প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৪ মে ২০২৬ ২১:৫৩ পিএম
আপডেট : ২৫ মে ২০২৬ ১১:৩৫ এএম
ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. জোবায়দুর রহমান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ওমর ফারুক খাঁন। কোলাজ: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. জোবায়দুর রহমান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ওমর ফারুক খাঁন পদত্যাগ করেছেন।
তারা রবিবার কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পদত্যাগ করেন। এর মধ্যে এমডিকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছে এবং চেয়ারম্যান স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন বলে জানা গেছে।
এদিন ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত সেই সভা হয়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, রবিবার দুপুরের আগেই ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ওমর ফারুক খাঁন ব্যাংকে যান। তাকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হবে এমন একটা গুঞ্জন আগে থেকেই ছিল। এ কারণে ব্যাংকটির একদল কর্মকর্তা ঢাকার দিলকুশায় ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করে। শেষ পর্যন্ত চেয়ারম্যান বরাবর পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে যান ওমর ফারুক খাঁন। পরে চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম জুবায়দুর রহমানও পদত্যাগ করেছেন বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে। গত বছরের ২৩ জুলাই তাকে চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়।
ওমর ফারুক খাঁন জানান, চেয়ারম্যানের অব্যাহত চাপের মুখে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে এসেছেন। এটি ব্যাংকের পর্ষদে ওঠার কথা। কিন্তু পর্ষদের সভা না হওয়ায় এবং চেয়ারম্যান পদত্যাগ করায় আবেদনের বিষয়টি অনুমোদন হয়নি।
ইসলামী ব্যাংকে হস্তক্ষেপের প্রতিবাদ জানিয়ে রবিবার সকালে ঢাকার মতিঝিলে মানববন্ধন করেছে ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরাম। সকাল সাড়ে ১০টায় ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি শুরু হয়। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার নিয়ে ব্যাংকের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এ সময় তারা ব্যাংক পরিচালনা ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক প্রভাব ও অনিয়ম বন্ধের দাবি জানান।
গত ১২ এপ্রিল ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. ওমর ফারুক খাঁনকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়। ওইদিন ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম জুবায়দুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পর্ষদ সভায় এমডিকে ছুটিতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়। পরে ওমর ফারুক খাঁনের অনুপস্থিতিতে ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এএমডি) মো. আলতাফ হোসেনকে ভারপ্রাপ্ত এমডি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তখন জানানো হয় ওমর ফারুক খাঁন ৩১ মে পর্যন্ত ছুটি নিয়েছেন।
তবে ২৫ মে থেকে কোরবানির ঈদের ছুটি শুরু হওয়ায় রবিবার ২৪ মে শেষ কর্মদিবস হিসেবে ব্যাংকে আসেন ওমর ফারুক খাঁন। অব্যাহত চাপের মুখে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি।