× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর

জনবল সংকটে এডিপি বাস্তবায়ন নিয়ে শঙ্কা

ফসিহ উদ্দীন মাহতাব

প্রকাশ : ২০ মে ২০২৬ ০৮:২৩ এএম

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর। ছবি: সংগৃহীত

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর। ছবি: সংগৃহীত

দেশের শিক্ষা অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নকারী অন্যতম প্রধান সংস্থা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর। তবে তীব্র জনবল সংকটে গত দুই বছর ধরে সংস্থাটির কার্যক্রম পরিচালনা ব্যাহত হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ প্রকৌশল ও মাঠ প্রশাসনের অসংখ্য পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে এ সংস্থাতে। ফলে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন, তদারকি ও গুণগত মান নিয়ন্ত্রণে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। একজন নির্বাহী প্রকৌশলীকে তিন-চারটি জোনের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। যার ফলে কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।

এমন পরিপ্রেক্ষিতে এসব শূন্য পদে চলতি দায়িত্ব দিতে এক মাসেরও বেশি সময় আগে যাচাই-বাছাই করে কয়েকজন সহকারী প্রকৌশলীর নাম সুপারিশ সংবলিত প্রস্তাবনা প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু এখনও এ প্রস্তাবনা সম্পর্কে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এদিকে দ্রুত নিয়োগ না হওয়ায় আগামী জুন মাসে চলতি অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের শেষ সময় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এমন আশঙ্কা করছেন। 

অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর একটি পদ শূন্য রয়েছে। একই সঙ্গে প্রধান প্রকৌশলী রুটিন দায়িত্বে থাকায় একটি তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর পদও কার্যত শূন্য অবস্থায় রয়েছে। শিক্ষা প্রকৌশল বিভাগের মাঠ প্রশাসনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তর জেলা পর্যায়ে ৯টি নির্বাহী প্রকৌশলীর পদ দীর্ঘদিন ধরে খালি। এ ছাড়া ২৭ জন সহকারী প্রকৌশলী, ১৪৩ জন উপ-সহকারী প্রকৌশলী, ১৭২ জন ডেটা এন্ট্রি অপারেটর এবং ১৮৪ জন অফিস সহায়কের পদ শূন্য রয়েছে।

বিদ্যালয়, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মাণ, সংস্কার ও উন্নয়নকাজ সরাসরি তদারকি করেন মাঠ পর্যায়ের প্রকৌশলীরা। বিশেষ করে নির্বাহী প্রকৌশলকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হয়। কিন্তু জনবল ঘাটতির কারণে একজন নির্বাহী প্রকৌশলীকে একাধিক জেলার দায়িত্ব সামলাতে হচ্ছে। ফলে প্রকল্পের কাজ সময়মতো পরিদর্শন, বিল যাচাই, গুণগত মান নিশ্চিতকরণ ও প্রশাসনিক সমন্বয় ব্যাহত হচ্ছে। এমন প্রেক্ষাপটে সম্প্রতি শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগে পাঠানো এক প্রস্তাবে বলা হয়, অধিদপ্তরে নির্বাহী প্রকৌশলী (সিভিল) পদে অনুমোদিত সংখ্যা ৭২টি হলেও বর্তমানে পূরণ রয়েছে ৪৭টি। চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ মোট ৭০ জন দায়িত্ব পালন করছেন। তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে চলতি দায়িত্ব দেওয়ায় ৫টি এবং অবসরের কারণে আরও ২টি পদ শূন্য হয়েছে। এসব শূন্য পদ পূরণে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে সাতজন সহকারী প্রকৌশলীকে নির্বাহী প্রকৌশলী (সিভিল) পদে চলতি দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

প্রস্তাবে বলা হয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের আওতায় চলমান বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে নির্বাহী প্রকৌশলীরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। প্রকল্পের গুণগত মান বজায় রাখা, কাজের অগ্রগতি তদারকি এবং মাঠ প্রশাসনের কার্যক্রম সমন্বয়ে এ পদগুলো দ্রুত পূরণ করা জরুরি।

অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, যেসব কর্মকর্তার নাম প্রস্তাব করা হয়েছে তাদের প্রায় ৩০ বছরের মাঠ প্রশাসনিক ও কারিগরি অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাই তাদের চলতি দায়িত্ব দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বর্তমানে একজন নির্বাহী প্রকৌশলীকে দুই থেকে তিন জেলার দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এতে প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি যেমন কমছে, তেমনি তদারকির অভাবে কাজের মান নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে। জুন সমাপ্তির আগে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) অর্থ ব্যয় ও প্রকল্প সমাপ্তির চাপ বাড়লেও প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় কর্মকর্তারা চরম চাপের মধ্যে কাজ করছেন।

কর্মকর্তারা বলছেন, শুধু প্রকৌশলী নয়, অফিস সহায়ক থেকে শুরু করে ডেটা এন্ট্রি অপারেটর পর্যন্ত বড় সংখ্যক পদ শূন্য থাকায় প্রশাসনিক কাজেও ধীরগতি তৈরি হয়েছে। মাঠ পর্যায়ের নথি প্রস্তুত, বিল প্রক্রিয়াকরণ, প্রকল্প তথ্য হালনাগাদ এবং ই-জিপি কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। জ্যেষ্ঠতা তালিকার সাতজনকে দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলেও এখনও এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আব্দুল খালেক প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর দেশের শিক্ষা অবকাঠামো উন্নয়নের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। মাঠ পর্যায়ে জনবল সংকটের বিষয়টি মন্ত্রণালয় গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। শূন্য পদ পূরণ এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম গতিশীল করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলো সময়মতো এবং গুণগত মান বজায় রেখে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে কাজ করছে।’ যোগ্য ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের দায়িত্ব প্রদান এবং জনবল কাঠামো শক্তিশালী করার বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে তিনি আশা করছেন। 

সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিক্ষা খাতে অবকাঠামো উন্নয়ন সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার কর্মসূচি হলেও বাস্তবায়নকারী সংস্থায় দীর্ঘদিন জনবল সংকট অব্যাহত থাকলে উন্নয়ন প্রকল্পের লক্ষ্য অর্জন ব্যাহত হতে পারে। বিশেষ করে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে প্রকৌশলী সংকট দ্রুত নিরসন না হলে নতুন প্রকল্প গ্রহণ ও চলমান প্রকল্প বাস্তবায়নে জটিলতা আরও বাড়বে। তাদের মতে, শুধু চলতি দায়িত্ব নয়, দ্রুত স্থায়ী নিয়োগ, পদোন্নতি এবং সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরকে কার্যকর জনবল সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা