ঈদের ছুটিতে ঢাকা ছাড়ছেন ঘরমুখো মানুষ। শনিবার কমলাপুর রেল স্টেশন থেকে তোলা। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
ঘরমুখো যাত্রায় তুলনামূলক স্বস্তিতে রাজধানী ছাড়ছেন মানুষ। ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে বাস, ট্রেন ও ব্যক্তিগত যানবাহনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছুটছেন নগরবাসী। সরকারি ছুটির আগের শেষ কর্মদিবস শেষে গতকাল রাজধানীর বাস ও রেলস্টেশনগুলোতে যাত্রী উপস্থিতি বাড়লেও বড় ধরনের ভোগান্তির চিত্র দেখা যায়নি।
আরও পড়ুন: ঈদযাত্রায় স্বস্তি, আছে শঙ্কাও |
সকালে কমলাপুর রেলস্টেশন ঘুরে অতিরিক্ত ভিড় দেখা যায়নি। বেলা ১১টা পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে ১৪টি ট্রেন নির্ধারিত সময়ে ছেড়ে গেলেও সিলেটগামী পারাবত এক্সপ্রেস, চিলাহাটিগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস ও লালমনিরহাটগামী বুড়িমারী এক্সপ্রেস বিলম্বে ছেড়ে যায়। বুড়িমারী এক্সপ্রেস সকাল সাড়ে ৮টায় ছাড়ার কথা থাকলেও প্রায় তিন ঘণ্টা দেরিতে যাত্রা শুরু করে।
কমলাপুর স্টেশন পরিদর্শনে এসে সড়ক পরিবহন, রেলপথ ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, এবার ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে সরকার নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। তিনি জানান, ঈদ উপলক্ষে রেলে নতুন ৫১টি কোচ ও ১০টি বিশেষ ট্রেন যুক্ত করা হয়েছে। প্রতিদিন ৪০ হাজারের বেশি যাত্রী রেলপথে যাতায়াত করতে পারবেন বলেও জানান তিনি।
স্টেশনে নারী ও শিশু যাত্রীর উপস্থিতি ছিল বেশি। যাত্রীরা জানান, আগের বছরের তুলনায় ভিড় কম এবং যাত্রা অনেকটা স্বস্তিদায়ক। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী মিশরী বলেন, আরও বেশি ভিড় হবে ভেবেছিলাম, কিন্তু পরিস্থিতি স্বাভাবিক। গৃহবধূ নাজনীন জানান, স্টেশনে তেমন ভিড় নেই, ভালোভাবেই যেতে পারছি।
এদিকে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালেও ঘরমুখো মানুষের চাপ থাকলেও যাত্রা ছিল অনেকটাই নির্বিঘ্ন। ফেনীগামী যাত্রী মাসুম আহম্মেদ বলেন, প্রায় এক বছর পর পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে যাচ্ছি, পরিবেশও স্বস্তিদায়ক। তবে মহাখালী বাস টার্মিনালে যাত্রীর তুলনায় বাস কম থাকায় কিছুটা ভোগান্তি দেখা যায়। অনেক যাত্রীকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে।
সড়কে যানজট নিয়ন্ত্রণে বিআরটিএর পক্ষ থেকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ৬০টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। এ ছাড়া ঈদের আগে সড়কে চাপ কমাতে ২৫ থেকে ২৭ মে ধাপে ধাপে পোশাক কারখানায় ছুটি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
অপর এক খবরে প্রকাশ, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, বিআরটি একটি ত্রুটিযুক্ত প্রকল্প এবং বাস চলাচল বান্ধব ছিল না। এই প্রকল্পে আরও ৫০০-৬০০ কোটি টাকা ব্যয় করলে সুফল পাওয়া যাবে। গতকাল রোববার বিকালে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার খাড়াজোড়া এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ গণসচেতনতামূলক সভায় এসব বলেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, এই প্রকল্পটি ভেঙে অপসারণ করতে হবে। একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি করা হয়েছে, পর্যালোচনা চলছে, ঈদের পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।