প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০১ মে ২০২৬ ২০:২২ পিএম
আপডেট : ০১ মে ২০২৬ ২১:৪৭ পিএম
মে দিবস উপলক্ষ্যে শুক্রবার বিকালে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল আয়োজিত নয়াপল্টনের শ্রমিক সমাবেশে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
বিগত স্বৈরাচারী সরকারের আমলে ধ্বংস হওয়া দেশের শিল্প খাত পুনর্গঠনে বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানাগুলো পর্যায়ক্রমে আবার চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
মে দিবস উপলক্ষ্যে শুক্রবার বিকালে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল আয়োজিত নয়াপল্টনের শ্রমিক সমাবেশে তিনি একথা জানান।
এসময় দেশ গড়তে নিজেকে এবং নিজের মন্ত্রিসভাকে শ্রমিক হিসেবে ঘোষণা দেন তারেক রহমান।
তিনি বলেন, “আমার সামনে একটি ব্যানার আছে, যেখানে লেখা—বন্ধ কলকারখানা চালু করতে হবে। আমি আপনাদের জানাতে চাই, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পর আমি সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বসেছি এবং নির্দেশনা দিয়েছি। এই সপ্তাহেই একটি গুরুত্বপূর্ণ মিটিং (বৈঠক) নির্ধারিত হয়েছে, যেখানে আমরা ঠিক করব কত দ্রুত বন্ধ কলকারখানাগুলো চালু করে বেকার শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ফিরিয়ে দেওয়া যায়।”
বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, “আজ কথা একটাই, কাজ একটাই, সেটি হচ্ছে দেশ গড়া। সেজন্যই শ্রমিকরা কেউ কারখানায় কাজ করেন, কেউ ইমারত নির্মাণ করেন, কেউ জুটমিলে কাজ করেন, কেউ পোশাক শিল্পে কাজ করেন, কেউ হয়ত রেস্টুরেন্টে কাজ করেন, কেউ হয়ত পরিবহনে পরিবহনে কাজ করেন, বিভিন্ন পর্যায়ে বিভিন্ন শ্রেণীতে শ্রমিক ভাইরা আছেন।
“আজ সেই সকল শ্রমিক ভাইদের উদ্দেশ্যে আমি বলতে চাই, আপনারা যেমন বিভিন্ন সেক্টরে কাজ করেন। আপনাদের খাতায় আমি আমার নামটি লেখাতে চাই একজন শ্রমিক হিসাবে।”
এর কারণ ব্যাখ্যা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আপনি যেরকম ইমারত শ্রমিক হিসেবে এই ইমারতটি গড়ে তুলছেন, এই দালানটি গড়ে তুলছেন, আপনি একজন পাট শ্রমিক হিসেবে পাঠকলের উৎপাদন বৃদ্ধি করছেন, আপনি একজন পোশাক শিল্প শ্রমিক হিসেবে পোশাক শিল্পের উৎপাদন বৃদ্ধি করছেন। ঠিক একইভাবে আপনার খাতায় নাম লিখিয়ে আমিও দেশ গড়ার কাজে নিয়োজিত করতে চাই নিজেকে “
তিনি বলেন, “আমি মন্ত্রিপরিষদের সকল সদস্যের নাম শ্রমিক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে চাই। কারণ আপনারা যেমন একেকটি জিনিস গড়ে তুলছেন আমরা আপনাদের পাশে থেকে দেশ গড়ার কাজে হাত দিতে চাই, দেশকে গড়তে চাই।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দেশের মানুষ পরিশ্রম করে যেভাবে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে তাদের সাথে থেকে, তাদের পাশে থেকে আমরা দেশকে গড়ে তুলতে চাই। এজন্যই আমাদের নির্বাচনের সময় স্লোগান ছিল ‘করবো কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।
“এটি হচ্ছে আমাদের শ্লোগান, এটি হচ্ছে আমাদের বর্তমান স্লোগান, এইটি হচ্ছে আমাদের ভবিষ্যৎ স্লোগান। যেই স্লোগানের বলে বলিয়ান হয় ইনশাআল্লাহ আমরা এই প্রিয় মাতৃভূমিকে আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলতে পারব।”
তিনি বলেন, “আজকের এই মহান আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসে আসুন, আমরা আজকে প্রত্যেকে এখানে প্রতিজ্ঞা গ্রহণ করি, প্রত্যেকে শপথ গ্রহণ করি যেই বাংলাদেশের প্রত্যাশা প্রত্যেকটি নারী পুরুষ, প্রত্যেকটি মানুষের মনে রয়েছে সেই প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য আসুন আমরা প্রত্যেকে একেকজন দেশ গড়ার হিসেবে নিজেদেরকে প্রস্তুত করব। আমরা প্রত্যেকে একেকজন দেশগড়া শ্রমিক হিসেবে আমাদের জীবনের বাকি দিনগুলোকে আমরা অতিবাহিত করব।”
সমাবেশের শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “কি ভাইয়েরা আমরা কি এই প্রতিজ্ঞা গ্রহণ করতে পারি, দেশ গড়ায় শ্রমিক হিসেবে কি আপনারা নাম লেখাতে রাজি আছেন?”
শ্রমিকরা সমস্বরে ‘হ্যাঁ’ সূচক জবাব দিলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ। মনে রাখতে হবে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সেই একটি কথা… প্রথম বাংলাদেশ আমার, শেষ বাংলাদেশ। জীবন বাংলাদেশ আমার,মরণ বাংলাদেশ।”
তিনি বলেন, “আসুন এই বাংলাদেশই আমাদের প্রথম ঠিকানা, এই বাংলাদেশই আমাদের শেষ ঠিকানা। এটি আমাদের প্রথম এবং শেষ ঠিকানা। আজ আবারো দেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে, দেশ গড়ার শপথ ব্যক্ত করছি।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা জানি এই দেশে কল কারখানা তৈরি হলে এই দেশের শ্রমিকরা কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে। আমরা জানি, শ্রমিকরা যদি ভালো থাকে তাহলে বাংলাদেশ ভালো থাকবে। আমরা জানি কৃষকরা যদি ভালো থাকে তাহলেই বাংলাদেশ ভালো থাকবে। অর্থাৎ সাধারণ খেতে খাওয়া মানুষ যখন ভালো থাকবে তখনই এই দেশ বাংলাদেশ ভালো থাকবে।”
সমাবেশে ঢাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডের শ্রমিক দলের নেতাকর্মী-সমর্থক ছাড়াও গাজীপুর, নারায়নগঞ্জ, নরসিংদী, মুন্সিগঞ্জ, মানিকগঞ্জ প্রভৃতি জেলার শিল্প-কলকারখানার শ্রমিকরা অংশ নিয়েছেন। লাল টুপি মাথায় হাজারো নেতা-কর্মী ব্যানার হাতে নিয়ে এই সমাবেশে উপস্থিত হন।