প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৫ মে ২০২৬ ২৩:০৬ পিএম
ইডিসিএল লোগো। ছবি: বাসস
দেশের সরকারি ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড (ইডিসিএল) ভ্যাকসিন উৎপাদন ও গবেষণায় এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে। মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে একটি বিশাল ভ্যাকসিন ও রিসার্চ কমপ্লেক্স স্থাপনের পাশাপাশি বিদ্যমান অবকাঠামোতেই স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি বহুমুখী প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব উদ্যোগ সফল হলে বাংলাদেশ আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ভ্যাকসিন আমদানিনির্ভরতা কাটিয়ে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করবে।
ইডিসিএল সূত্র জানায়, প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমএস সামাদ মৃধার নেতৃত্বে ভ্যাকসিন উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি দুই ধরনের প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে বিদ্যমান অবকাঠামো ব্যবহার করে মাত্র ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি উৎপাদন ইউনিট স্থাপনের কাজ চলছে। সেখানে এন্টি-র্যাবিস, এন্টি-ভেনম, হাম-রুবেলা এবং ডেঙ্গু ভ্যাকসিন উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা জানান, নতুন ইউনিট চালু হলে বছরে প্রায় ১০ কোটি টাকার ভ্যাকসিন উৎপাদন সম্ভব হবে এবং দুই থেকে তিন বছরের মধ্যেই প্রকল্পের ব্যয় উঠে আসবে। সরকারের বর্তমান চাহিদা অনুযায়ী দেশে বছরে ডেঙ্গুর প্রায় ৬ লাখ, এন্টি-র্যাবিস ১৫ লাখ, হাম-রুবেলা ৩২ লাখ এবং এন্টি-ভেনম প্রায় ৫ হাজার ভায়াল প্রয়োজন হয়।
ইডিসিএলের পরিকল্পনায় থাকা নতুন প্ল্যান্টে বছরে ৯০ লাখ থেকে ১ কোটি ভায়াল পর্যন্ত ভ্যাকসিন উৎপাদনের সক্ষমতা গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে দেশের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিদেশে ভ্যাকসিন রপ্তানির সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে প্রায় সাড়ে সাত হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে একটি বৃহৎ ভ্যাকসিন ও রিসার্চ কমপ্লেক্স স্থাপনের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। সেখানে সব ধরনের ভ্যাকসিন নিয়ে গবেষণা, নতুন বায়োটেকনোলজি পণ্য উন্নয়ন এবং জেনারেল ফার্মাসিউটিক্যাল ইউনিট স্থাপনের উদ্যোগ রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ শুধু সরকারি চাহিদা পূরণেই সক্ষম হবে না, বরং আন্তর্জাতিক বাজারেও প্রতিযোগিতামূলকভাবে ভ্যাকসিন রপ্তানি করতে পারবে। বিশেষ করে আফ্রিকা, দক্ষিণ এশিয়া এবং উন্নয়নশীল বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি ভ্যাকসিনের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ করতে হলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রি-কোয়ালিফিকেশন, গুড ম্যানুফ্যাকচারিং প্র্যাকটিস (জিএমপি) এবং আন্তর্জাতিক বায়োসেফটি মান পূরণ করা বড় চ্যালেঞ্জ হবে। পাশাপাশি দক্ষ মানবসম্পদ, গবেষণা অবকাঠামো ও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
ইডিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমএস সামাদ মৃধার ফার্মাসিউটিক্যাল ও ভ্যাকসিন খাতে প্রায় ৪৫ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি অতীতে কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘ সময় কাজ করেছেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, তার আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা প্রতিষ্ঠানটির আধুনিকায়ন, প্রযুক্তি ব্যবস্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
ইডিসিএল কর্তৃপক্ষ আশা করছে, আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের ভ্যাকসিন ও ওষুধ খাতকে আরও শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের নতুন খাত হিসেবেও ভ্যাকসিন রপ্তানি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।