সৌরভ হোসেন
প্রকাশ : ১৫ মে ২০২৬ ১৩:৪৮ পিএম
আপডেট : ১৫ মে ২০২৬ ১৩:৫২ পিএম
বাজারে স্বস্তি ফেরাতে নিয়মিত অভিযান ও নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন ভোক্তারা। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
প্রায়ই বাজারে এসে নতুন দামের মুখোমুখি হতে হয়। আয় বাড়ছে না, কিন্তু বাজার খরচ দিন দিন বেড়েই চলেছেÑ এমন অভিযোগ করেন শান্তিনগরের এক ক্রেতা মাহবুব আলম।
তিনি বলেন, গত সপ্তাহে যেই সোনালি মুরগি ৩৩০ টাকায় কিনেছি, তা আজকে ৩৭০ টাকা। দেশে কি দেখার কেউ নেই, নাকি যে যেভাবে পারছে সেভাবেই দাম বাড়িয়ে যাচ্ছেন। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার বাজারগুলোয় নিত্যপ্রয়োজনীয় বেশিরভাগ পণ্যের দামই বাড়তি।
ঈদ সামনে রেখে মাংস, ডিম, পেঁয়াজ, কাঁচা মরিচ ও কিছু শাকসবজির দাম বেড়েছে। এক সপ্তাহ আগে প্রতি কেজি সোনালি মুরগি বিক্রি হতো ৩৩০ থেকে ৩৪০ টাকায়, যা এই সপ্তাহে বিক্রি হচ্ছে ৩৬০ থেকে ৩৭০ টাকায়। তবে কিছুটা কমের মধ্যেই আছে ব্রয়লার মুরগির দাম। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকায়। এ ছাড়া প্রতি হালি লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ৪৮ থেকে ৫০ টাকায়; যা এক সপ্তাহ আগে বিক্রি হতো ৪৪ টাকায়। এই এক সপ্তাহের ব্যবধানে হালিপ্রতি ৪ থেকে ৬ টাকা বেড়েছে। আর হাঁসের ডিম হালিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৭৫ টাকায়; যা এক সপ্তাহ আগে বিক্রি হতো ৬৫ থেকে ৬৮ টাকায়।
শান্তিনগরের ডিম বিক্রেতা ওবায়দুল্লাহ জানান, বর্ষা মৌসুমে ডিমের উৎপাদন তুলনামূলক কম থাকে, তাই দাম বেশি। উৎপাদন বাড়লে দাম কমে যাবে, তখন আমরাও কম দামে বিক্রি করতে পারব। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার শান্তিনগর, মৌচাক, মালিবাগ ও ভাটারা বাজার ঘুরে এসব চিত্র দেখা যায়। অন্যদিকে ক্রেতাদের অভিযোগ, বাজার তদারকির অভাব ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যের কারণে অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে এসব পণ্যের দাম।
বৃষ্টির কারণে সরবরাহ কিছুটা কমে যাওয়ায় বাজারে কমছে না কোনো সবজির দাম। ঢাকার বিভিন্ন বাজার ঘুরে বৃহস্পতিবার দেখা যায়, কাঁচা মরিচ ও পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। কাঁচা মরিচ কেজিতে বেড়েছে ৪০ টাকা এবং পেঁয়াজে বেড়েছে ৫ থেকে ৭ টাকা করে। এ ছাড়া প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকায়, করলা ১০০ টাকা, শসা ৭০ থেকে ৮০ টাকা, বরবটি ১০০ থেকে ১২০ টাকায়। কাঁচা মরিচের দামও এখনও বেশি, প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায় এবং পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪৫ টাকায়। এ ছাড়া অন্যান্য সবজির দামও সাধারণ ক্রেতার নাগালের বাইরে। টমেটো ৮০ টাকা, পটোল ৮০ টাকা, ঢেঁড়স ৮০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৮০ টাকা, ধুন্দল ৮০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে ও আলু ২৫ টাকা কেজি। শাকের মধ্যে রয়েছে লালশাক ২০ টাকা, পালং ২৫ টাকা।
সবজি বিক্রেতারা জানান, পাইকারি বাজারে দাম বেশি থাকায় খুচরা পর্যায়ে কম দামে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। সয়াবিন তেলের বাজার ঘুরে দেখা যায়, দোকানগুলোতে সয়াবিনের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে এবং বিক্রি করছে সরকার নির্ধারিত দামে। প্রতি লিটার বোতল সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১৯৯ টাকায় আর পাঁচ লিটার বিক্রি হচ্ছে ৯৭৫ টাকা এবং খোলা সয়াবিন বিক্রি হচ্ছে ১৭৯ টাকা দরে।
এদিকে বাজারে স্বস্তি ফেরাতে নিয়মিত অভিযান ও নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন ভোক্তারা। তারা বলছেন, শুধু অভিযান নয়, সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, কৃষিপণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা স্থিতিশীল না হলে এবং বাজারে কার্যকর তদারকি জোরদার না করা হলে আসন্ন ঈদ ঘিরে নিত্যপণ্যের দাম আরও বাড়তে পারে।