বাংলাদেশে ভিটামিন ও খনিজ লবণের ঘাটতি মোকাবেলায় ফর্টিফাইড আটার সম্ভাবনা ও প্রযুক্তিগত দিক নিয়ে একটি উদ্বুদ্ধকরণ কর্মশালা । ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
বাংলাদেশে ভিটামিন ও খনিজ লবণের ঘাটতি মোকাবেলায় ফর্টিফাইড আটার সম্ভাবনা ও প্রযুক্তিগত দিক নিয়ে একটি উদ্বুদ্ধকরণ কর্মশালা আয়োজন করেছে টেকনোসার্ভ।
ঢাকার গুলশানের লেকশোর হোটেলে শনিবার এ কর্মমালা অনুষ্ঠিত হয়।
সরকারের কর্মকর্তা, মিল মালিক, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ও পুষ্টিবিদরা কর্মশালায় অংশ নেন।
টেকনোসার্ভ পরিচালিত ‘মিলার্স ফর নিউট্রিশন’ উদ্যোগের আওতায় আয়োজিত এ কর্মশালায় আটায় ভিটামিন ও খনিজ লবণ সংযোজনের গুরুত্ব, বাণিজ্যিক সম্ভাবনা ও প্রযুক্তিগত দিক তুলে ধরা হয়।
উদ্বোধনী বক্তব্যে টেকনোসার্ভের কান্ট্রি প্রোগ্রাম ম্যানেজার মো. গুলজার আহমেদ বলেন, “দেশে মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট ঘাটতির কারণে লাখো মানুষ স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে”।
তিনি বলেন, “খাদ্যে পুষ্টিমান সমৃদ্ধিকরণ প্রযুক্তি ও সমন্বিত উদ্যোগ থাকলে এই সমস্যা সহজেই সমাধান করা সম্ভব”।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ফুড সেফটি অথরিটির সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোহেব বলেন, “ফর্টিফাইড আটা শুধু পুষ্টির নিশ্চয়তা দেয় না, এটি একটি টেকসই জনস্বাস্থ্য কৌশল”।
তিনি আরও বলেন, “জনগণের স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এখন সময় এসেছে এ উদ্যোগকে বাণিজ্যিকভাবে আরও সম্প্রসারণ করার”।
খাদ্য অধিদপ্তরের পরিচালক জনাব মো. জহিরুল ইসলাম খান সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাদ্য অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক-এসডিএম আফিফ আল মাহমুদ ভূঁইয়া, বিএসটিআইয়ের উপপরিচালক এস এম আবু সাঈদ এবং বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার মিলার্স ওনার এসোসিয়েশন এর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মীর শাকরুল আলম সীমান্ত।
কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন টেকনোসার্ভের সিনিয়র ফুড ফর্টিফিকেশন স্পেশালিস্ট মো. নাঈম জোবায়ের।
তিনি বলেন, “আটায় পুষ্টি উপাদান সংযোজন একটি সহজ, সাশ্রয়ী ও টেকসই সমাধান, যা জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে”।
এছাড়াও আলোচনায় অংশ নেন মিলার্স ফর নিউট্রিশন কর্মসূচিটির স্ট্র্যাটেজিক ফর্টিফিকেশন পার্টনার হেক্সাগন নিউট্রিশন, বুলার এবং উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ডব্লিউএফপি, নিউট্রিশন ইন্টারন্যাশনাল এবং গেইনের প্রতিনিধিরা।
মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা খাদ্য ফর্টিফিকেশন কার্যক্রম সফল করতে সরকার, বেসরকারি খাত ও উন্নয়ন অংশীদারদের সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার মিলার্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি মো. মঈন উদ্দিন মাসুদ এবং সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মীর শাকরুল আলম সীমান্ত আশা প্রকাশ করেন, “সরকার শিগগিরই দেশের ওএমএস কর্মসূচিতে আটা ফর্টিফিকেশন বাধ্যতামূলক করবে”।
আলোচনায় আরও অংশ নেয় বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি), নিউট্রিশন ইন্টারন্যাশনাল এবং গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ইমপ্রুভড নিউট্রিশন (গেইন) এর প্রতিনিধিরা। তারা বাংলাদেশে খাদ্য ফর্টিফিকেশন উদ্যোগে সহায়তা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
সমাপনী বক্তব্যে খাদ্য অধিদপ্তরের পরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম খান বলেন, ফর্টিফাইড আটার মান নিয়ন্ত্রণ ও নিয়মনীতি যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। তিনি এ কর্মশালাকে “অনুপুষ্টিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার পথে একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ” হিসেবে উল্লেখ করেন।
‘মিলার্স ফর নিউট্রিশন’ কর্মসূচিটি গেটস ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে বাস্তবায়ন করছে টেকনোসার্ভ। এতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক অংশীদার সংস্থা খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও ফর্টিফিকেশন কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করতে কাজ করছে।