প্রতীকী ছবি/বাসস
উত্তর শ্রীলঙ্কা উপকূলের অদূরে দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাবে দেশের আট বিভাগেই অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। তবে লঘুচাপটি ওই অঞ্চলেই অবস্থান করায় বাংলাদেশে এর বড় কোনো প্রভাবের আশঙ্কা নেই। অন্যদিকে, দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতির আভাস পাওয়া গেছে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, মঙ্গলবার রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া এবং বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবির জানান, সোমবার সকালে শ্রীলঙ্কা উপকূলে লঘুচাপটি সৃষ্টি হয়েছে। এটি ওই এলাকাতেই অবস্থান করবে, ফলে বাংলাদেশে সরাসরি বড় কোনো প্রভাব পড়বে না। তবে লঘুচাপের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে অস্থায়ী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
ঢাকায় সোমবার কয়েক দফা বৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া নোয়াখালীর মাইজদীকোর্টে দেশের সর্বোচ্চ ৩৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এদিন দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল সাতক্ষীরার কয়রায় ৩৫.৫ ডিগ্রি এবং সর্বনিম্ন ছিল কিশোরগঞ্জের নিকলীতে ২০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
পরবর্তী কয়েক দিনের আবহাওয়া
রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং অন্যান্য বিভাগের দু-এক জায়গায় বুধবার বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে বৃষ্টির তীব্রতা বাড়তে পারে। এই তিন বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। এ ছাড়া আগামী পাঁচ দিন দেশের উত্তরাঞ্চলে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।
নদ-নদীর পরিস্থিতি ও বন্যা পূর্বাভাস
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, দেশের নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। একদিনের ব্যবধানে তিনটি নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে চলে আসায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে।
বর্তমানে সুনামগঞ্জের নালজুর নদী (জগন্নাথপুর পয়েন্ট), নেত্রকোণার সোমেশ্বরী নদী (কলমাকান্দা পয়েন্ট) এবং মগরা নদী (নেত্রকোণা পয়েন্ট)—এই তিনটি পয়েন্টে পানি প্রাক-মৌসুমি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
পাউবো জানায়, আগামী দুই দিন সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি হ্রাস পেতে পারে, যা কুশিয়ারা অববাহিকার নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাবে। এ ছাড়া নেত্রকোণা, কিশোরগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার নদ-নদীর পানি স্থিতিশীল বা হ্রাস পেতে পারে, যার ফলে হাওর সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের পরিস্থিতিরও উন্নতি হবে।