প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৩ মে ২০২৬ ১৩:২২ পিএম
আপডেট : ২৩ মে ২০২৬ ১৩:৩০ পিএম
পোপ চতুর্দশ লিওর কাছে পরিচয়পত্র পেশ করেন হলি সিতে সমবর্তী দায়িত্বে নিয়োজিত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত নাহিদা সোবহান। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
ক্যাথলিক খ্রিষ্টানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় গুরু পোপ চতুর্দশ লিওর কাছে পরিচয়পত্র পেশ করেছেন হলি সিতে সমবর্তী দায়িত্বে নিয়োজিত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত নাহিদা সোবহান।
ভ্যাটিকান সিটির সেক্রেটারিয়েট অব স্টেটের অ্যাপোস্টলিক প্যালেসে বৃহস্পতিবার আয়োজিত এক গাম্ভীর্যপূর্ণ অনুষ্ঠানে পরিচয়পত্র পেশ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানটি হলি সি কর্তৃক যথাযথ রাষ্ট্রীয় ও কূটনৈতিক রাষ্ট্রাচার অনুসরণ করে অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত নাহিদা সোবহানের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন, ইকোনমিক মিনিস্টার এম. জহিরুল কাইয়ুম, এবং মিশনের কাউন্সিলর সবুজ আহমেদ।
পরিচয়পত্র পেশের পর পোপ চতুর্দশ লিও এবং রাষ্ট্রদূত ও তার প্রতিনিধিদলের মধ্যে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।
পরিচয়পত্র পেশ করার আগে সেক্রেটারি অব স্টেট কার্ডিনাল পিয়েত্রো পারোলিন; সাবস্টিটিউট অব দ্য সেক্রেটারিয়েট অব স্টেট আর্চবিশপ পাওলো রুদেল্লি; সেক্রেটারি ফর রিলেশনস উইথ স্টেটস অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশনস আর্চবিশপ পল রিচার্ড গ্যালাঘার; এবং হলি সি-এর রাষ্ট্রাচার প্রধান জাভিয়ের ফার্নান্দেজের সঙ্গে বৈঠক করেন রাষ্ট্রদূত।
বৈঠকগুলোতে রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশ ও হলি সিয়ের মধ্যকার সম্পর্কের প্রতি বাংলাদেশের গভীর গুরুত্বারোপের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি ২০১৭ সালে পোপ ফ্রান্সিস এবং ১৯৮৬ সালে পোপ জন পল দ্বিতীয়ের বাংলাদেশ সফরের কথা স্মরণ করেন এবং উভয় সফরকে বাংলাদেশ ও হলি সি-এর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেন।
নাহিদা সোবহান সকল ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অবিচল অঙ্গীকারের বিষয়টিও তুলে ধরেন। তিনি বৈশ্বিক শান্তি, জলবায়ু পরিবর্তন রোধ ও মানবিক কার্যক্রমে, বিশেষ করে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের প্রতি হলি সিয়ের অব্যাহত সমর্থনের প্রশংসা করেন এবং বিশ্বব্যাপী শান্তি, ন্যায়বিচার, অভিবাসী ও অসহায় জনগোষ্ঠীর প্রতি মানবিক আচরণ নিশ্চিতকরণে তাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
দ্বিপাক্ষিক বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশ ও হলি সিয়ের মধ্যকার সম্পৃক্ততা, নিয়মিত সফর ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে আরও জোরদার হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন হলি সিয়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। তারা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রতি বাংলাদেশের মানবিক সহায়তারও প্রশংসা করেন।
সফরকালে অনুষ্ঠিত ধারাবাহিক বৈঠকগুলো বাংলাদেশ ও হলি সিয়ের মধ্যকার পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সদিচ্ছা এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার অভিন্ন অঙ্গীকারের প্রতিফলন ঘটিয়েছে।