× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ঢাবিতে ফাঁকা শতাধিক আসন: ভর্তি হতে না পেরে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ

মাহরিব বিন মহসিন, ঢাবি

প্রকাশ : ১৫ মে ২০২৬ ১৬:৫৪ পিএম

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের বিজ্ঞান ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরও অন্তত ১০০ শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অপরিকল্পিত মাইগ্রেশন প্রক্রিয়া এবং তড়িঘড়ি করে ভর্তি কার্যক্রম শেষ করার কারণে বিভিন্ন বিভাগ ও ইনস্টিটিউটে আসন ফাঁকা থাকলেও মেধাতালিকায় থাকা শিক্ষার্থীরা সুযোগ পাচ্ছেন না বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ২৮ এপ্রিল সর্বশেষ মাইগ্রেশনের ফল প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ উঠেছে, ওই মাইগ্রেশন প্রক্রিয়ায় ফাঁকা থাকা আসনের মাত্র ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পূরণ করা হয়েছে। এরপরই চূড়ান্ত ভর্তি কার্যক্রম সমাপ্ত ঘোষণা করায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসন শূন্য রয়ে গেছে।

ভর্তি-বঞ্চিত শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দাবি, ইনস্টিটিউট অব লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি (আইএলইটি), ইনস্টিটিউট অব এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ (আইইআর), রোবটিক্স অ্যান্ড মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগসহ বেশ কয়েকটি বিভাগে আসন খালি রয়েছে। কিন্তু নতুন কোন মাইগ্রেশন বা ভর্তি বিজ্ঞপ্তি না দেওয়ায় মেধাতালিকায় এগিয়ে থেকেও অনেকে ভর্তির সুযোগ হারাচ্ছেন।

বিশেষ করে আইএলইটির বর্তমান শিক্ষার্থীরা আসন ফাঁকা রাখা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, চামড়া শিল্পের জন্য দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে এই প্রতিষ্ঠানটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে আসন শূন্য থাকা ভবিষ্যতে এই খাতের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

ক্ষোভ প্রকাশ করে ভর্তি-বঞ্চিত শিক্ষার্থী মো. তুহিন শেখ বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্নটা শুধু একজন শিক্ষার্থীর না, একটা পুরো পরিবারের স্বপ্ন। ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরও শুধুমাত্র অপরিকল্পিত মাইগ্রেশন আর প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের কারণে ফাঁকা আসন থাকা সত্ত্বেও ভর্তি হতে না পারাটা সত্যিই মেনে নেওয়া কঠিন। আমরা যারা দিনরাত পরিশ্রম করে এই জায়গায় পৌঁছেছি, তাদের জন্য এটা শুধু একটি সুযোগ হারানো নয় বরং বহু বছরের স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার মতো কষ্ট।

তিনি আরও বলেন, “সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো–আসন খালি রেখেই ভর্তি কার্যক্রম শেষ করা হয়েছে। একজন শিক্ষার্থীর জায়গায় দাঁড়িয়ে এই সিদ্ধান্ত কতটা হতাশাজনক সেটা হয়তো কর্তৃপক্ষ অনুভব করবে না। আমরা চাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি মানবিকভাবে বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর সমাধান দিক”।

ঢাবির ২০২০-২১ সেশনের শিক্ষার্থী মো. শাহিন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদাসীনতায় এবার এতগুলো সিট ফাঁকা থেকে গেছে। এ জন্য ঢাবির স্বপ্ন বঞ্চিত হচ্ছে অনেক শিক্ষার্থী। 

তিনি অভিযোগ করে বলেন, “আমার ছোট ভাইয়ের সিরিয়াল ৫৪০১। ফাঁকা সিট গুলো পূরণ করলে সে ভর্তি হতে পারতো”।

এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ভর্তি কমিটির সদস্য অধ্যাপক ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, জাতীয় নির্বাচন ও রমজানের বড়ো বন্ধ থাকায় ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কিছুটা তাড়াহুড়ো করতে হয়েছিলো। এজন্য হয়তো মাইগ্রেশনের পরেও কিছু সিট ফাঁকা থেকে যায়।

জানতে চাইলে বিজ্ঞান ইউনিটের ভর্তি কমিটির প্রধান ও জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মো. নাজমুল আহসান বলেন, কিছু বিভাগের প্রযোজ্য চাহিদার আলোকে প্রতিবছর শিক্ষার্থী পাওয়া যায় না। এ বছরও সেইম ঘটনা ঘটেছে বলে আমার মনে হচ্ছে। 

তিনি বলেন, সাইন্স এর বিভাগ গুলোতে সাধারণত ক্লাস শুরুর ৩-৪ মাস পরে আর নতুন করে ভর্তি নেওয়া সম্ভব হয় না। কারণ এ সময় কাউকে ভর্তি নিলে সে বাকিদের চেয়ে অনেক পিছিয়ে থাকবে। এজন্য বিশেষ মাইগ্রেশন দিয়েও নতুন করে ভর্তি নেওয়ার সুযোগ থাকে না। 

এই সিস্টেম পরিবর্তন করা হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের কোন ছেলে বাদ পড়ে যাক আমরা সেটা চাইনা। আমরা অলরেডি এই নিয়মে শিথিলতা আনতে কাজ করছি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মু. আব্দুস সালাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির যে রিকোয়ারমেন্ট সেটা অনেকে পূরণ করতে পারে না। এছাড়া, কিছু কিছু বিভাগের ক্ষেত্রে আলাদা কিছু রিকোয়ারমেন্ট থাকে। যে কারণে এসব বিভাগে প্রায়ই আসন ফাঁকা থেকে যায়।

তিনি বলেন, অনেকে এটাকে সিস্টেমের ত্রুটি বলতে পারেন। কিন্তু আমি তা বলবো না। মূলত বিভাগগুলো কীভাবে স্টুডেন্ট নিতে চায় সেটা তাদের ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিত। কিছু আসন প্রতি বছরই ফাঁকা থাকে এবং এটা মেনেই আমাদের কন্টিনিউ করতে হবে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা