, সবাইকে না করে দিই, কিন্তু কাউকে বিষয়টা কখনও খুলে বলিনি”।
অতীতের সেই বিষয়টি আবারও প্রকাশে আনা হচ্ছে দাবি করে তিনি বলেন, “এখন সেই বিষয়টি নিয়েই আওয়ামী লীগের লোকেরা নতুন করে মজা নিচ্ছে। সাথে কিছু স্বজাতীয় গাদ্দার হিংসুকগুলোও নিচ্ছে, নিতে থাক। পাগলের সুখ মনে মনে—কাগজ উড়ায়, টাকা গোনে”।

আওয়ামী লীগ সরকার তাকে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করছিলো জানিয়ে তিনি লেখেন, “তারা মনে করে আমাকে ট্রল করলে কিংবা মানুষের সামনে ছোট করলে আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়ব, খুব আবেগপ্রবণ হয়ে যাব, তারপর হয়তো আওয়ামী লীগ নিয়ে কিংবা যে কোন দলের দালালি নিয়ে কথা বলা বন্ধ করে দেব। অথচ হাসিনা আমাকে দীর্ঘদিন বন্দি রেখেছিল, রিমান্ডে নির্যাতন করেছিল, কাপড় খুলে মেয়ে দিয়ে ভিডিও করে ব্ল্যাকমেইল করারও চেষ্টা করেছিল, যাতে আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়ি”।
“কিন্তু এরা ব্যর্থ। আমি থেমে যাইনি, ভয় পাইনি, ভেঙে পড়িনি। অতএব আওয়ামী লীগ ও তার সাঙ্গপাঙ্গলীগকে একটা পরামর্শ দিচ্ছি— আমাকে নিয়ে পড়ে না থেকে নিজেদের ভবিষ্যৎ ও কীভাবে হাসিনাকে ফিরিয়ে আনা যায়, সেটা নিয়ে চিন্তা করেন,”- যোগ করেন তিনি।
সবশেষ তিনি লেখেন, “আমি আমার আদর্শ ও বিশ্বাস নিয়ে সামনে এগিয়ে যাব। মানুষের কল্যাণ, ন্যায়বিচার ও সত্যের পক্ষে কথা বলাই আমার লক্ষ্য। আমাকে থামানোর চিন্তা বাদ দিন। আমি এই উম্মাহকে অন্তরের অন্তস্তল থেকে ভালোবাসি। আমি অন্যায় ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে কথা বলতে বিশ্বাস করি। আমার মানসিক দৃঢ়তা কতটুকু, সেটা আমার বিরোধীরাও জানে। আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ—সবাই ভালো হয়ে যান!”