× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ডিসি সম্মেলন শুরু আজ

সর্বাধিক প্রস্তাব স্বাস্থ্য খাত নিয়ে

বিশেষ প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৩ মে ২০২৬ ০৮:৪২ এএম

ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে সকাল সাড়ে ১০টায় ডিসি সম্মেলন উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে সকাল সাড়ে ১০টায় ডিসি সম্মেলন উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

বিএনপির নেতৃত্বে সরকার গঠনের পর প্রথমবারের মতো জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন উদ্বোধন হচ্ছে আজ রবিবার। ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে সকাল সাড়ে ১০টায় এ আয়োজনের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

এবারের ডিসি সম্মেলনে মাঠ প্রশাসন থেকে আসা ১ হাজার ৭২৯টি প্রস্তাব যাচাই-বাছাইয়ের পর কার্যপত্রে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে ৪৯৮টি। এই প্রস্তাবগুলোতে দেশের প্রশাসনিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের বাস্তব চিত্র উঠে এসেছে। তবে সবচেয়ে বেশি প্রস্তাব এসেছে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ সম্পর্কে। এক্ষেত্রে ৪৪টি প্রস্তাব এসেছে জেলা প্রশাসকদের কাছ থেকে। 

চার দিনের ডিসি সম্মেলন শেষ হবে আগামী ৬ মে বুধবার। এতে অংশ নিচ্ছেন দেশের আট বিভাগীয় কমিশনার ও ৬৪ জেলা প্রশাসক। গতকাল শনিবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিক-গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের এ ব্যাপারে ব্রিফ করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি। এ সময় অতিরিক্ত সচিব মো. হুমায়ুন কবির ও যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খান উপস্থিত ছিলেন।

সম্মেলনে থাকছে ৩৪টি অধিবেশন, যার মধ্যে ৩০টি কার্য অধিবেশন। এতে ৫৬টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ অংশ নেবে। আলোচনায় ভূমি ব্যবস্থাপনা, আইনশৃঙ্খলা, স্থানীয় সরকার, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, কর্মসংস্থান, সামাজিক নিরাপত্তা, ই-গভর্ন্যান্স, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবেশ সংরক্ষণসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলো প্রাধান্য পাবে।

সম্মেলন চলার সময় জেলা প্রশাসকরা রাষ্ট্রপতি, জাতীয় সংসদের স্পিকার ও প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। এছাড়া নির্বাচন কমিশন ও দুর্নীতি দমন কমিশনের সঙ্গে কার্য অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। এই মতবিনিময়গুলো মাঠ প্রশাসনের অভিজ্ঞতা ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। 

সরকারের নীতিনির্ধারণ, উন্নয়ন কর্মসূচির অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং মাঠ প্রশাসনের বাস্তব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় করণীয় নির্ধারণে প্রতিবছর এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। তবে গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে নতুন সরকার গঠনের পরিপ্রেক্ষিতে এবার এর গুরুত্ব ও তাৎপর্য আরও বেড়েছে। এ কারণে গত বছরের তুলনায় এক দিন বাড়িয়ে সম্মেলনকে চার দিনে বিস্তৃত করা হয়েছে। এতে ডিসিদের প্রস্তাবের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে গুরুত্ব পাচ্ছে বড় সংস্কার

প্রস্তাবগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি (৪৪টি) এসেছে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ সম্পর্কিত। এর মধ্যে ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র পুনর্গঠন, জনবল নিয়োগ ও ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা, রংপুরে এক হাজার শয্যার হাসপাতাল চালু এবং জেলা-উপজেলায় মানসিক স্বাস্থ্যসেবার প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলার বিষয়গুলো উল্লেখযোগ্য। এছাড়া হাসপাতালের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকীকরণ, মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রগুলোতে মিডওয়াইফারি পদ সৃষ্টি এবং চিকিৎসা অবকাঠামো উন্নয়নের প্রস্তাবও এসেছে।

শিক্ষা খাতে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে আইসিটি, গ্রন্থাগার বিজ্ঞান ও ধর্মীয় শিক্ষকের পদ সৃষ্টি, দরিদ্র প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য সম্পূর্ণ অবৈতনিক শিক্ষা চালু এবং বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য সরকারি ডোমেইনে ওয়েবসাইট তৈরির প্রস্তাব আলোচনায় এসেছে। কওমি মাদ্রাসার জন্য নীতিমালা প্রণয়ন এবং জাতীয় শিক্ষাক্রমকে আরও সমন্বিত করার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।

অবকাঠামো ও শিল্পায়নে উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা

অবকাঠামো উন্নয়নের প্রস্তাবগুলোর মধ্যে গাজীপুরে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা, নোয়াখালীতে আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর নির্মাণ এবং ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক আট লেনে উন্নীত করার উদ্যোগ উল্লেখযোগ্য।

এছাড়া সিলেট-ওসমানী বিমানবন্দর সড়কে এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ, কক্সবাজারে লবণ প্রক্রিয়াজাতকরণ প্লান্ট স্থাপন এবং পর্যটন খাতে সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণের প্রস্তাবও এসেছে।

স্থানীয় শিল্প বিকাশে বাইসাইকেল শিল্পে প্রণোদনা, কৃষিপ্রধান এলাকায় স্বল্প সুদের ঋণ এবং রপ্তানিযোগ্য পণ্যের মান পরীক্ষার জন্য ল্যাব স্থাপনের উদ্যোগও আলোচনায় রয়েছে।

ডিজিটাল অর্থনীতি ও সুশাসনে নতুন দিকনির্দেশনা : রাজস্ব বৃদ্ধি ও আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নগদ লেনদেন কমিয়ে ডিজিটাল লেনদেন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব গুরুত্ব পাচ্ছে। চিকিৎসক, আইনজীবী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন খাতে পস মেশিন ও ব্যাংকিং চ্যানেলের ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। এছাড়া জেলা পর্যায়ে ফ্যাক্ট-চেকিং সেন্টার স্থাপন, সরকারি প্রকল্পের অনলাইন ডাটাবেস তৈরি এবং সমবায় সমিতির ডিজিটাল ডাটাবেস গড়ে তোলার প্রস্তাব এসেছে।

ভূমি ব্যবস্থাপনায় সংস্কারের অংশ হিসেবে বিদ্যমান আইনগুলো একত্র করে একটি সমন্বিত সংকলন প্রণয়ন এবং ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ আইনের সংশোধনের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।

সামাজিক নিরাপত্তা ও পরিবেশ সুরক্ষায় গুরুত্ব

সামাজিক নিরাপত্তা খাতে মা ইলিশ সংরক্ষণে জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থান, প্রতিবন্ধী সেবাকেন্দ্র সম্প্রসারণ এবং দুর্গম এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসিক সুবিধা চালুর প্রস্তাব উল্লেখযোগ্য।

পরিবেশ সংরক্ষণে প্রতিটি পৌরসভা ও ইউনিয়নে বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকেন্দ্র, পানি শোধনাগার নির্মাণ এবং ইটভাটার বিকল্প হিসেবে পরিবেশবান্ধব ব্লক ব্যবহারের উদ্যোগ আলোচনায় এসেছে। পার্বত্য এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং জলবায়ু সহনশীলতা তহবিল গঠনের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।

বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ ও প্রত্যাশা

গত বছরের সম্মেলনে গৃহীত ৪০০টি সিদ্ধান্তের মধ্যে সামগ্রিক বাস্তবায়নের হার প্রায় ৪০ শতাংশ। স্বল্পমেয়াদি সিদ্ধান্তের ৬২ শতাংশ বাস্তবায়িত হলেও মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্তের অগ্রগতি তুলনামূলক ধীর। এই বাস্তবতা বিবেচনায় এবারের সম্মেলনে বাস্তবায়নযোগ্য ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, আইনগত, প্রশাসনিক ও আর্থিক প্রতিবন্ধকতা দূর করতে কার্যকর নির্দেশনা আসবে। এবার ডিসি সম্মেলনে একটি মিডিয়া কর্নার চালু থাকবে। প্রতিটি অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিং দেওয়া হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডিসি সম্মেলন মূলত সরকারের নীতিনির্ধারণ ও মাঠ প্রশাসনের বাস্তবতার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধ। এবারের সম্মেলনে প্রস্তাবের পরিমাণ ও বৈচিত্র্য দেখেই বোঝা যায়, দেশের উন্নয়ন চ্যালেঞ্জ এখন বহুমাত্রিক।

স্বাস্থ্য, শিক্ষা, অবকাঠামো, ডিজিটাল অর্থনীতি থেকে শুরু করে পরিবেশ ও সামাজিক নিরাপত্তাÑ সব খাতেই সংস্কার ও নতুন উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা উঠে এসেছে। এখন দেখার বিষয়, এসব প্রস্তাব কত দ্রুত ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের পথে এগোয়।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা