বাসস
প্রকাশ : ০৩ মে ২০২৬ ২১:১৩ পিএম
ঢাকার সিরডাপ মিলনায়তনে রবিবার নোয়াব এবং সম্পাদক পরিষদের যৌথ আয়োজনে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। ছবি: বাসস/পিআইডি
গণমাধ্যম শিল্পকে কেবল মুনাফা অর্জনের মাধ্যম হিসেবে দেখলে হবে না, এটি রাষ্ট্র ও সমাজ পুনর্গঠনের অত্যন্ত দায়িত্বশীল শিল্প বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, সরকার গণমাধ্যমকে রাষ্ট্র ব্যবস্থার একটি অপরিহার্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করে। তাই এই শিল্পের বিকাশে নিয়ন্ত্রণের বদলে সহযোগিতামূলক সংস্কৃতি বা ‘ফ্যাসিলিটেশন’ নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।
ঢাকার সিরডাপ মিলনায়তনে রবিবার ‘বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে সংবাদপত্র মালিকদের সংগঠন নোয়াব এবং সম্পাদক পরিষদের যৌথ আয়োজনে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নিউ এজ সম্পাদক ও সম্পাদক পরিষদের সভাপতি নূরুল কবীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, নোয়াব সভাপতি ও দৈনিক মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, ডেইলি স্টার সম্পাদক ও সম্পাদক পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মাহফুজ আনাম।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও কালের কণ্ঠ সম্পাদক হাসান হাফিজ, গণমাধ্যম সংস্থার কমিশন প্রধান কামাল আহমেদ, ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ, ইনকিলাব সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দিন। সম্পাদক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও বণিক বার্তার সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা গণমাধ্যমের ওপর কোনো কিছু চাপিয়ে দিতে চাই না বরং এই শিল্পের বিকাশে আমরা একটি ‘হেলদি রেজুলেশন’ বা সুস্থ নীতিমালা তৈরি করতে চাই। প্রচলিত সরকারি কাঠামো অনেক ক্ষেত্রে ডিজিটাল যুগের সমস্যা মোকাবিলায় পিছিয়ে রয়েছে। তাই সমস্যা সমাধান বা বোঝার জন্য আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন’।
‘এ লক্ষ্যে সব অংশীজনের সমন্বয়ে একটি পরামর্শক কমিটি গঠন করা হবে, যার চূড়ান্ত লক্ষ্য হবে একটি গ্রহণযোগ্য ও স্বাধীন ‘গণমাধ্যম কমিশন’ গঠন’ বলেন তিনি।
উপাত্তহীন সংবাদের নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে সতর্ক করে মন্ত্রী বলেন, তথ্যের স্বাধীনতা মানে যেমন খুশি তেমন প্রচার নয়। বড় বড় সংবাদ প্রতিষ্ঠানগুলোকে উপাত্তহীন বা ধারণাভিত্তিক প্রতিবেদন তৈরি থেকে বিরত থাকতে হবে। তথ্যকে অবশ্যই বস্তুনিষ্ঠ ও ‘ক্লিন ইনফরমেশন’ হতে হবে।