ডিসিদের চাওয়া
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৪ মে ২০২৬ ০৮:৪৫ এএম
প্রশাসনিক স্বাধীনতা ও উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার প্রস্তাব জানিয়েছেন ডিসিরা। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
মাঠ প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) বার্ষিক সম্মেলন ঘিরে এবার নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে আয়োজিত এবারের সম্মেলনে প্রশাসনিক স্বাধীনতা, উন্নয়ন কার্যক্রমের গতি বৃদ্ধি এবং জনসেবার মানোন্নয়নÑ এই তিনটি বিষয় সামনে রেখে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবনা তুলে ধরেছেন ডিসিরা।
বিশেষ করে কাজের ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ না করার দাবি উঠে এসেছে জোরালোভাবে, যা এবারের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
চার দিনব্যাপী এই সম্মেলনের প্রথম দিনেই ডিসিরা জাতীয়, আঞ্চলিক ও জেলা পর্যায়ের উন্নয়ন সংক্রান্ত শতাধিক প্রস্তাব তুলে ধরেন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাধ্যমে ১৭২৯টি প্রস্তাব থেকে বাছাই করা মোট ৪৯৮টি এবারের সম্মেলনে আলোচনার জন্য অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, যোগাযোগ, কৃষি, শিল্পায়ন থেকে শুরু করে প্রশাসনিক সংস্কারÑ প্রায় সব খাতেই এসব প্রস্তাব বিস্তৃত। সম্মেলনে এসব প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেবেন সরকারের নীতিনির্ধারকরা।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও প্রশাসনের নতুন প্রত্যাশা
২০২৪ সালের অভ্যুত্থানের পর ৫ আগস্ট ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবারের জেলা প্রশাসক সম্মেলন। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠনের পর এটিই প্রথম বড় পরিসরের প্রশাসনিক সমন্বয় বৈঠক। ফলে মাঠ প্রশাসন থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় পর্যায় পর্যন্ত এই সম্মেলন ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে বাড়তি আগ্রহ ও প্রত্যাশা।
সূত্র বলছে, দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা পূর্ববর্তী সরকারের আমলে জনপ্রতিনিধিদের আচরণ নিয়ে নানান অভিযোগ ছিল। অনেক ক্ষেত্রে মাঠ প্রশাসনের কাজে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, চাপ প্রয়োগ এমনকি অনাকাঙ্ক্ষিত বদলি বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থার ঘটনাও ঘটেছে। এসব অভিজ্ঞতার আলোকে বর্তমান সময়ে ডিসিরা প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকারপ্রধানের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে কয়েকজন ডিসি স্পষ্টভাবে বলেন, প্রশাসনের পেশাগত দায়িত্ব পালনে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পরিবেশ জরুরি। তারা মনে করেন, মাঠ পর্যায়ে নিরপেক্ষতা নিশ্চিত না হলে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন ব্যাহত হয় এবং নাগরিক সেবার মানও কমে যায়।
মুক্ত আলোচনায় উঠে এলো বাস্তব সমস্যার চিত্র
সম্মেলনের উদ্বোধনের পর অনুষ্ঠিত অনির্ধারিত মুক্ত আলোচনায় ডিসিরা সরাসরি তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। বিভাগীয় কমিশনারসহ কয়েকজন জেলা প্রশাসক মাঠ প্রশাসনের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কথা বলেন। এর মধ্যে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সীমাবদ্ধতা। উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রশাসনিক জটিলতা। রাজনৈতিক চাপ ও হস্তক্ষেপ, গ্রামীণ অবকাঠামোর দুর্বলতা ও কৃষি খাতে আধুনিকায়নের ঘাটতি। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়নে নানা অসঙ্গতি এবং নাগরিক সেবা প্রদানে প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার বিষয়ও উঠে আসে। ডিসিরা মনে করেন, এসব সমস্যা সমাধানে সমন্বিত নীতি ও কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ জরুরি। তারা প্রত্যাশা করেন, সম্মেলনের আলোচনার ভিত্তিতে সরকার বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নেবে।
পরিবেশ সুরক্ষায় ভিন্ন প্রস্তাব
শিল্পায়ন ও পরিবেশ সুরক্ষায় গাজীপুর জেলার প্রশাসক নুরুল করিম ভূঁইয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব দিয়েছেন। নির্দিষ্ট অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলে শিল্পকারখানা স্থানান্তরের কথা বলেছেন তিনি। তার যুক্তি, এতে শিল্পবর্জ্য নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে, পরিবেশদূষণ কমবে এবং কৃষিজমি সুরক্ষিত থাকবে। একই সঙ্গে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনেও সহায়ক হবে। কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক মিজ সোহানা নাসরিন দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় সরকারি হাসপাতালে প্রবীণদের জন্য পৃথক সেবা চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান ব্যবস্থায় দীর্ঘ অপেক্ষা ও ভিড়ের কারণে প্রবীণরা কাঙ্ক্ষিত সেবা পান না। বিশেষায়িত সেবা চালু হলে স্বাস্থ্য খাতের দক্ষতা বাড়বে।
প্রযুক্তিগত বিভ্রান্তি মোকাবিলায় পৃথক সেন্টার স্থাপন
ডিজিটাল যুগে সামাজিক মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে তথ্য বিভ্রান্তি মোকাবিলায় জেলা পর্যায়ে ফ্যাক্ট-চেকিং সেন্টার স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছেন ডিসিরা। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আইসিটি বিভাগ এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে পারে। সরকারি কর্মকর্তাদের বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদন (এসিআর) অনলাইনে করার প্রস্তাব এসেছে। এতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আরও যেসব প্রস্তাব দিলেন ডিসিরা
নীলফামারী জেলা প্রশাসক নায়েরুজ্জামান সৈয়দপুরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে উন্নীত করা, কারাগারের নিরাপত্তা বাড়াতে ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়নের প্রস্তাব করেছেন। ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছেন। তিনি বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য এখন বড় একটি সামাজিক সমস্যা, যা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে মোকাবিলা করা জরুরি। যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান দেওয়ানি আদালত ও ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে আপিল মামলা দাখিলে তামাদি মওকুফের সুযোগ রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন। এতে বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি কমবে বলে তিনি মনে করেন।
সম্মেলনে ডিসিরা তাদের নিজ নিজ জেলার সম্ভাবনা ও সীমাবদ্ধতার চিত্র তুলে ধরেন। কোথাও পর্যটনের সম্ভাবনা, কোথাও কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির সুযোগ, আবার কোথাও শিল্পায়নের সম্ভাবনা রয়েছে। এসব সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে কেন্দ্রীয় নীতির সঙ্গে স্থানীয় বাস্তবতার সমন্বয় জরুরি বলে মনে করেন তারা। একই সঙ্গে তারা বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কথাও তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে ভূমি ব্যবস্থাপনায় জটিলতা, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতার ঘাটতি, প্রকল্প বাস্তবায়নে অর্থছাড়ে বিলম্ব ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার অভাব। এসব সমস্যা সমাধানে মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে সরাসরি সমন্বয় জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
নীতি ও বাস্তবায়নের সমন্বয় জোরদারের চেষ্টা
সম্মেলনের কার্য-অধিবেশনগুলোতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা, সিনিয়র সচিব ও সচিবরা উপস্থিত থেকে ডিসিদের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন। এতে নীতিনির্ধারণ ও বাস্তবায়নের মধ্যে সমন্বয় বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। ডিসিরা মনে করেন, কেন্দ্রীয় পর্যায়ে নেওয়া অনেক সিদ্ধান্ত মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়নের সময় নানা জটিলতায় পড়ে। তাই নীতি প্রণয়নের সময় মাঠ প্রশাসনের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। সম্মেলনে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির পরিধি বৃদ্ধি ও সেবার মানোন্নয়নের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। নাগরিক সেবাকে আরও সহজ, দ্রুত ও স্বচ্ছ করতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম সম্প্রসারণের প্রস্তাবও এসেছে। জেলা পর্যায়ে পর্যটনের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার প্রস্তাব এসেছে। পর্যটন উন্নয়নের মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতি চাঙ্কা করা সম্ভব বলে মনে করছেন ডিসিরা। তারা বলেন, পর্যটন খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো গেলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং আঞ্চলিক বৈষম্য কমবে।
এবারের সম্মেলন চার দিনের
প্রতিবছর তিন দিনব্যাপী ডিসি সম্মেলন এবার চার দিনে উন্নীত করা হয়েছে। এতে আলোচনার পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো গভীরভাবে পর্যালোচনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। গত বছর অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ৩৫৪টি প্রস্তাব উঠেছিল। এবার তা বেড়ে ৪৯৮-এ দাঁড়িয়েছে, যা মাঠ প্রশাসনের বাড়তি সক্রিয়তা ও প্রত্যাশার প্রতিফলন। আজ সোমবার দ্বিতীয় দিন থেকে শুরু হওয়া কার্য-অধিবেশনগুলোতে মন্ত্রী ও সচিবরা ডিসিদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করবেন। এতে প্রস্তাবগুলোর বাস্তবায়নযোগ্যতা যাচাই এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
সহযোগিতা চাইলেন মন্ত্রীরা
গতকাল রবিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে চার দিনের এ সম্মেলন উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এবারের সম্মেলনে মোট ৩৪টি অধিবেশন হবে। গতকাল চারটি অধিবেশনের মধ্যে প্রথম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও আওতাধীন সংস্থাসমূহ; দ্বিতীয় অধিবেশনে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, স্বাস্থ্যশিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগ; তৃতীয় অধিবেশনে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়; চতুর্থ ও দিনের শেষ অধিবেশনে আইন ও বিচার বিভাগ, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ওপর আলোচনা হয়।
অধিবেশন শেষে ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেছেন, ‘লক্ষ্যমাত্রার ৮১ শতাংশ শিশু হামের টিকার আওতায় এসেছে। এখন এক্ষেত্রে কোনো ‘ঘাটতি’ বা ‘দুর্বলতা’ নেই। টিকার ‘যথেষ্ট মজুদ’ থাকার দাবি করে তিনি বলেন, হামের টিকা দেওয়া চলছে। টিকা না পাওয়ার সংখ্যা কমে আসছে। পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে এবং মৃত্যুর হারও কমে আসছে। তবে অ্যান্টিবডি তৈরি হতে একটু সময় লাগে। তিনি আরও বলেন, শিগগির সবাইকে টিকার আওতায় আনা হবে। এখনও অভিযান চলছে। দুই-চার দিনের ভেতর ১০০ শতাংশ লক্ষ্য পূরণ করে ফেলব হামের টিকার ক্ষেত্রে। আমাদের কোনো রকম স্টক ঘাটতি নেই, কোনো রকম দুর্বলতা নেই। সম্মেলনে জেলা প্রশাসকদের কী নির্দেশনা দেওয়া হলোÑ এমন প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ওনাদের কাছে সহযোগিতা চেয়েছি। যেমনÑ ডেঙ্গু আসছে। তাই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ওপর জোর দেওয়ার জন্য বলেছি।
সম্মেলনে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সেশন শেষে মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে কোনো দপ্তর বা বিভাগে অনিয়ম বা দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলেই তা আমলে নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে যত দপ্তর রয়েছে সেখানে সুনির্দিষ্ট কোনো দুর্নীতি, অনিয়ম বা অভিযোগ থাকলে সেগুলো সরাসরি আমাদের জানাতে বলেছি। এসব অভিযোগ আমরা সুনির্দিষ্টভাবে মোকাবিলা করব। মাঠ পর্যায়ে তাদেরকে ভিজিল্যান্স (সতর্ক) থাকতে বলেছি। এসব অভিযোগে আমরা অ্যাকশন নিচ্ছি কি না সেটাও দেখতে বলেছি।
কওমি মাদ্রাসার জন্য সমন্বিত নীতিমালা তৈরির কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। সম্মেলনের বৈঠক শেষে তিনি বলেন, কওমি মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থাকে জাতীয় মূলধারার সঙ্গে সমন্বয় করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিক দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং তাদের কাছ থেকে ইতিবাচক প্রস্তাব পাওয়া গেছে। তিনি জানান, কওমি শিক্ষার বিভিন্ন স্তরকে সাধারণ শিক্ষার সঙ্গে সমমান নির্ধারণের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। কোন স্তরটি মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক বা ডিগ্রি পর্যায়ের সমতুল্য হবে, তা নির্ধারণে আলোচনা চলছে। কওমি মাদ্রাসার শিক্ষাকাঠামোকে আরও যুগোপযোগী করতে প্রয়োজনীয় সংস্কার আনা হবে। একই সঙ্গে কারিগরি ও আধুনিক শিক্ষার কিছু উপাদান সংযোজনের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন এ সময় উপস্থিত ছিলেন।