হতদরিদ্রদের চিকিৎসা
চট্টগ্রামে মা ও শিশু হাসপাতালের নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
হতদরিদ্র মানুষের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে সমন্বয়ের উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতালের সীমাবদ্ধতার কারণে দরিদ্র রোগীদের প্রয়োজন হলে বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানো হবে এবং চিকিৎসা ব্যয় বহন করবে সরকার।
চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে শনিবার প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ সব কথা বলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী।
আরও পড়ুন: ‘শিশু স্বর্গ মডেল’ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন ডা. জুবাইদা রহমান |
অর্থমন্ত্রী বলেন, যারা হতদরিদ্র এবং চিকিৎসা করাতে অসুবিধায় পড়ছেন, তাদের জন্য আমরা প্রাইভেট হাসপাতালের সঙ্গে সমন্বয়ে যাচ্ছি।
সরকারি হাসপাতালগুলোর সীমাবদ্ধতা থাকায় আমরা বেসরকারি হাসপাতালগুলোর সঙ্গে কথা বলেছেন বলেও জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, সরকার রোগীদের বেসরকারি হাসপাতালে পাঠাবে, তারা চিকিৎসা দেবে এবং সেই বিল সরকার পরিশোধ করবে। ফলে হতদরিদ্র মানুষের চিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
স্বাস্থ্য খাতে এবারের বাজেটে বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
তার ভাষ্য, সরকার স্বাস্থ্যসেবাকে নাগরিক অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়।
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সবার জন্য সমান ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা প্রতিটি নাগরিকের অধিকার। পৃথিবীর সভ্য দেশগুলোতে সাধারণ মানুষ সহজেই প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পায়। বাংলাদেশেও সেই ব্যবস্থাকে আরও উন্নত পর্যায়ে নিতে চাই।
দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার একটি কঠিন সময় পার করছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে।
তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা বাজেট থেকে ব্যয় হয়ে গেছে।
বিগত সরকারের সমালোচনা করে অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার ঋণাত্মক অবস্থা থেকে অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, আমরা আগের সরকারগুলোর কাছ থেকে যা পেয়েছি, তা সবই ঋণাত্মক। পাওয়ার ও এনার্জি খাতে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা বকেয়া রেখে গেছে, যা এখন আমাদের পরিশোধ করতে হচ্ছে।
অর্থনীতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে আরও সময় লাগবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা এখন অর্থনৈতিকভাবে কঠিন অবস্থায় আছি। এখান থেকে বের হয়ে অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড়াতে আরও প্রায় দুই বছর সময় লাগতে পারে।