নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি। ছবি: বৃষ্টির ফেসবুক একাউন্ট থেকে
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির লাশ দেশের উদ্দেশে পাঠানো হয়েছে। ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাত ৮টা ৫০ মিনিটে তার মরদেহ বহনকারী এমিরেটসের ফ্লাইটটি ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে লাশ বিমানে তোলার সময় বিমানবন্দরে মিয়ামির বাংলাদেশ কনস্যুলেটের একজন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসির বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মোর্তোজা তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানান। আজ শনিবার সকালে লাশটি ঢাকায় আসার কথা রয়েছে।
গোলাম মোর্তোজা তার পোস্টে জানিয়েছেন, এই যাত্রায় ট্রানজিট হবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে। দুবাইয়ে ফ্লাইট পরিবর্তন হবে। ফ্লাইটটি (ইকে ০৫৮২) বৃষ্টির লাশ নিয়ে ঢাকায় পৌঁছবে শনিবার সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে।
ফ্লোরিডার ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার পিএইচডি শিক্ষার্থী ছিলেন বৃষ্টি (২৭)। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনও (২৭) নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। তার লাশ ৪ মে ঢাকায় আসে।
বৃষ্টি কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি করছিলেন। আর লিমন পিএইচডি করছিলেন ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে। তাদের মরণোত্তর ডক্টরেট ডিগ্রি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা কর্তৃপক্ষ।
গত ১৬ এপ্রিল লিমন ও বৃষ্টি নিখোঁজ হন। তাদের একজন বন্ধু বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নজরে আনেন। পরে পুলিশ নিশ্চিত করে, দুজনই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে লিমনের রুমমেট মার্কিন নাগরিক হিশাম আবুঘারবেহকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গত ১ মে হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ অফিস বৃষ্টির মরদেহ শনাক্ত করে। এরপরই ওয়াশিংটনে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এবং মিয়ামির বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল, নিহত শিক্ষার্থীর পরিবারের সদস্য, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, ট্যাম্পায় বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসী এবং স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সব আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে।
গত বুধবার বাদ জোহর ট্যাম্পা বে এরিয়ার ইসলামিক সোসাইটি মসজিদে বৃষ্টির জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার শিক্ষার্থী, মিয়ামির বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কর্মকর্তা, গণমাধ্যম প্রতিনিধি এবং প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যরা অংশ নেন।
আদালতের নথি অনুযায়ী অভিযুক্ত হিশাম আবুঘারবেহরের বিরুদ্ধে অস্ত্রসহ প্রথম ডিগ্রির দুটি হত্যার অভিযোগসহ আরও কয়েকটি অভিযোগ আনা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে তিনি মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি হতে পারেন, যদিও প্রসিকিউটররা এখনও এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাননি। তারা আলোচনার মাধ্যমে শাস্তির মাত্রা নির্ধারণ করবেন।