বাসস
প্রকাশ : ০২ মে ২০২৬ ১৫:৪৩ পিএম
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের নগর ভবন প্রাঙ্গণে শনিবার এক সুধী সমাবেশে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: পিএমও
সরকার ঢাকা-সিলেট রুটে ‘সড়ক ও রেল’ যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করার কাজ শুরু করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের নগর ভবন প্রাঙ্গণে শনিবার এক সুধী সমাবেশে তিনি এ কথা জানান। সিলেট সিটি কর্পোরেশন এলাকায় সুরমা নদীর দুই পাড়ে সৌন্দর্যবর্ধনসহ বন্যা প্রতিরোধী অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পের উদ্বোধন উপলক্ষে এই সুধী সমাবেশ হয়। সকাল সাড়ে ১১টায় চাঁদনী ঘাট এলাকায় এ সমাবেশ শুরু হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ঢাকা-সিলেট রুটে সড়কের অবস্থা এতোটাই খারাপ যে প্রায় ১০ ঘণ্টা সময় লেগে যায়। সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভাঙাচোরা থাকায় যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। আমি নির্বাচনি প্রচারের সময় এসে বলেছিলাম, আমরা সরকার গঠন করতে সক্ষম হলে সিলেট-ঢাকা সড়ক নির্মাণের কাজে হাত দেব।”
তারেক রহমান বলেন, “সরকার গঠনের পরে এ বিষয়ে সড়কের দায়িত্বে যে মন্ত্রণালয় আছে আমি তাদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারলাম, কাজটি যখন শুরু হয়, বিভিন্ন জায়গায় তাদের কোম্পানিগুলোর যে সাইট অফিস থাকে সেখানে ১১টিতে জমি অধিগ্রহণে সমস্যা রয়ে গেছে। এছাড়াও প্রশাসনিকও নানা জটিলতা রয়েছে।”
তবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় উদ্যোগ নিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আশা করছি দ্রুততম সময়ে আমরা এই কাজটি শুরু করতে পারব। দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে তা শেষও করা হবে। ফলে ঢাকা টু সিলেট, সিলেট টু ঢাকা বাই রোডে যাতায়াতে মানুষকে আর এত কষ্ট ভোগ করতে হবে না।”
সড়কপথের চেয়ে রেলপথের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “রাস্তা যতই বাড়াতে থাকি তত বেশি গাড়ি নামবে। ট্রাফিক বাড়বেই। এছাড়াও রাস্তা সম্প্রসারণের কারণে ফসলের জমিও নষ্ট হয়। তবে অবশ্যই রাস্তার উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন আমরা করব। কিন্তু মূলত রেলটাকে আমরা বেশি গুরুত্ব দিতে চাই।”
সিলেট-ঢাকা রেলপথে ডাবল লাইন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সিলেট-ঢাকা রুটে রেল যোগাযোগ উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এ বিষয়ে দ্রুত কাজ শুরু হবে এবং সিলেট-ঢাকা রেলপথে ডাবল লাইন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর ফলে আমরা কম খরচে যাতায়াত করতে পারব। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীরাও কম খরচে তাদের ব্যবসায়িক মালামাল আনা-নেওয়া করতে পারবেন।”
গ্রামাঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে সরকার বড় পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে এবং যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ্ সার্ভিস (এনএইচএস)- এর আদলে স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “শহরের মানুষ স্বাস্থ্য সেবা পেলেও, গ্রামের মামুষ পরিপূর্ণ স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত। তবে আমরা সচেতনতার মাধমে অসুস্থ মানুষের সংখ্যা কমিয়ে আনতে পারি। এ লক্ষ্যে সারাদেশে ১ লক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। যার প্রায় ৮০ শতাংশই নারী। এ সকল স্বাস্থ্যকর্মী সারাদেশের প্রান্তিক মানুষের কাছে গিয়ে স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক পরামর্শ দেবেন।”
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “সিলেট মেডিকেল কলেজের অধীনে ২৫০ শয্যার হাসপাতাল দ্রুত চালুর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, যা পরবর্তীতে ১২০০ শয্যায় উন্নীত করা হবে। সিলেটে শিল্প-কারখানা আরও সম্প্রসারণ করা হবে। পাশাপাশি আইটি খাতেও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।”
সিলেটের জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, “জলাবদ্ধতার সমস্যা শুধু সিলেটেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি সারা দেশের একটি সাধারণ সমস্যা। জলাবদ্ধতা নিরসনে মানুষকে সচেতন করতে হবে। সিটি কর্পোরেশনকে আমি অনুরোধ করব অবশ্যই আপনারা বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করবেন মানুষ যাতে সেবা পায়। কিন্তু একই সঙ্গে যদি আপনারা মানুষকে সচেতন করার জন্য কতগুলো উদ্যোগ নেন, যেমন প্লাস্টিক অথবা পলিথিন কাগজসহ যে কোনও বর্জদ্রব্য যেখানে সেখানে যাতে আমরা না ফেলি তার উদ্যোগ নিতে হবে।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান প্রতিভাবান শিশুদের খুঁজে বের করতে ‘নতুন কুঁড়ি’ চালু করেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে সারা দেশ থেকে প্রতিভাবান খুদে খেলোয়াড়দের খুঁজে বের করা সম্ভব হবে। সারাদেশে ৩০ লক্ষ বাচ্চা নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসে অন্তর্ভুক্ত হতে পারবে। এসব বাচ্চাদের ভেতর থেকে প্রতিভাবানরা একদিন আমাদের দেশের জন্য বিদেশ থেকে স্বর্ণপদক জয় করবে, সুনাম বয়ে আনবে।”
তিনি বলেন, “আড়াই মাস সয়সী একটি শিশু হাঁটতে পারে না। শিশুটিকে হাঁটতে হলে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হয়। সরকারের বয়স মাত্র আড়াই মাসের মতো। তবে আমরা, এরই মধ্যে জনগণকে যে প্রতিশ্রুতিগুলো দিয়েছিলাম সেগুলো বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছি। এরই মধ্যে আমরা নারীদের সহায়তা করতে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্পোর্টস কার্ড এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতা চালু করেছি। আরও যে সকল প্রকল্প আছে সবগুলো ধীরে ধীরে বাস্তবায়ন করবে সরকার।”
তারেক রহমান বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, পরিশ্রম দিয়ে আমরা উন্নত দেশের মতো বাংলাদেশকেও গড়ে তুলতে পারব। এই আত্মবিশ্বাস নিয়েই সরকার দেশ পরিচালনা শুরু করেছে। তাইতো এ দেশকে এগিয়ে নিতে আমাদের সকলের কাছে একটাই প্রত্যয়, একটাই স্লোগান ধারণ করতে হবে, তা হলো- ‘করব কাজ, গড়ব দেশ Ñ সবার আগে বাংলাদেশ’।”
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরীর সভাপতিত্বে সুধী সমাবেশে বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, শ্রম ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, সংসদের হুইপ জি কে গউছ এবং সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে অতিথি সারিতে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা, সংরক্ষিত নারী আসনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য শাম্মী আখতার, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য এনামুল হক চৌধুরী।
এর আগে বেলা ১১টায় চাঁদনি ঘাটে সুরমা নদীর উভয় পাড়ের সৌন্দর্যবর্ধনসহ বন্যা প্রতিরোধী অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রী সিলেটে এসে প্রথমে হজরত শাহজালাল (রহ.) এর মাজার জিয়ারত করেন। পরে তিনি সেখান থেকে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ খ্যাত লাল সবুজ বাসে চড়ে চাঁদনি ঘাটে আসেন।