প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৩ মে ২০২৬ ১২:২৫ পিএম
আপডেট : ০৩ মে ২০২৬ ১২:২৬ পিএম
শরিয়াহভিত্তিক পাঁচ দুর্বল ব্যাংকÑ এক্সিম, ফার্স্ট সিকিউরিটি, গ্লোবাল ইসলামী, ইউনিয়ন ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংককে একীভূত করে গত বছরের ২১ ডিসেম্বর ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’ গঠন করা হয়েছিল। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
শরিয়াহভিত্তিক পাঁচ দুর্বল ব্যাংকÑ এক্সিম, ফার্স্ট সিকিউরিটি, গ্লোবাল ইসলামী, ইউনিয়ন ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংককে একীভূত করে গত বছরের ২১ ডিসেম্বর ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’ গঠন করা হয়েছিল।
ভঙ্গুর আর্থিক অবস্থার উত্তরণ এবং গ্রাহক আস্থা পুনরুদ্ধারই ছিল এর মূল লক্ষ্য। তবে পাঁচ মাস অতিক্রান্ত হলেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। বরং আমানত ফেরতের ধীরগতি ও তারল্য সংকটে গ্রাহকদের ক্ষোভ ও অবিশ্বাস আরও ঘনীভূত হয়েছে।
এরই মধ্যে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের অস্তিত্বই হুমকিতে ফেলে দিয়েছে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের (এসআইবিএল) প্রস্থান উদ্যোগ। ব্যাংকটির সাবেক উদ্যোক্তা চেয়ারম্যান রেজাউল হকের নেতৃত্বে পাঁচজন পরিচালক সম্প্রতি এই সংক্রান্ত আবেদন বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশের ১৮(ক) ধারার সুযোগ নিয়ে পর্ষদ থেকে আলাদা হয়ে ব্যাংকটিকে এককভাবে পুনর্গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। একই পথে হাঁটার বিষয়ে অভ্যন্তরীণ আলোচনা চালাচ্ছে এক্সিম ব্যাংকও। বিশ্লেষকদের মতে, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ সমন্বয়হীনতা ও আস্থার ঘাটতিই এই বিচ্ছেদের সুরকে জোরালো করছে। তা ছাড়া সম্প্রতি কার্যকর হওয়া ব্যাংক রেজল্যুশন কাঠামোর ১৮(ক) ধারা একীভূত ব্যাংকিং ব্যবস্থায় নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। এই আইনের মাধ্যমে সাবেক মালিকদের ফেরার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
এদিকে এসআইবিএল তাদের আবেদনে দাবি করেছে, ১০ বছরের জন্য ১১ হাজার কোটি টাকার তারল্য সহায়তা পেলে তারা খেলাপি ঋণ ২৫ শতাংশে নামিয়ে এনে ব্যাংকটিকে লাভজনক করতে পারবে। তবে অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, সরকারি কোষাগার থেকে নেওয়া বিপুল অর্থ ফেরত দেওয়ার সক্ষমতা এই ব্যাংকগুলোর আছে কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান সম্প্রতি গণমাধ্যমকে জানান, সরকার স্থায়ীভাবে ব্যাংকগুলো পরিচালনা করতে চায় না; বরং পরিস্থিতি উন্নত হলে পুনরায় বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক এখন এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। একদিকে পুঞ্জীভূত ঋণের বোঝা ও গ্রাহক অসন্তোষ, অন্যদিকে কাঠামো ভেঙে পৃথক হওয়ার চেষ্টা। এই সংকট থেকে উত্তরণে নীতিগত স্থিতিশীলতা ও সুশাসন নিশ্চিত করা জরুরি। এখন সবার চোখ সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকেÑ এই ব্যাংক কি টিকে থাকবে, নাকি ব্যর্থতার তকমা নিয়ে এটি ব্যাংক খাতের ইতিহাসে আরেকটি তিক্ত অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখা দেবে?