প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ১৭:১০ পিএম
আপডেট : ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ১৭:১৩ পিএম
সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ। ছবি: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়
সব ধর্মের মানুষ যাতে শান্তি ও নিরাপত্তার সঙ্গে বসবাস করতে পারে এবং সমান অধিকার ভোগ করতে পারে তা নিশ্চিত করতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
গৌতম বুদ্ধের জন্ম তিথি ‘বুদ্ধ পূর্ণিমা’ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের প্রতিনিধিরা সচিবালয়ে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি তাদের এ প্রতিশ্রুতি দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাঙালি-অবাঙালি, বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী সবাই সব ক্ষেত্রে সমানভাবে অধিকার ভোগ করবে, এটাই বর্তমান সরকারের নীতি।
সরকার ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে চায় না, বরং ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই সকল ক্ষেত্রে সমান অধিকার ভোগ করবে বলেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, ‘বর্তমান সরকার ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করতে চায় না। ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে আমরা ব্যবহার করতে চাই না, অতীতেও আমরা তা করিনি। 'আমাদের সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি হচ্ছে, যা একটু আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, আমিও জোর দিয়ে আবারও একই কথা বলতে চাই, ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাবার অধিকার সবার'।
প্রধানমন্ত্রী বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতাদের শুভেচ্ছা জানান। প্রধানমন্ত্রীর হাতে একটি শুভেচ্ছা ক্রেস্ট এবং গৌতম বুদ্ধের মূর্তি তুলে দেন প্রতিনিধি দলের নেতারা।
সরকারপ্রধান বলেন, ‘বর্তমান সরকারের একটি রাজনৈতিক দর্শন হলো বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ। বাংলাদেশে এটি বারবার প্রমাণিত হয়েছে, একমাত্র বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শনই দেশের সব বর্ণ, ধর্মীয় সম্প্রদায় ও নৃগোষ্ঠীর নিবিড় সহাবস্থান নিশ্চিত করতে পারে।
‘সুতরাং, আপনারা কেউ নিজেদের কখনোই সংখ্যালঘু ভাববেন না। রাষ্ট্র আমার, আপনার, আমাদের সবার পরিচয় আমরা প্রত্যেকে, প্রত্যেক নাগরিক, সকলে আমরা বাংলাদেশি'।
বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের বুদ্ধ পূর্ণিমার শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা জানি পৃথিবীতে অনেকগুলো ধর্ম আছে। প্রতি ধর্মেরই অসংখ্য অনুসারী রয়েছেন। প্রতিটি ধর্মই মানুষকে কল্যাণের দিকে আহ্বান করে। প্রতিটি ধর্মেরই কিছু বিধিবদ্ধ নিয়মনীতি রয়েছে'।
তিনি আরও বলেন, ‘আমার মনে হয়, রাষ্ট্রীয় বিধিবিধানের পাশাপাশি প্রতিটি নাগরিক যার যার ধর্মীয় নির্দেশনাগুলো যথাযথভাবে অনুসরণ করলে আমরা সবাই মিলে একটি মানবিক রাষ্ট্র এবং সমাজ নির্মাণ করতে পারব। সুতরাং, প্রতিটি নাগরিক যাতে তার ধর্মীয় রীতি নীতি ও অধিকার বিনা বাধায় স্বাধীনভাবে অনুসরণ-অনুকরণ ও ভোগ করতে পারে, এমন একটি রাষ্ট্র ও সমাজ বিনির্মাণই হচ্ছে আমাদের সরকারের প্রধানতম দায়িত্ব ও অঙ্গীকার'।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে, বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী প্রত্যেকের জন্যই একটি নিরাপদ বাংলাদেশ বিনির্মাণের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে মুক্তিযোদ্ধারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন করেছিলেন।
‘মুসলমান-হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান সবাই মিলে লাখো প্রাণের বিনিময়ে এই দেশটা আমরা স্বাধীন করেছিলাম। মুক্তিযুদ্ধের সময় কে কোন ধর্মের অনুসারী, কে বিশ্বাসী কিংবা অবিশ্বাসী এটি কারো জিজ্ঞাসা ছিল না। তাই, এই স্বাধীন বাংলাদেশ আপনার, আমার— আমাদের সকলের'। বুদ্ধ পূর্ণিমার এই বিশেষ দিনটি বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের জন্য ‘আনন্দময় ও তাৎপর্যপূর্ণ’ হয়ে উঠুক–সেই কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।