প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২০ মে ২০২৬ ২০:০৮ পিএম
আপডেট : ২০ মে ২০২৬ ২০:০৮ পিএম
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে বুধবার বৈঠক করেছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি) এর একটি প্রতিনিধিদল। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
আসন্ন জাতীয় বাজেটকে সামনে রেখে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতকে শক্তিশালী করতে প্রয়োজনীয় রাজস্ব, নিয়ন্ত্রণমূলক ও কাঠামোগত পদক্ষেপ নিয়ে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি)।
বিএবি একটি প্রতিনিধি দল বুধবার অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে এ বৈঠক করে।
বৈঠকে বিএবি নেতৃবৃন্দ ব্যাংকিং শিল্পের বর্তমান গুরুতর সংকটগুলো তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে ক্রমবর্ধমান খেলাপি ঋণ (এনপিএল), মূলধন পর্যাপ্ততায় চাপ, বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির দুর্বলতা এবং শাসন ব্যর্থতা, দীর্ঘস্থায়ী আইনি পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে জনআস্থা হ্রাস।
বিএবি অর্থমন্ত্রীকে জানিয়েছে, ব্যাংকিং শিল্পের সামগ্রিক মূলধন পর্যাপ্ততা অনুপাত (সিএআর) প্রায় তিন শতাংশে নেমে এসেছে, যা খাতজুড়ে উল্লেখযোগ্য চাপ তৈরি করেছে এবং শিল্প প্রবৃদ্ধি, এসএমই সীমিত করেছে।
বিএবি জোর দিয়ে বলে, ব্যাংকিং খাতের অর্থবহ পুনঃমূলধন নিশ্চিত করতে শক্তিশালী পুনরুদ্ধার ব্যবস্থা এবং যেসব মালিক ও গোষ্ঠী ব্যাংক থেকে অর্থ লুট করেছে এবং আর্থিক ব্যবস্থায় শেয়ার ও সম্পদ ধরে রেখেছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
দ্রুত আইনি পুনরুদ্ধার, অবৈধভাবে অর্জিত শেয়ার ও সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা এবং ব্যাংকিং খাতে আস্থা পুনরুদ্ধার ও আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় উন্নত প্রয়োগমূলক ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরে বিএবি।
বৈঠবে প্রস্তাবিত ব্যাংকিং রেজ্যুলেশন কাঠামোর ধারা ১৮কে এর কিছু বিধান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সমিতি। পাশাপাশি তারা জানিয়েছে, বিতর্কিত সাবেক স্পনসর বা বড় ঋণখেলাপিদের ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ফিরে আসার কোনো সুযোগ রাখা হলে তা আমানতকারীদের আস্থা, বিনিয়োগকারীদের মনোভাব এবং সংস্কারের বিশ্বাসযোগ্যতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
অর্থমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপিত প্রধান সুপারিশসমূহ :
বিএবি সরকারের সংস্কার কার্যক্রমকে সমর্থন করার প্রতিশ্রুতি পুনরায় ব্যক্ত করে এবং আস্থা পুনরুদ্ধার, শাসন শক্তিশালীকরণ ও বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সকল স্টেকহোল্ডারের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) চেয়ারম্যান আবদুল হাই সরকার এবং ব্যাংক এশিয়া পিএলসির চেয়ারম্যান রোমো রউফ চৌধুরী, ইউনাইটেড কমার্সিয়াল ব্যাংক পিএলসির (ইউসিবি) চেয়ারম্যান শরীফ জহীর, পূবালী ব্যাংক পিএলসির চেয়ারম্যান মনজুরুর রহমান এবং মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসির চেয়ারম্যান রাশেদ আহমেদ চৌধুরী।
আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিবৃন্দ।