কারিনা কায়সার। ফাইল ছবি
কারিনা কায়সারÑ দেশের বরেণ্য এক ক্রীড়া পরিবারের সন্তান। বাবা-কায়সার হামিদ ছিলেন জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক তারকা খেলোয়াড়, আর দাদি-দেশের কিংবদন্তি দাবাড়ু রানী হামিদ। বাবা এবং দাদির পরিচয় ঠেলে কারিনা নিজ প্রতিভাগুণে হয়ে উঠেছিলেন দেশের অন্যতম জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর। লিখেছিলেন নাটক, অভিনয়ও করেছিলেন তিনি। মাত্র ৩০ বছর বয়সে দেশের এই প্রতিশ্রুতিশীল প্রতিভা লিভার-সংক্রান্ত জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে পাড়ি জমিয়েছেন না ফেরার দেশে। তিনি মা-বাবা ও দুই ভাই রেখে গেছেন।
শনিবার প্রথম প্রহরে (শুক্রবার রাত ১টার পরে) ভারতের চেন্নাইয়ের এক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন কারিনা কায়সার (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। কারিনার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার বাবা ও জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক তারকা খেলোয়াড় কায়সার হামিদ। তিনি বলেন, ‘ফুসফুসে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়ার সময় হঠাৎ ওর প্রেশার অনেক নিচে নেমে যায়। এরপর চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন কিন্তু ওকে আর বাঁচানো গেল না।’
ভারত থেকে কারিনার মরদেহ দেশে আনার বিষয়ে কায়সার হামিদ জানিয়েছেন, শনিবার তার মরদেহ দেশে আনা সম্ভব হচ্ছে না। সব প্রক্রিয়া শেষে রবিবার (আজ) দেশে আনা হবে। তিনি বলেন, ‘প্রিজার্ভ-সংক্রান্ত কিছু বিষয় আছে। সব প্রক্রিয়া শেষে বেলা ৩টার (গতকাল শনিবার) ফ্লাইট ধরা সম্ভব নয়, তাই রবিবারের ফ্লাইটে চেন্নাই থেকে ঢাকায় আসবে ওরা।’
পারিবারিক ও চিকিৎসাসূত্রে জানা গেছে, লিভার-সংক্রান্ত জটিলতায় গত কয়েক দিন ধরে চরম সংকটাপন্ন অবস্থায় ছিলেন কারিনা। প্রথমে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত সোমবার রাতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স যোগে তাকে ভারতের চেন্নাইয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসার জন্য কারিনার সঙ্গে ভারতে যান, মা- লোপা কায়সার, দুই ভাই- মোস্তফা এস. হামিদ ও সাদাত হামিদ।
ভেলোরের খ্রিস্টান মেডিকেল কলেজ (সিএমসি) হাসপাতালে কারিনার নিবিড় চিকিৎসা চলছিল। চিকিৎসকরা প্রথমে তার ফুসফুসের সংক্রমণ রোধে চিকিৎসা শুরু করেছিলেন এবং পরবর্তীতে লিভার ট্রান্সপ্লান্টের (যকৃৎ প্রতিস্থাপন) প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন। কিন্তু সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যায়।
তার অসুস্থতার বিষয়ে পরিবার থেকে জানানো হয়েছে, বেশ কিছুদিন ধরেই কারিনা অসুস্থ বোধ করছিলেন। এরপর তিনি হেপাটাইটিস এ-তে আক্রান্ত হন। কারিনার আগে থেকেই ‘ফ্যাটিলিভার’-এর সমস্যা ছিল। সংক্রমণের ফলে পরিস্থিতি দ্রুত জটিল আকার ধারণ করে এবং গত শুক্রবার তার লিভার ফেইলিউর হয়।
সামাজিক মাধ্যমে নিজস্ব কনটেন্ট তৈরি ও অভিনয়ের মাধ্যমে কারিনা কায়সার তরুণ প্রজন্মের কাছে বেশ পরিচিত ও জনপ্রিয় মুখ ছিলেন। তার এই অকালমৃত্যুতে বিনোদন অঙ্গন এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সামাজিক মাধ্যমজুড়ে তাকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করছেন নির্মাতা, অভিনয়শিল্পী, সহকর্মী ও ভক্তরা।
কারিনাকে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে এক আবেগঘন দীর্ঘ স্ট্যাটাসে অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী লেখেন, ‘যখন মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ডাক আসছিল, তুমি নির্দ্বিধায় দাঁড়াইছিলা, কারিনা। বাংলাদেশ তোমাকে মনে রাখবে। আর আমি মনে রাখব তোমার উইটের কারণে, তোমার ডিলাইটফুল প্রেজেন্সের কারণে।’
কারিনার মৃত্যু প্রসঙ্গে আবেগঘন ভাষায় ফারুকী লেখেন, ‘মানুষ মরে গেলে নাকি সব সত্য দেখতে পায়। এখন নিশ্চয়ই তুমি বিশ্বাস করছ, আমরা তোমার অনেক বড় ফ্যান ছিলাম। অনেক অনেক কথা মনে পড়ছে। আল্লাহ তোমাকে বেহেশত নসিব করুক, কারিনা।’