প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২০ মে ২০২৬ ১৮:৪৫ পিএম
আপডেট : ২০ মে ২০২৬ ১৯:৫৩ পিএম
ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
বর্তমান বিশ্বে নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। জেনেটিক ফুড পৃথিবীকে কল্যাণের দিকে নিয়ে যেতে পারেনি। নেপিয়ার ঘাসটি ৮০ শতাংশ প্রোটিন সম্পন্ন।
প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটে ‘অস্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশ রিসার্চ শোকেস’ শীর্ষক সেমিনারে বুধবার মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ এসব কথা বলেন।
কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ বলেন, অতি বৃষ্টি, অতি খরা বড় ধরনের সমস্যা সৃষ্টি করছে। আমাদের এ ঘাস শুধু বাংলাদেশ নয়, বরং সারাবিশ্বকে উপকৃত করবে। এ ঘাস খরা সহিষ্ণু বিশ্বে সবচেয়ে বড় চাহিদা কোয়ালিটি ও সেইফটি ফুড। এ ঘাস উৎপাদনে যুক্তদের ধন্যবাদ। কেননা পৃথিবীর জন্য ভালো একটি কাজ করেছেন। আমরা যতদিন দায়িত্বে থাকবো ততদিন জনগণের কল্যাণে কাজ করবো।
প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুকের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, ঢাকাস্থ অস্ট্রেলিয়ান ডেপুটি হাইকমিশনার ক্লিনটন পবকি, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান তুহিন।
মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, আমরা আর গরীব থাকবো না। আমরা দ্রুত ধনী হয়ে উঠবো। আমাদের ৭০ থেকে ৯০ শতাংশ মানুষ কৃষক। কৃষক ভালো থাকলে আমরা সবাই ভালো থাকবো।
এ ঘাস উৎপাদনের কারণে আগামী ৩ বছরের মধ্যে অর্গানিক মিল্ক বাজারজাত করবো। তিনি বলেন, আজকের প্রধানমন্ত্রী কৃষিকে ভালোবাসেন। তিনি বিশ্বাস করেন কৃষকের উন্নয়ন হলে দেশের অর্থনীতি ভালো থাকবে।
বিজ্ঞানীদের কোন রিটায়ার্ড হয় না। আপনাদের অভিজ্ঞতা নিয়ে জীবনের দেশ দিন পর্যন্ত কাজ করে যাবেন। এতে দেশ ও পৃথিবী উপকৃত হবে।
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন,
এ প্রকল্পে ৮৫০ জনের মত খামারি প্রশিক্ষণ নিয়েছে। সেখানে অর্ধেক ছিল নারী। এর মূল উদ্যোক্তা ছিল সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। কেননা তিনিই নারীদের বিনা বেতনে নারী শিক্ষাকে প্রাধান্য দিয়েছেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রীর কথা হচ্ছে যারা কাজ করবে তাদরেকে এগিয়ে নেওয়া হবে। আগামীর বাংলাদেশ সকলের সহযোগিতা নিয়ে গড়ে তুলবো। কেননা জিয়াউর রহমান কোয়ারিটি সম্পন্ন লোকদের নিয়ে কাজ করেছিল।
মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, ঘাস উৎপাদনে বিপ্লব এসেছে। আগামীতে আরো বিপ্লব আসবে।
আমরা ভালো কাজে সাপোর্ট দিয়ে যাবো। আমরা আধুনিক, টেকসই ও নিরাপদ প্রাণিসম্পদ খাত গড়ে তোলা হবে।
মো. শাহজামান খান বলেন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সাইলেজ, নেপিয়ার ঘাস, আমরা রপ্তানিমুখি প্রাণিসম্পদ গড়ে তুলতে চাই। আমরা যদি জোনভিত্তিক ডিজিস মুক্ত করতে পারি তাহলে উৎপাদন বৃদ্ধি করে তা রপ্তানি করতে পারি।
সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিএলআরআই-এর পরিচালক (গবেষণা) ড. মো. জিল্লুর রহমান এবং চার্লস স্টার্ট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ও গুলবালি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের উপপরিচালক ড. ক্যামেরন ক্লার্ক।
এরপর “অস্ট্রেলিয়া- বাংলাদেশ কৃষি অংশীদারিত্ব” শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার ডেপুটি হাই কমিশনার ক্লিনটন পবকি এবং জুম প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে একই বিষয়ের উপরে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অস্ট্রেলিয়ান সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল এগ্রিকালচারাল রিসার্চ (এসিআইএআর) এর রিসার্চ ডিরেক্টর ড. স্টিফেন ক্রিম্প।
সেমিনারে পরিবেশবান্ধব ও স্বল্প ব্যয়ী গরুর মাংস উৎপাদন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং টেকসই প্রাণিসম্পদ ব্যবস্থাপনা নিয়ে “এনভায়রনমেন্টালি সাসটেইনেবল লো-কস্ট বিফ প্রোডাকশন- প্র্যাকটিক্যাল সলুশনস অ্যান্ড পার্টনারশিপ” শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএলআরআই-এর ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও প্রকল্প সমন্বয়কারী ড. মোহাম্মদ খায়রুল বাশার।
“ফিড ফার্স্ট সিস্টেমস: রিডিউসিং ফিড কস্ট থ্রু দি ম্যানেজমেন্ট অব নেপিয়ার গ্রাস” শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অস্ট্রেলিয়ার সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের রিসার্চ ফেলো (অ্যাকাডেমিক স্টাফ) ড. রফিকুল ইসলাম এবং চার্লস স্টার্ট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ও গুলবালি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের উপপরিচালক ড. ক্যামেরন ক্লার্ক। এছাড়াও ওয়ান হেলথ গবেষণা, গাঙ্গেয় সমভূমি অঞ্চলের ক্ষুদ্র খামারিদের খাদ্য ব্যবস্থা উন্নয়ন ইত্যাদি বিষয়ের উপরেও গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএলআরআই-এর ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও প্রকল্প সমন্বয়কারী ড. মোহাম্মদ খায়রুল বাশার।
রফিকুল ইসলাম বলেন, যেসব ২০১৮ সালে কাজ শুরু করা হয়। সাধারণত ৭ শতাংশ প্রোটিন থাকে আর নেপিয়ার ঘাসে ১৭ শতাংশ।
রেড চিটাগাং ২-৩ গ্রাম গ্রোথে ৬ গ্রাম। ১৫ টাকা খরচ করে এক লিটার দুধ পাওয়া যায়।
সিরাজগঞ্জের খামারি মো. মোক্তার হোসেন বলেন, দানাদার খাদ্য ছাড়া দুধ বাড়েনি। তবে নেপিয়ার ঘাস খাওয়ানোর
পার ডিসিমলে ২ মণের জায়গা ১০ মণ উৎপাদন হয়। এটি খাওয়ালে দানাদার অল্পতেই ৫-৬ লিটার দুধ বেড়ে যায়। ১০-১২ লিটার দুধ পেয়ে আমরা কীভাবে বাঁচবো? অথচ অস্ট্রেলিয়ায় ১০০ লিটার দুধ দেওয়া গাভী ৮০ লিটার দিলেই তা বিক্রি করে দেয় অথচ আমরা ১০-১২ লিটার দুধ পাই।
রাজশাহীর আমিনা আফরোজ বলেন, ২০১৭ সালে ২টি গাভী দিয়ে ফার্ম শুরু করি এখন তা ৭০-৮০ টিতে দাঁড়িয়েছে।