প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৩ মে ২০২৬ ২২:৪১ পিএম
ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়াধীন নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্ট আয়োজিত ১৯তম বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস উপলক্ষে বুধবার আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, অটিজম কোনো সীমাবদ্ধতা নয়; এটি ভিন্নধর্মী সক্ষমতা। অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ব্যক্তিদের সুরক্ষা, শিক্ষা, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে সরকার নানা উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।
ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়াধীন নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্ট আয়োজিত ১৯তম বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস উপলক্ষে বুধবার আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত সচিব মো. কামাল উদ্দিন বিশ্বাস।
স্বাগত বক্তব্য দেন ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোছাম্মৎ শাহীনা আক্তার।
এনডিডি বিষয়ে প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন বিএমইউর ইনস্টিটিউট অব পেডিয়াট্রিক নিউরোডিসঅর্ডার অ্যান্ড অটিজমের অধ্যাপক ডা. সৈয়দা তাবাসসুম আলম।
মন্ত্রী বলেন, দেশে প্রায় ১৮ কোটি মানুষের মধ্যে ৩৯ লাখ প্রতিবন্ধী ব্যক্তি রয়েছেন। এই জনগোষ্ঠীকে পিছিয়ে রেখে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। সরকার একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে তুলতে চায়, যেখানে অটিজম আক্রান্ত ব্যক্তিরা মর্যাদা ও সমান সুযোগ নিয়ে বেড়ে উঠতে পারবেন।
তিনি বলেন, অটিজম কোনো রোগ নয়, এটি একটি বৈশিষ্ট্য। তাদের মধ্যে ভিন্নধর্মী মেধা ও সক্ষমতা রয়েছে। উপযুক্ত সহায়তা পেলে তারাও সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।
মন্ত্রী জানান, নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্ট আইন-২০১৩ বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিশেষায়িত সেবা কেন্দ্র, চিকিৎসা সহায়তা, পুনর্বাসন কার্যক্রম ও অভিভাবক প্রশিক্ষণ চালু করা হয়েছে। প্রতিটি জেলায় অটিজম কর্নার স্থাপন, বিশেষ শিক্ষা সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতেও কাজ চলছে।
অভিভাবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সন্তানদের প্রতি ধৈর্য ও ভালোবাসা ধরে রাখতে হবে। সরকার এককালীন চিকিৎসা অনুদান, থেরাপি সেবা ও শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ করছে। প্রাথমিক শনাক্তকরণ ও হস্তক্ষেপ নিশ্চিত করতে আরও মাল্টি-ডিসিপ্লিনারি টিম গঠন করা হবে বলেও জানান তিনি।
সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, স্কুল, উপাসনালয় ও সমাজের সর্বস্তরে অটিজম সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা ছড়িয়ে দিতে হবে। বৈষম্য দূর করে অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়তে সরকারি-বেসরকারি সমন্বয় জরুরি।
সভাপতির বক্তব্যে ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ বলেন, এবারের প্রতিপাদ্য অটিজম কোনো সীমাবদ্ধতা নয়, প্রতিটি জীবন মূল্যবান সমাজকে নতুনভাবে ভাবতে শেখায়। অটিজম মানব বৈচিত্র্যের অংশ এবং অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ব্যক্তিদের মর্যাদা ও সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দিয়ে সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা অটিজম শনাক্তকরণে প্রাথমিক সচেতনতা, থেরাপি সেবার প্রসার, শিক্ষায় অন্তর্ভুক্তি ও কর্মক্ষেত্রে সুযোগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অটিজম আক্রান্ত শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গান, নৃত্য ও কবিতা আবৃত্তি পরিবেশিত হয়। এ সময় পাঁচটি ক্যাটাগরিতে ২৫ জন সফল অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ব্যক্তি, সমাজকর্মী, প্রতিষ্ঠান, পিতা-মাতা ও কেয়ারগিভারকে সম্মাননা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে মন্ত্রী অটিজম আক্রান্ত শিশু ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তিনি বলেন, এই শিশুরা আমাদের সমাজের সম্পদ। তাদের বিকাশে সম্মিলিত উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে হবে।