খুলনা অফিস
প্রকাশ : ০৮ মে ২০২৬ ১৪:৩৭ পিএম
শুক্রবার সকালে খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতির আয়োজনে সমিতির মিলানয়তনে কথা বলেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ সংবিধানসম্মত নয় এবং এটি সংবিধানের সঙ্গে প্রতারণার শামিল বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতির আয়োজনে সমিতির মিলানয়তনে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা ও নবীন বরণ অনুষ্ঠানে শুক্রবার সকাল ১১টায় এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, “১৯৭৩ সালের পর সংবিধান অনুযায়ী আদেশ জারির মাধ্যমে আইন প্রণয়নের ক্ষমতা বিলুপ্ত হয়ে গেছে। ফলে সেই ব্যবস্থাকে পাশ কাটিয়ে নতুন করে আদেশ জারি করা সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক”।
আইনমন্ত্রী বলেন, “আগের যে আদেশ করার ক্ষমতা ছিল, সেটা ৭৩ সাল থেকেই চিরতরে বন্ধ হয়ে গেছে। এখন সেই সাংবিধানিক বাস্তবতা বাদ দিয়ে আবার আদেশ জারি করে একটি ক্যামোফ্লেজ তৈরি করা হয়েছে। আইনের ভাষায় এটাকে বলা যায় ফ্রড অন দ্যা কন্সটিটিউশান। ফলে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ নিজেই অবৈধ”।
গণভোট অধ্যাদেশ বা রেফারেন্ডাম অর্ডিন্যান্সের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আইনমন্ত্রী বলেন, “এই অধ্যাদেশ দুই কারণে Void ab initio বা শুরু থেকেই অবৈধ।
“প্রথমত, যে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ কার্যকর করার জন্য গণভোট অধ্যাদেশ আনা হয়েছে, সেই মূল আদেশই যদি অসাংবিধানিক হয়, তাহলে তার ভিত্তিতে তৈরি অধ্যাদেশও বৈধ হতে পারে না।
দ্বিতীয়ত, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৯৩ অনুযায়ী এমন কোনো অধ্যাদেশ জারি করা যায় না, যার মাধ্যমে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সংবিধান সংশোধন করা হয়। অথচ গণভোট অধ্যাদেশের উদ্দেশ্যই ছিল সংবিধান সংশোধনের সমতুল্য ব্যবস্থা তৈরি করা”।
আইনমন্ত্রী বলেন, “যাদেরকে জনগণ প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত করেনি, তাদের হাতে জনগণের নির্বাচিত সংসদের সিদ্ধান্তের ওপর ভেটো ক্ষমতা দেওয়া উচিত নয়”।
যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “অনেকে বলেন, আমেরিকায় সিনেট আছে, তাদেরও ভেটো ক্ষমতা আছে। কিন্তু আমেরিকার সিনেটররা জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হন। পৃথিবীর যেসব দেশে আপার হাউসের সদস্যরা জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন, সেসব দেশেই তারা আইন প্রণয়নে অংশ নেন। এখানে সেই বৈশিষ্ট্য নেই”।
আইন ও সংবিধানের বাইরে গিয়ে কোনো রাজনৈতিক ব্যবস্থা টেকসই হতে পারে না বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন নজরুল ইসলাম মঞ্জু এবং অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসেন হেলাল। সভাপতিত্ব করেন অ্যাডভোকেট মোল্লা মোহাম্মদ মাসুম রশীদ।