× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সচিবালয়ের নিরাপত্তা

সরানো হচ্ছে ১৬৯ পুলিশ সদস্যকে

তানভীর হাসান

প্রকাশ : ১৭ মে ২০২৬ ০৮:৫৮ এএম

আপডেট : ১৭ মে ২০২৬ ০৯:০১ এএম

বাংলাদেশ সচিবালয়। ফাইল ছবি

বাংলাদেশ সচিবালয়। ফাইল ছবি

প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র বাংলাদেশ সচিবালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে দায়িত্বে থাকা পুলিশের একটি বড় অংশকে পর্যায়ক্রমে সরিয়ে নতুন সদস্যদের মোতায়েনের প্রস্তুতি চলছে। প্রাথমিক তালিকায় রয়েছেন ১৬৯ জন সদস্য। তারা ৫ আগস্টের আগে থেকেই নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ের ১ নং ভবনে নিয়মিত অফিস করায় আরও স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে সচিবালয়ের নিরাপত্তা। ইতোমধ্যে তালিকা প্রণয়নের কাজ শুরু হয়েছে বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্রে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, সচিবালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ‘আরও কার্যকর ও নিরপেক্ষ’ করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে এ নিয়ে প্রশাসনের ভেতর-বাইরে নানা আলোচনা চলছে। পুলিশের যেসব সদস্যকে সরানোর কথা বলা হচ্ছে, তাদের বড় অংশ বিগত আওয়ামী লীগ সরকার ও পরবর্তী অন্তর্বর্তী প্রশাসনের সময়ে নিয়োগ পেয়েছিলেন। নতুন সরকার গঠনের পর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর প্রস্তুতি শুরু হয়। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, নীতিনির্ধারণী বৈঠক, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ নথি ও উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের উপস্থিতির কারণে এখানে দায়িত্ব পালনকারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিষয়ে সরকারের কড়া নজর থাকে। 

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, সচিবালয়ে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ সদস্যদের পেশাগত আচরণ, দায়িত্ব পালনের ধরন, অতীত কর্মস্থল এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে একটি মূল্যায়ন চলছে। সেই মূল্যায়নের ওপর ভিত্তি করেই কিছু সদস্যকে অন্যত্র বদলি করা হতে পারে। তাদের জায়গায় বিভিন্ন জেলা ও বিশেষায়িত ইউনিট থেকে নতুন সদস্য আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘এটি পুরোপুরি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত। নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও সমন্বিত ও পেশাদার করতে কিছু পরিবর্তন আনা হচ্ছে।’

পুলিশের ভেতরের একটি অংশ মনে করছে, এই পরিবর্তনের পেছনে রাজনৈতিক বিবেচনাও কাজ করতে পারে। তাদের দাবি, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে পুনর্বিন্যাসের যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, সচিবালয়ের নিরাপত্তা ইউনিটে পরিবর্তনের উদ্যোগও তারই অংশ হতে পারে।

সূত্রে জানা গেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে গভীর রাতে সচিবালয়ের ৭ নম্বর ভবনের ৬, ৭ ও ৮ তলায় আগুন লাগার ঘটনাও নতুন করে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আলোচনায় নিয়ে আসে। সে সময় তৎকালীন সরকার ঘটনাটিকে নাশকতা হিসেবে উল্লেখ করেছিল। তখন বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়, আগুনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি ও প্রশাসনিক ফাইল পুড়ে যায়। ঘটনার পর সচিবালয়ের নিরাপত্তা, প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ এবং অভ্যন্তরীণ নজরদারি নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন ওঠে। বর্তমান নিরাপত্তা পুনর্বিন্যাস উদ্যোগের পেছনে ওই ঘটনার প্রভাবও থাকতে পারে।


কেন গুরুত্বপূর্ণ সচিবালয়ের নিরাপত্তা : বিশ্লেষকদের মতে, সচিবালয়ের নিরাপত্তা কেবল ভবন পাহারার বিষয় নয়। এটি রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। অতীতে বিভিন্ন সময়ে সচিবালয়ে অননুমোদিত প্রবেশ, বিক্ষোভ, গোপন নথি ফাঁস এবং নিরাপত্তা দুর্বলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। তাই যে সরকারই ক্ষমতায় থাকুক না কেন, তারা সচিবালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে অগ্রাধিকার তালিকায় রাখে। নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, ‘সচিবালয়ের দায়িত্বে থাকা সদস্যদের শুধু অস্ত্র চালনায় দক্ষ হলেই হয় না; তাদের তথ্য নিরাপত্তা, আচরণগত শৃঙ্খলা এবং রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।’


প্রশাসনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

সচিবালয়ের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ বলছেন, দীর্ঘদিন একই স্থানে দায়িত্ব পালন করলে একটি নির্দিষ্ট বলয় তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই নির্দিষ্ট সময় পরপর রদবদল হওয়া স্বাভাবিক। আবার কারোর মত হলো, অতীত রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে মূল্যায়ন করা হলে তা বাহিনীর পেশাদারত্বের জন্য নেতিবাচক বার্তা দিতে পারে।

অতিরিক্ত সচিব পর্যায়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রশাসনে স্থিতিশীলতা খুব গুরুত্বপূর্ণ। হঠাৎ বড় ধরনের পরিবর্তন আনলে কাজের ধারাবাহিকতায় প্রভাব পড়তে পারে। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে সরকার প্রয়োজন মনে করলে পরিবর্তন আনতেই পারে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক কর্নেল (অব.) কাজী শরীফ উদ্দীন বলেন, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে দায়িত্বে থাকা সদস্যদের ক্ষেত্রে সরকার সাধারণত সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করে। নতুন সরকার বা পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় নিরাপত্তা কাঠামো পুনর্বিন্যাস নতুন কিছু নয়। তবে এ ধরনের সিদ্ধান্ত অবশ্যই স্বচ্ছ ও পেশাগত মূল্যায়নের ভিত্তিতে হওয়া উচিত। যদি রাজনৈতিক আনুগত্যকে প্রধান মানদণ্ড করা হয়, তাহলে বাহিনীর মনোবলে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

তিনি আরও বলেন ‘সচিবালয়ের নিরাপত্তা শুধু বাহ্যিক হুমকি মোকাবিলা নয়; এটি তথ্য সুরক্ষা ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার সঙ্গেও জড়িত। তাই সদস্য বাছাইয়ে দক্ষতা, সততা ও নিরপেক্ষতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হওয়া উচিত।’

এ প্রসঙ্গে সাবেক আইজিপি নূর মোহাম্মদ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, পুলিশ বাহিনীতে বদলি ও পুনর্বিন্যাস একটি চলমান প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় দায়িত্বে থাকা সদস্যদের নির্দিষ্ট সময় পরপর রদবদল করা আন্তর্জাতিকভাবেও প্রচলিত। তবে কোনো সদস্যকে শুধু তিনি কোন সময় নিয়োগ পেয়েছেন, সেটির ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা উচিত নয়। একজন পুলিশ সদস্যের পরিচয় হওয়া উচিত তার পেশাদারত্ব। তিনি আরও বলেন, ‘বাহিনীর ভেতরে আস্থার পরিবেশ বজায় রাখতে হলে বদলির ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট নীতিমালা অনুসরণ করতে হবে। একই সঙ্গে সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে, এই পরিবর্তন যেন প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা নষ্ট না করে।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা