× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

আরইবিতে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ ঘিরে বিতর্ক

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২৩ মে ২০২৬ ২৩:১৩ পিএম

বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের লোগো। ফাইল ছবি

বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের লোগো। ফাইল ছবি

বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) সদস্য (বিতরণ ও পরিচালন) মো. আব্দুর রহিম মল্লিকের অবসরের ঠিক আগমুহূর্তে তাকে পুনরায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়ার উদ্যোগ ঘিরে তীব্র ক্ষোভ ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিগত সরকারের আমলে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম, সিন্ডিকেট গঠন এবং উচ্চমূল্যে মালামাল ক্রয়ের অভিযোগ তুলেছেন প্রতিষ্ঠানেরই একদল প্রকৌশলী। তারা এই নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিলসহ দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব ও উপদেষ্টার কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন।

আরইবি সূত্র জানায়, মো. আব্দুর রহিম মল্লিক আগামী ৩১ মে অবসরে যাচ্ছেন। তবে প্রভাবশালী একটি মহলের মাধ্যমে তাকে পুনরায় একই পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়ার জন্য বিদ্যুৎ বিভাগে জোর তদবির চলছে। অভিযোগ উঠেছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক থাকাকালীন তিনি একটি বিশেষ ঠিকাদার সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন এবং তাদের মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকার কেনাকাটা সম্পন্ন করেন।

বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মিরানা মাহরুখ এ বিষয়ে বলেন, “আমি নতুন দায়িত্ব নিয়েছি। এখনো আরইবির কর্মকর্তাদের সঙ্গে পুরোপুরি পরিচিত হওয়ার সুযোগ হয়নি। তবে বিগত সরকারের আমলে যারা অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তাদের বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না”।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরইবির অন্তত ১০ জন প্রকৌশলী বলেন, ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় রহিম মল্লিকের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অনিয়মের অভিযোগ ছিল। তাদের ভাষ্য, প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে সীমিত প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র, অতিমূল্যে পণ্য ক্রয় এবং নির্দিষ্ট ঠিকাদার গোষ্ঠীকে সুবিধা দেওয়ার সংস্কৃতি চালু হয়েছিল। এসব বিষয়ে স্বাধীন তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বিডিপি-২ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক থাকাকালে মো. আব্দুর রহিম মল্লিক বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিশেষ সম্পর্ক গড়ে তোলেন। তার সময়ে এসপিসি পোলসহ বিভিন্ন মালামাল ক্রয়ের দরপত্র একটি নির্দিষ্ট সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। পরে ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে দায়িত্ব পালনকালে সেই সিন্ডিকেট আরও শক্তিশালী হয়। বিদ্যুতের পোল ক্রয়সহ বিভিন্ন দরপত্রে চুক্তিমূল্যের একটি নির্দিষ্ট অংশ কমিশন হিসেবে নেওয়া হতো। পাশাপাশি চিফ ইঞ্জিনিয়ার (প্রজেক্ট) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি অযোগ্য কিছু লাইন ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। 

এসব ঠিকাদারের সঙ্গে তার আর্থিক সমঝোতা ছিল বলে দাবি অভিযোগকারীদের। এতে বিভিন্ন প্রকল্পে নিম্নমানের কাজ, মালামাল চুরি ও অনিয়মের ঘটনা ঘটলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সাবস্টেশন নির্মাণ প্রকল্প নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন প্রকৌশলীরা। তাদের অভিযোগ, আরইবির অধীনে প্রায় ২০০টির মতো সাবস্টেশন স্থাপনের ক্ষেত্রে এমন যোগ্যতা শর্ত আরোপ করা হয়েছিল, যাতে মাত্র কয়েকটি নির্দিষ্ট কোম্পানি দরপত্রে অংশ নিতে পারে। ফলে বিশ্বব্যাংক, জাইকা ও এডিবির অর্থায়নে বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলোতে ব্যাপক আর্থিক অপচয় হয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে প্রায় দ্বিগুণ মূল্যে সরঞ্জাম কেনা হয়েছে। প্রিপেইড মিটার ক্রয়ের ক্ষেত্রেও গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়েছে। 

অভিযোগ অনুযায়ী, মাত্র দুটি প্রতিষ্ঠানকে অংশগ্রহণের সুযোগ দিয়ে বাজারদরের চেয়ে দুই থেকে তিন গুণ বেশি দামে মিটার কেনা হয়। বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে বর্তমান সরকার প্রিপেইড মিটার ক্রয় কার্যক্রম পুনর্বিবেচনায় যেতে বাধ্য হয় বলে দাবি অভিযোগকারীদের।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মো. আব্দুর রহিম মল্লিক। তিনি বলেন, “আমি আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিভিন্ন প্রকল্পে দায়িত্ব পালন করেছি, কিন্তু তারপরও আমাকে দুই বছর পদোন্নতি দেওয়া হয়নি। আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলো সত্য নয়”।

আরইবির ভেতরে ও বাইরে এখন প্রশ্ন উঠেছে—অভিযোগের নিষ্পত্তি হওয়ার আগেই একজন বিতর্কিত কর্মকর্তাকে পুনরায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া কতটা যৌক্তিক হবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, বিদ্যুৎ খাতের বড় প্রকল্পগুলোর স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হলে অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা জরুরি। একই সঙ্গে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের আগে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার অতীত কর্মকাণ্ডও গুরুত্বের সঙ্গে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা