প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২১ মে ২০২৬ ১৯:৫১ পিএম
আপডেট : ২১ মে ২০২৬ ২০:৩৮ পিএম
রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন প্রকল্পের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার ঢাকার বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলে আম রপ্তানির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কথা বলেন কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
আমসহ কৃষিপণ্য রপ্তানির সব বাধা দূর করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।
রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন প্রকল্পের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার ঢাকার বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলে আম রপ্তানির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আব্দুর রহিম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষিমন্ত্রী বলেন, আমি নিজেও একজন উৎপাদক ও রপ্তানিকারক। আমাদের উৎপাদকদের পণ্য রপ্তানি করতে পায়ের কয়েক জোড়া জুতার তলা ক্ষয়ে গেলেও এই সাহেব থেকে ওই সাহেবের দপ্তরের ঘুরাঘুরি শেষ হয় না। এ ধরনের কার্যক্রমের ফলে কৃষিপণ্য রপ্তানিকারকদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। তা ছাড়া নানা ধরনের নীতিমালাও এক ধরনের প্রতিবন্ধকতা। বিমানের ভাড়া বৃদ্ধি, ফেয়ার স্পেস নেই। এ সব বাধার জন্য পণ্য রপ্তানিতে পিছিয়ে পড়ছি। অচিরেই সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে সব ধরনের বাধা দূর করা হবে।
মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, এ দেশ কৃষি উৎপাদনে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ স্থান। অথচ আইনকানুন, রাজনৈতিক প্রতিবন্ধকতার কারণে আমরা সফল উৎপাদক হতে পারছি না। আমাদের বর্তমান সরকারের মূল উদ্দেশ্য হলো কৃষিকে ঘিরে। সরকার প্রথম পদক্ষেপই নিয়েছে কৃষকের ১০ হাজার টাকার ঋণ মওকুফ এবং কৃষি কার্ড চালুর মাধ্যমে।
তিনি বলেন, কৃষিপণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে প্রতিটি দেশই প্রচুর প্রণোদনা দেয়। সেটি কেউ স্বীকার করে, আবার কেউ করে না।
চীনকে কাঁঠাল আমদানির আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম। তারা তিনদিন আগে চিঠি দিয়ে আমদানি করতে রাজি হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, আমের জিন ঠিক রেখে রঙের উৎপাদন বাড়াতে হবে। এখন শুধু আমাদের প্রবাসীদের লক্ষ্য করে আম রপ্তানি করা হচ্ছে। এটি সে দেশের মানুষকে লক্ষ্য করে করতে হবে।
বিমানের ভাড়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অচিরেই ভাড়া কমানোর ব্যবস্থা করব। বিমানের কার্গোর ভাড়া অন্যান্য দেশের তুলনায় বেশি। আগামীতে বেশ কয়েকটি বিমান কেনা হবে। তখন কার্গো সমস্যা সমাধানে হাত দেওয়া হবে। বিমান মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বসে ভাড়া কমানোর ব্যবস্থা নেব।
কীটনাশকের ব্যবহার নিয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের কীটনাশকের নীতি বদলাতে হবে। কেননা দেশ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিরাপদ খাদ্যে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তাই নিয়ম মেনে কীটনাশক ব্যবহার করতে হবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, রপ্তানিতে আম হবে অন্যতম রপ্তানিপণ্য।
অনুষ্ঠানে কৃষিসচিব ড. রফিকুল ই মোহামেদ, অতিরিক্ত সচিব মো. সেলিম খান, নাটোরের আম চাষি ও ফার্মিএগ্রোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক রফিকুল ইসলাম,
বাংলাদেশ ফ্রুটস ভেজিটেবল অ্যালাইড প্রোডাকশন এক্সপোর্টার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মনসুর, বাংলাদেশ ফ্রুটস ভেজিটেবল অ্যালাইড প্রোডাক্টশন এক্সপোর্টার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোবাশ্বেরুর রহমান,
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের মার্কেটিং ও সেলসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মুস্তাফিজুর রহমান, বিএআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক গোলাম হাফিজসহ অনেকে বক্তব্য রাখেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন প্রকল্পের পরিচালক মোহাম্মদ আরিফুর রহমান।
গ্যাপ মেনে আম উৎপাদন করায় রাজশাহীর মো. আল আমিন, মো. রফিকুল ইসলাম, খাগড়াছড়ির মংশিতুং মারমাসহ তিনজন কৃষককে এবং আম রপ্তানিতে অবদান রাখায় গ্লোবাল ট্রেড লিংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুলতানা রাজিয়াকে সার্টিফিকেট দেওয়া হয়।