সরকারের বিপুল রাজস্ব ফাঁকি
কার্পেট। ফাইল ছবি
চীন, তুরস্ক, ভারত ও বেলজিয়ামসহ বিভিন্ন দেশ থেকে কার্পেট আমদানিতে ভয়াবহ জালিয়াতি ও প্রতারণার আশ্রয় নিচ্ছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। দামি কার্পেট আমদানির ক্ষেত্রে এইচএস কোড পরিবর্তন ও প্রকৃত দাম কম দেখিয়ে সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে তারা। সম্প্রতি এই চক্রের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা কার্যক্রম শুরু করেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর এবং ভ্যাট গোয়েন্দারা।
গোয়েন্দা অনুসন্ধানে দেখা যায়, কম শুল্কের সাধারণ কার্পেট বা ম্যাটের এইচএস কোড ব্যবহার করে আনা হচ্ছে অত্যন্ত দামি কার্পেট। আবার অনেক ক্ষেত্রে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে অন্য পণ্যের আড়ালে কার্পেট এনে শুল্ক ফাঁকি দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া আন্ডার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে কার্পেটের প্রকৃত মূল্য গোপন করে ভুয়া ইনভয়েস তৈরি করে পণ্য খালাস ও বাজারজাত করা হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আমদানি করা কার্পেটের প্রকৃত আয়তন (বর্গফুট) এবং ওজন কম দেখিয়েও শুল্ক ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানিয়েছে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর ইতোমধ্যে আমদানি করা বিভিন্ন চালানের নথি অডিট (নিরীক্ষা) শুরু করেছে। জালিয়াতি রোধে এনবিআর ডিজিটাল ডাটাবেজ যাচাইয়ের পাশাপাশি এক্স-রে স্ক্যানার ব্যবহার করে কড়াকড়ি আরোপ করেছে।
এই চক্রের সঙ্গে কারা জড়িত জানতে চাইলে শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা সরাসরি নাম প্রকাশ করতে না চাইলেও জানিয়েছেন, ঢাকার নিউ এলিফ্যান্ট রোড, পুরানা পল্টন ও পুরান ঢাকার বেশ কিছু বড় পাইকারি প্রতিষ্ঠান এই জালিয়াতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।
একাধিক বিশ্বস্ত সূত্রের তথ্যমতে, ঢাকার নিউ এফএম কার্পেট, এবিসি কার্পেট হাউস, মিশু কার্পেট লিমিটেড, মিঠু কার্পেটস, কন্টিনেন্টাল কার্পেটস এবং রূপসী কার্পেট হাউসসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জালিয়াতির প্রাথমিক তথ্য পেয়েছেন শুল্ক ও ভ্যাট গোয়েন্দারা। এই প্রতিষ্ঠানগুলো বেলজিয়াম, তুরস্ক, চীন ও ভারত থেকে কার্পেট আমদানি করে দেশে ডিস্ট্রিবিউশন করছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানগুলো গোয়েন্দা নজরদারিতে রয়েছে।
এ বিষয়ে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা জানান, কার্পেটসহ যেকোনো পণ্যের শুল্ক ফাঁকি রোধে তারা জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছেন। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অডিট কার্যক্রম চলছে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।