বিদ্যুতের দাম নিয়ে শুনানি
খুচরা পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম গড়ে ১ টাকা ২৫ পয়সা বাড়ানোর সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি (টিইসি)। প্রতীকী ছবি
খুচরা পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম গড়ে ১ টাকা ২৫ পয়সা বাড়ানোর সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি (টিইসি)।
ঢাকার কেআইবি মিলনায়তনে বৃহস্পতিবার বিইআরসির দ্বিতীয় দিনের গণশুনানিতে এই প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়।
তবে গণশুনানিতে ভোক্তার ওপর নতুন চাপ না দিয়ে ব্যয় কমানোর পথ খোঁজার দাবি তুলেছেন অংশীজনরা। বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদের সভাপতিত্বে শুনানিতে পিডিবি, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড, ডিপিডিসি, ডেসকো, ওজোপাডিকো ও নেসকোর প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়।
কারিগরি মূল্যায়ন কমিটির উপস্থাপনায় বলা হয়, ছয় বিতরণ সংস্থা ও কোম্পানি প্রতি ইউনিটে বিতরণ ব্যয় ৮৫ পয়সা থেকে ২ টাকা ৫ পয়সা ধরে খুচরা ট্যারিফ পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে। পিডিবি প্রতি ইউনিটে বিতরণ ব্যয় ধরেছে ৮৫ পয়সা, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড ১ টাকা ৭৭ পয়সা, ডিপিডিসি ১ টাকা ৫৪ পয়সা, ডেসকো ১ টাকা ৯৮ পয়সা, ওজোপাডিকো ১ টাকা ৩৯ পয়সা এবং নেসকো ২ টাকা ৫ পয়সা।
তবে মূল্যায়ন কমিটি বলছে, ছয় সংস্থার ভারিত গড়ে নিট বিতরণ ব্যয় দাঁড়ায় প্রতি ইউনিটে ১ টাকা ২৫ পয়সা। এ ছাড়া কমিটির হিসাবে পিডিবির নিট বিতরণ ব্যয় ৭৫ পয়সা, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের ১ টাকা ৩৯ পয়সা, ডিপিডিসির ১ টাকা ১৮ পয়সা, ডেসকোর ১ টাকা ১৬ পয়সা, ওজোপাডিকোর ১ টাকা ৩৩ পয়সা এবং নেসকোর ১ টাকা ৪৩ পয়সা।
কমিটির প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৯৫ হাজার ৬১২ মিলিয়ন কিলোওয়াট ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এই পরিমাণ বিদ্যুৎ সরবরাহের বিপরীতে বিতরণ সংস্থাগুলোর মোট ১ লাখ ১৯ হাজার ২৮৫ কোটি টাকা নিট রাজস্ব প্রয়োজন হবে বলে হিসাব করা হয়েছে। টিইসি পর্যালোচনা অনুযায়ী, দেশের সামগ্রিক বিদ্যুৎ বিতরণ সিস্টেম লস বা বিতরণ লোকসান ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ৭.৩৮ শতাংশ থেকে সামান্য কমে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৭.৩৭ শতাংশে দাঁড়াতে পারে।
গ্রাহক পর্যায়ের ট্যারিফ কাঠামো নিয়ে টিইসি জানিয়েছে, লাইফলাইন গ্রাহকদের (০-৫০ ইউনিট) পরবর্তী ধাপগুলোর বিদ্যমান ‘স্ল্যাব’ বা বিদ্যুৎ ব্যবহারের স্তরে কোনো পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। বর্তমানে যেভাবে বিভিন্ন ধাপে বিদ্যুতের দাম হিসাব করা হয়, তা অপরিবর্তিত থাকবে। কমিটির সদস্যরা জানান, বিদ্যুতের বর্তমান স্ল্যাব কাঠামোতে কোনো অতিরিক্ত বোঝা চাপানো হবে না। এর আগে ০-৭৫ ইউনিটের প্রথম স্ল্যাবটি বাতিল করে তার পরিবর্তে ০-২০০ ইউনিটের একটি নতুন স্ল্যাব করার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছিল।
তবে কারিগরি কমিটি মনে করে, হঠাৎ স্ল্যাব পরিবর্তন করলে প্রান্তিক পর্যায়ের সাধারণ গ্রাহকরা বিপাকে পড়বেন। ফলে সাধারণ গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় বিদ্যমান স্ল্যাব কাঠামোই বহাল রাখার সুপারিশ করেছে কমিটি।
গণশুনানিতে সিপিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর বদলে কীভাবে কমানো যায়, সে বিষয়ে গণশুনানি হওয়া দরকার।
তিনি বলেন, দরিদ্র গ্রাহকদের জন্য শূন্য থেকে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিনামূল্যে দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে বিইআরসির সরকারকে প্রস্তাব দেওয়া উচিত। স্ল্যাব পরিবর্তনের প্রস্তাবের সমালোচনা করে প্রিন্স বলেন, লাইফলাইন গ্রাহকের নামে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তের পকেট কাটার নতুন ব্যবস্থা করা হচ্ছে, এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোশাহিদা সুলতানা বলেন, দাম বাড়ানোর যুক্তি উপস্থাপনের পাশাপাশি বিদ্যুতের দাম কীভাবে কমানো যায়, সেই পরিকল্পনাও থাকা উচিত। তিনি বলেন, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে বলতে হবে, তারা কীভাবে বিদ্যুতের দাম কমাতে পারে।