প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৩ মে ২০২৬ ২০:১০ পিএম
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বার্ক) অডিটোরিয়ামে বুধবার অনুষ্ঠিত “লাইভস্টক সার্ভিস ট্রান্সফরমেশন (এলএসটি) প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা বিষয়ক ভ্যালিডেশন কর্মশালায়” কথা বলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
প্রাণিসম্পদ খাতকে সমৃদ্ধ করতে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বার্ক) অডিটোরিয়ামে বুধবার অনুষ্ঠিত “লাইভস্টক সার্ভিস ট্রান্সফরমেশন (এলএসটি) প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা বিষয়ক ভ্যালিডেশন কর্মশালায়” তিনি এ কথা বলেন।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রাণিসম্পদ ও জীববৈচিত্র্যের গুরুত্ব অপরিসীম। তাই প্রাণির যথাযথ পরিচর্যা ও সেবার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, সরকার প্রাণিসম্পদ খাতকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং এ খাতের উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাণিসম্পদ খাতের সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে রোগ নির্ণয়, উন্নত ক্লিনিক ব্যবস্থা এবং পর্যাপ্ত জনবলের প্রয়োজন রয়েছে। এ খাতকে আধুনিক ও কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণ এবং যথাযথ বাজেট বরাদ্দ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশের খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। পরবর্তীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াও এ খাতকে গুরুত্ব দিয়েছেন। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রাণিসম্পদ খাতকে এগিয়ে নিতে আন্তরিকভাবে কাজ করছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আশা ব্যক্ত করে বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও আন্তরিকতার মাধ্যমে প্রাণিসম্পদ খাত দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে এবং একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন।
তিনি বলেন, প্রাণিসম্পদ খাতকে রপ্তানিমুখী খাতে পরিণত করতে হবে এবং এর জন্য প্রকল্পের পরিধি ও বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি। তিনি আরো বলেন, দেশের পুষ্টি নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে প্রাণিসম্পদ খাতের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। তাই এ খাতকে আরও অগ্রাধিকার দিয়ে পরিকল্পিতভাবে এগিয়ে নিতে হবে।
দেলোয়ার হোসেন বলেন, প্রাণিসম্পদকে রপ্তানিমুখী করা হবে। আমাদের প্রকল্প বাড়াতে হবে। দেখা যায় একেকটি মন্ত্রণালয়ে হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প চলমান। অথচ আমাদের সব প্রকল্প মিলেও ৫ হাজার কোটি টাকার হবে না। গত একনেকে শুধু ওয়াসার একটি প্রকল্পই ১৬ হাজার কোটি টাকার বেশি ছিল।
মো. শাহজামান খান বলেন, আমাদের ভিশনই হচ্ছে প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করা। বর্তমান সরকারের বিশ্ববাজারে হালাল পণ্য রপ্তানি বাজার রয়েছে। আমরা বছরে ৭০-৮০ হাজার কোটি টাকা রপ্তানি করছি, আরও পরিকল্পিতভাবে কাজ করলে আমরা বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হতে পারবো।
কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এলএসটি প্রকল্পের টিম লিডার ড. মো. মুশফিকুর রহমান, স্বাগত বক্তব্য দেন প্রকল্প পরিচালক ড. রেজাউল হক খান। এসময় মন্ত্রণালয় এবং অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।