চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ০৪ মে ২০২৬ ১০:৩৯ এএম
ইস্টার্ন রিফাইনারি। ছবি: সংগৃহীত
প্রায় এক মাস বন্ধ থাকার পর আবারও চালু হতে যাচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত একমাত্র জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারির কার্যক্রম। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে দীর্ঘ আড়াই মাস পর আগামীকাল এক লাখ টন ক্রুড অয়েল দেশে আসবে। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আমদানি করা ওই ক্রুড অয়েল জাহাজ থেকে খালাসের পর ৭ মে থেকে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পুনরায় চালু হবে।
ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি লিমিটেডের উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্ল্যানিং অ্যান্ড শিপিং) মো. মোস্তাফিজুর রহমান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘৭ মে ইস্টার্ন রিফাইনারির অপারেশন কার্যক্রম পুনরায় চালু হবে। সৌদি আরব থেকে আমদানি করা এক লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে একটি জাহাজ মঙ্গলবার চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছাবে। ওই জাহাজ থেকে তেল খালাসের পর ৭ মে ইস্টার্ন রিফাইনারিতে পরিশোধন কার্যক্রম পুনরায় চালু হবে।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘শিগগির ক্রুড অয়েল সংকট হওয়ার আশঙ্কা নেই। এই জাহাজের ক্রুড অয়েল পরিশোধন কার্যক্রম শেষ হওয়ার আগেই নতুন করে আরও ক্রুড অয়েল আমদানি করা হচ্ছে। কার্যক্রম চালুর পর স্বাভাবিক সময়ের মতো ক্রুড অয়েল আসতে থাকবে।’
এর আগে ক্রুড অয়েল সংকটে গত ১৪ এপ্রিল ইস্টার্ন রিফাইনারির অপারেশন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠানটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাওয়ার পর এটি প্রথম ঘটনা। ক্রুড অয়েল সংকটে প্রথমবারের মতো প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) তথ্য অনুযায়ী, ইস্টার্ন রিফাইনারিতে পরিশোধনের জন্য সৌদি আরবের এরাবিয়ান লাইট এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে মারবান ক্রুড অয়েল আমদানি করা হয়। চাহিদার ভিত্তিতে দুটি প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতি বছর ১৫ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল আমদানি করা হয়। কিন্তু ইরান যুদ্ধের কারণে ক্রুড অয়েল আমদানি বন্ধ হয়ে যায়। যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় গত ১৮ ফেব্রুয়ারির পর আর কোনো ক্রুড অয়েল দেশে আনা সম্ভব হয়নি। এতে ক্রুড অয়েল সংকটে বন্ধ হয়ে যায় ইস্টার্ন রিফাইনারির অপারেশন কার্যক্রম। এ অবস্থায় বিকল্প উপায়ে সৌদি আরব থেকে হরমুজ প্রণালীর পরিবর্তে লোহিত সাগর দিয়ে এক লাখ টন ক্রুড অয়েল আমদানির কার্যক্রম শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। গত ২১ এপ্রিল এক লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজ সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। জাহাজটি মঙ্গলবার চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে এসে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
বিপিসির আমদানি করা ক্রুড অয়েল পরিবহনের কাজ করে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি)। প্রতিষ্ঠানটির মহাব্যবস্থাপক (চাটারিং অ্যান্ড ট্রাম্পিং ক্যাপ্টেন মো. মুজিবুর রহমান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘দেশের জ্বালানি সংকট নিরসনে এমটি নিনেমিয়া নামের একটি জাহাজে করে এক লাখ টন ক্রুড অয়েল আমদানি করা হচ্ছে। তেল বোঝাই করার পর জাহাজটি ২১ এপ্রিল সৌদির স্থানীয় সময় রাত ৩টায় (বাংলাদেশ সময় ভোর ৬টা) ইয়ানবু বন্দর থেকে রওনা দিয়েছে। ৫ মে মধ্যরাতে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে এসে পৌঁছাবে। এরপর ৬ মে জাহাজটি থেকে তেল খালাস শুরু হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, ‘চলতি মাসের ২২/২৩ তারিখে আরও এক লাখ টন ক্রুড অয়েল একটি জাহাজ দেশে আসার সিডিউল রয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে এই তেলগুলো আমদানি করা হচ্ছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দর থেকে তেল লোড করার পর আগামী ১০ মে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশে রওনা দেবে। ২২ অথবা ২৩ মে জাহাজটি বন্দরে এসে পৌঁছাবে।’
এর আগে সর্বশেষ গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ইস্টার্ন রিফাইনারির জন্য এক লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে এসেছিল। এরপর মার্চ মাসে দুটি জাহাজে করে ক্রুড অয়েল আমদানির সিডিউল ছিল। কিন্তু ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করায় একটি জাহাজও ক্রুড অয়েল নিয়ে দেশে আসতে পারেনি।