সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
ঈদুল ফিতরে সড়কে ১৭০ জনের মৃত্যুর দায় অনেক সময় যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের ওপরই বর্তায় বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
তিনি বলেন, “গত ঈদে এলজিআরডির আওতাধীন স্থানীয় সড়কগুলোতে প্রায় ১৭০ জনের মৃত্যু হলেও দায় অনেক সময় যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের ওপরই বর্তায়”।
সচিবালয়ে ঈদুল আজহায় নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিতে আয়োজিত প্রস্তুতিমূলক সভা শেষে সোমবার এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, “নিরাপদ ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে শুধু যোগাযোগ মন্ত্রণালয় নয়, হাইওয়ে পুলিশ, বিআরটিএ, স্থানীয় প্রশাসন ও এলজিআরডিসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে”।
মন্ত্রী বলেন, “দায় নিতে আমাদের সমস্যা নেই। কিন্তু সবকিছু যে আমার একার নিয়ন্ত্রণে নয়, সেটাও বুঝতে হবে”।
সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে শেখ রবিউল আলম বলেন, “দেশে প্রতি বছর প্রায় সাড়ে চার হাজার থেকে পাঁচ হাজার মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান। ২০২৪ সালে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫ হাজার ৩৮৪ জনে, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। গত ঈদুল ফিতরের ১১ দিনে সারা দেশে ১৭০ জন নিহত হন। এর মধ্যে মহাসড়কে প্রাণ হারান ৪৩ জন”।
পরিবহন মন্ত্রী বলেন, “মহাসড়কে অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশপথ, ব্যাটারিচালিত যানবাহন এবং ছোট সড়ক থেকে সরাসরি ৯০ ডিগ্রি কোণে মহাসড়কে ওঠা দুর্ঘটনার বড় কারণ। এসব ঝুঁকি কমাতে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় সংযোগ পথগুলোকে ‘লেফট লেন’ পদ্ধতিতে আনার কাজ শুরু হয়েছে”।
তিনি বলেন, “রাস্তা ব্যবস্থাপনা একটি সমন্বিত বিষয়। আমি মহাসড়ক তৈরি করি, এলজিআরডি স্থানীয় সড়ক করে। রুট পারমিট দেয় কমিটি, বিআরটিএ ফিটনেস দেয়, হাইওয়ে পুলিশ তদারকি করে। কিন্তু দুর্ঘটনা ঘটলেই সব দায় এসে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের ওপর পড়ে”।
কুমিল্লার একটি দুর্ঘটনার উদাহরণ টেনে মন্ত্রী বলেন, “স্থানীয় সড়ক ৯০ ডিগ্রি কোণে মহাসড়কের সঙ্গে যুক্ত থাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। এ ধরনের নকশাগত ত্রুটি এলজিআরডির আওতায় হলেও প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় যোগাযোগ মন্ত্রণালয়কেই”।
সড়কে শৃঙ্খলা আনতে রাজধানী ও গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে এআই ক্যামেরা চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। তবে এটি বাস্তবায়নে সময় লাগবে বলে উল্লেখ করেন।
ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে তিনি বলেন, “সবকিছু একসঙ্গে করা সম্ভব নয়। ধাপে ধাপে করতে হবে”।
ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত যাত্রীচাপ সামাল দিতে ৬৯টি মোবাইল টিম, হাইওয়ে পুলিশ ও বিআরটিএর বিশেষ টিম মাঠে থাকবে বলেও জানান মন্ত্রী।
অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বা অনিয়মের অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়েছি, তাদের বিরুদ্ধে জরিমানা ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও হবে”।
কোরবানির ঈদে মহাসড়কের পাশে পশুর হাট বসতে দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে এলজিআরডি ইতোমধ্যে সম্মতি দিয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান সেতুমন্ত্রী।
সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করে মন্ত্রী বলেন, “গতবারের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এবার আরও ভালো ব্যবস্থাপনার চেষ্টা করছি। আমরা সর্বোচ্চ সক্ষমতা দিয়ে কাজ করছি”।