প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২১ মে ২০২৬ ২০:১৮ পিএম
বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড লোগো। ফাইল ছবি
সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত ও নিরাপদ রাখতে সক্রিয় ডাকাত দলগুলোকে দ্রুত আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। সুন্দরবনের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোস্ট গার্ড সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও কঠোর অবস্থানে থেকে দায়িত্ব পালন করছে।
কোস্ট গার্ড সদর দপ্তরের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বৃহস্পতিবার এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের দিক-নির্দেশনায় সুন্দরবন অঞ্চলে সক্রিয় সব বনদস্যু বাহিনী নির্মূল এবং উপকূলীয় অঞ্চলের সাধারণ জেলে, বাওয়ালি, মৌওয়ালি ও বনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ এবং ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
এ অভিযানের প্রেক্ষিতে চলতি বছর গত ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে অদ্যাবধি ২৬টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, ১০ রাউন্ড তাজা গোলা, ১৭৮ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ২৫ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ১৮৭ রাউন্ড এয়ারগান গোলা ও দুটি ওয়াকিটকি উদ্ধার এবং ২১ জন বনদস্যুকে আটক করা হয়।
এ সময় দস্যুদের হাতে জিম্মি থাকা মোট ২০ জনকে জীবিত উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা প্রদান শেষে নিরাপদে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
কোস্ট গার্ডের ধারাবাহিক ও সফল অভিযানের ফলে সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত ছোট সুমন বাহিনীর প্রধান সুমন হাওলাদার ও তার সহযোগীরা কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নেয়।
লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, গত ১৭ মে বাগেরহাটের মোংলা থানাধীন সুন্দরবনের নন্দবালা খাল সংলগ্ন এলাকায় কোস্ট গার্ডের কাছে ছোট সুমন বাহিনীর প্রধান সুমন হাওলাদার ও তার সহযোগীসহ মোট সাতজন অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করে।
এ সময় তাদের কাছ থেকে ৩টি দেশীয় একনলা বন্দুক, ২টি দেশীয় পাইপগান, ২৫ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ৩ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ গ্রহণ করা হয়।
আত্মসমর্পণকারী ডাকাত সুমন হাওলাদার (৩২), রবিউল মল্লিক (২৫), রফিক শেখ (২৯), সিদ্দিক হাওলাদার (৪০), গোলাম মল্লিক (৩৮), ইসমাইল খান (৩১) বাগেরহাট জেলার মোংলা থানার এবং মাহফুজ মল্লিক (৩৪) বাগেরহাট জেলার রামপাল থানার বাসিন্দা।
তারা দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে ডাকাতিসহ সাধারণ জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করে আসছিল।
জব্দকৃত অস্ত্র, গোলাবারুদ ও আত্মসমর্পণকারী ডাকাতদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থাসহ পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন।