প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১০ মে ২০২৬ ২১:১৪ পিএম
পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মহিদুল ইসলাম। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর একজন চৌকস, জনবান্ধব ও পেশাদার কর্মকর্তা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের ২৪তম ব্যাচের কর্মকর্তা মো. মহিদুল ইসলাম পিপিএম। বর্তমানে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম প্রিভেনশন) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। তবে উত্তরাবাসীর কাছে তিনি কেবল একজন উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তাই নন, বরং অপরাধ দমনে এক আস্থার নাম।
অপরাধ দমনে আপসহীন নেতৃত্ব
উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে মহিদুল ইসলামের বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও দূরদর্শী পদক্ষেপ ওই অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনে। বিশেষ করে উত্তরার ত্রাস হিসেবে পরিচিত ‘কিশোর গ্যাং’ নির্মূলে তিনি রীতিমতো যুদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন। মাদকের বিরুদ্ধে তার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি এবং তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক অভিযানগুলো অপরাধীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে আনে।
ক্লু-লেস মামলার রহস্য উদঘাটন
পেশাদার জীবনে অসংখ্য চাঞ্চল্যকর ও লোমহর্ষক ঘটনার রহস্য উন্মোচন করেছেন এই কর্মকর্তা। উত্তরার দিয়াবাড়িতে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে এক কিশোরকে গলা কেটে হত্যার ক্লু-লেস মামলার জট খোলা ছিল তার কর্মজীবনের অন্যতম বড় সাফল্য। এ ছাড়া হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন এবং ‘র্যাব’ পরিচয়ে কোটি টাকা ডাকাতি করা আন্তঃজেলা চক্রকে আইনের আওতায় এনে তিনি নিজের পেশাদারিত্ব ও তদন্ত কৌশলের মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন।
সংকটকালীন সাহসী ভূমিকা
শুধু অপরাধ দমনই নয়, জাতীয় ও স্থানীয় বিভিন্ন সংকটে মহিদুল ইসলাম ছিলেন সম্মুখসারির যোদ্ধা। মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের কাছে বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ধার তৎপরতা তদারকি করেন তিনি। এ ছাড়া নাশকতাকারীদের হাত থেকে উত্তরা স্কয়ার বিল্ডিং রক্ষায় তার সুনিপুণ কৌশল সর্বমহলে প্রশংসিত হয়। বিশেষ করে গত ৫ই আগস্ট পরবর্তী অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে উত্তরার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি অত্যন্ত সাহসী ও অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার ও শিক্ষা
গাইবান্ধার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম নেওয়া মো. মহিদুল ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগ থেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। ২০০৫ সালে পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেওয়ার পর তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছেন। ২০০৯ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত পূর্ব তিমুর এবং ২০১৩-১৪ সালে সুদান দারফুরে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে তিনি তার কর্মদক্ষতার স্বাক্ষর রাখেন। কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি মর্যাদাপূর্ণ ‘পিপিএম’ পদকেও ভূষিত হয়েছেন।
বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার ও শিক্ষা
গাইবান্ধার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম নেওয়া মো. মহিদুল ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগ থেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। ২০০৫ সালে পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেওয়ার পর তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও দেশের নাম উজ্জ্বল করেছেন। ২০০৯ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত পূর্ব তিমুর এবং ২০১৩-১৪ সালে সুদান দারফুর জাতিসংঘ মিশনে দায়িত্ব পালনকালে তিনি তার কর্মদক্ষতার স্বাক্ষর রাখেন।
ব্যক্তিগত জীবন ও প্রত্যাশা
ব্যক্তিগত জীবনে এক কন্যাসন্তানের জনক এই কর্মকর্তা তার সততা, নিষ্ঠা ও নিরহংকারী আচরণের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। অপরাধমুক্ত সমাজ বিনির্মাণ এবং পুলিশের সেবাকে সরাসরি মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে তার এই নিরলস প্রচেষ্টা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে—এমনটাই প্রত্যাশা উত্তরাবাসী ও তার সহকর্মীদের।