অসহায় হাওরাঞ্চলের কৃষক
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:৩১ এএম
টানা বর্ষণে ডুবে গেছে সারা বছরের খোরাক। অর্থ খরচের পাশাপাশি মাথার ঘাম পায়ে ফেলে কষ্টে ফলানো ধান ঘরে তোলার নিরন্তর চেষ্টা চলছে হাওরজুড়ে। দুশ্চিন্তায় মাথায় হাত দিয়ে বসে থাকার সুযোগ নেই কৃষকের। কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার আব্দুল্লাহপুর হাওর থেকে বুধবার তোলা। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
বুকসমান পানিতে দাঁড়িয়ে ধান কাটছেন সুনামগঞ্জের দেখার হাওরের মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের আব্দুল্লাপুর গ্রামের কৃষক মো. আলাউদ্দিন। অর্ধেক ধান কাটতে পেরেছেন তিনি। আর কাটা ধানও বৃষ্টিতে খলায় পচে নষ্ট হচ্ছে। বাকি জমির ধান পানির নিচে। চোখের সামনে ডুবছে ধান। কিন্তু কোনো কূলকিনারা করতে পারছেন না তিনি।
মো. আলাউদ্দিন গত বছরের কিছু জমানো ও ঋণের টাকায় এ বছর চাষাবাদ করেছিলেন। ভাগ্য তার প্রসন্ন হয়নি। এখন ঋণের টাকা শোধ করবেন কীভাবে আর সংসারই বা চালাবেন কীসেÑ সেই দুশ্চিন্তা তাকে বারবার আঘাত করছে। প্রায় প্রতিবছর বৃষ্টির আগেই ধান ঘরে তোলেন তিনি। কিন্তু এ বছর হয়েছে ব্যতিক্রম। কেননা বর্ষা মৌসুমের আগেই ভারী ও অতি ভারী বৃষ্টিতে ভেসে যাচ্ছে তার স্বপ্নের ফসল।
আবহাওয়া অধিদপ্তর এপ্রিলের শুরুতেই বলেছিল এ বছর বৃষ্টিপাতের মাত্রা বাড়বে। কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের আভাসও তারা দিচ্ছিল। সেই আভাস এখন বাস্তবতা হয়ে এসেছে।
দেশে বোরো মৌসুমে উৎপাদিত ধানের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ধান আসে সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নেত্রকোণা ও কিশোরগঞ্জ জেলার হাওর থেকে। এখানে প্রায় ২০ শতাংশ ধান উৎপাদিত হয়। এ ধানের সঙ্গে মাছ ও অন্যান্য কিছু ফসল ফলিয়ে জীবন নির্বাহ করে হাওরের কৃষক। এ বছর প্রাক বর্ষায় (মার্চ-মে) ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পানিতে তাদের সেই বুকভরা স্বপ্ন এখন দুঃখ আর হাহাকারে পরিণত হয়েছে। কম্বাইন হারভেস্টারের অভাব, ডিজেল ও শ্রমিক সংকটের কারণে ধান কাটতে পারছেন না।
কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলের নিম্নাঞ্চলে প্রায় সাড়ে নয়শ হেক্টর জমি তলিয়ে গেছে। ফলে বোরো ধান কাটতে গিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন কৃষকরা। মাঠ থেকে কেটে আনা ধান শুকাতে না পেরেও বিপাকে পড়েছেন অনেকে। নদ-নদীর পানি অস্বাভাবিক হারে বাড়ায় ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকার কাঁচা ও আধাপাকা ধান এখন পানির নিচে। বিশেষ করে অষ্টগ্রামের আব্দুল্লাপুর হাওরের পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক। কৃষকরা জানিয়েছেন, দ্বিগুণ মজুরি দিয়েও শ্রমিক মিলছে না, ফলে ক্ষেতেই ধান নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
হবিগঞ্জের হাওরাঞ্চলে নেমে এসেছে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। সোনালি ধানক্ষেত পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। চোখের সামনে পাকা ধান ডুবে যেতে দেখে দিশেহারা কৃষকেরা। জেলরা আজমিরীগঞ্জ, বানিয়াচং, লাখাই ও নবীগঞ্জ উপজেলার কৃষকরা জানায়, গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে আগাম বন্যার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৫ হাজার হেক্টর পাকা বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। এমনকি কেটে আনা ধানও (শুকানোর খলা) পানিতে তলিয়ে গেছে, ধান শুকানোর মতো কোনো জায়গা নেই। ফলে ঘরে তোলার পরও ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে দিশেহারা তারা।
সুরমা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের বোরো ধান নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন কয়েক লাখ কৃষক। ইতোমধ্যে জলাবদ্ধতায় জেলার বিভিন্ন হাওরে ইতোমধ্যে তলিয়ে গেছে কয়েক হাজার হেক্টর জমির পাকা ধান। একদিকে নামছে পাহাড়ি ঢল, অন্যদিকে তীব্র শ্রমিক সংকটÑ সব মিলিয়ে একমাত্র ফসল ঘরে তোলা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন কৃষকরা। গতকাল সরেজমিন ছায়ার হাওরে গিয়ে দেখা যায়, হাওরের হাজারো হেক্টর পাকা বোরো ধান তলিয়ে গেছে। উপজেলার ৬টি হাওরেই নিম্নাঞ্চল পানির নিচে।
নেত্রকোণায় গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে জেলার কংস, সোমেশ্বরী, উবদাখালী, মগড়া ও ধনুসহ সবকটি নদ-নদীর পানি বেড়ে প্লাবিত হচ্ছে নিম্নাঞ্চল। বিশেষ করে হাওরাঞ্চলে থাকা কৃষকদের হাজার হাজার হেক্টর জমির পাকা ও আধাপাকা বোরো ধান তলিয়ে গেছে। চরম শ্রমিক সংকট, পাশাপাশি কেটে রাখা ভেজা ধান বৃষ্টিপাতের কারণে পচে যাচ্ছে।
মৌলভীবাজারে টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে জেলার মনু, কুশিয়ারা, ধলাই, জুড়ী প্রভৃতি নদ-নদীর পানি অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ায় আগাম বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় শতাধিক গ্রামের মানুষ জলমগ্ন হয়ে পড়েছেন। এ ছাড়া জেলার সাত উপজেলায় হাওর ও নন-হাওর মিলিয়ে ৩২ হাজার ৩৪২ হেক্টর জমির বোরো ধানের অধিকাংশই পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে ঘরে ফসল তোলা নিয়ে চরম উদ্বেগ ও চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন জেলার হাজারো কৃষক।
চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ায় চলতি মৌসুমের বোরো ধান-গ্রীষ্মকালীন সবজি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষকরা জানায়, অতিবৃষ্টির কারণে বহু ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বিশেষ করে নিম্নাঞ্চলের জমিগুলো বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে। ফলে পাকা ধান ঘরে তোলা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছেন তারা।
কাটা হয়নি ৪০ শতাংশ ধান
এদিকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, হাওরাঞ্চলের ৭ জেলায় ৩৫ হাজার হেক্টর জমি বন্যার ঝুঁকিতে ছিল। সেখানে গতকাল পর্যন্ত ৬০ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। বাকি ৪০ শতাংশ ধান এখনও কাটা হয়নি। তবে কী পরিমাণ জমির ধান এখন তলিয়ে রয়েছে সে বিষয়ে সর্বশেষ কোনো তথ্য তাদের কাঝে নেই।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) সূত্রে জানা গেছে, হাওরভুক্ত ৭টি জেলার আবাদকৃত বোরো ধানের জমির পরিমাণ প্রায় ৭ লাখ ৪০ হাজার ১৮৩ হেক্টর। হাওরগুলোতে ধানের আবাদ হয়েছে সাড়ে চার লাখ হেক্টরে। এসব ধান দ্রুত কাটতে অন্তত সাড়ে ৭ হাজার কম্বাইন হার্ভেস্টার প্রয়োজন। সেখানে সচল যন্ত্র আছে ২ হাজার ৯৩০টি।
এ ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, আমরা হাওরের ধান কাটতে আশপাশের জেলাগুলো থেকে কম্বাইন হারভেস্টার ও শ্রমিক পাঠিয়েছি।
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে গত তিন দিনের ভারী বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতায় নিম্নাঞ্চলে ভেসে যাওয়ায় বাম্পার ফলন হলেও ধান ঘরে তোলা নিয়ে শঙ্কায় কৃষক। কৃষক আব্দুল মজিদ জানান, ‘আকাশের অবস্থা ভালো দেখে ধান কেটেছিলাম। এখন সেই ধান বৃষ্টির পানিতে ভাসতেছে। কাটা ধান জমিতেই নষ্ট হওয়ার পথে।’ কৃষক নুরুল আমিন জানান, ‘আড়াই একর জমিতে উন্নত জাতের হাইব্রিড ধান রোপণ করেছিলাম। জমিতে পানি জমে থাকায় ধান কাটা যাচ্ছে না।’
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, কয়েক দিন ধরে সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগে মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। আবার বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র হাওরাঞ্চলের ৪ নদীতে বিপদসীমার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়াসহ ৫ জেলায় বন্যার আভাস দিয়েছে।
আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির বলেন, গত ৩-৪ বছর প্রাক বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পরিমাণ কম ছিল। এ বছর বৃষ্টিটা বেশি হচ্ছে। ময়মনসিংহ ও সিলেটের ভৌগোলিকভাবে ভিন্নতা রয়েছে। এ দুটি বিভাগে অন্যান্য বিভাগের চেয়ে তুলনামূলকভাবে বেশি বৃষ্টি হয়। গত মার্চে শুধু সারা দেশে ৩১ শতাংশ বেশি বৃষ্টি হয়েছে।
তিনি বলেন, চলতি এপ্রিলে ২-৫ এপ্রিল, ১২-১৫ ও ২০-২৬ এপ্রিল পর্যন্ত তিন দফা মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে। তাপপ্রবাহের সময়ও কোনো কোনো বিভাগে বৃষ্টি হয়েছে। মাঝারি বা মাঝারি ধরনের ভারী বৃষ্টি হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের হিসাবে ১ থেকে ১০ মিলিমিটার বৃষ্টিকে হালকা, ১১-২২ মি.মিকে মাঝারি, ২৩-৪৩ মাঝারি ধরনের ভারী, ৪৪-৮৮ ভারী ও ৮৮ মিলিমিটার অধিক হলে অতি ভারী বৃষ্টি বলা হয়।
সোমবার সিলেটে ৬১, মৌলভীবাজারে ৭৮, কিশোরগঞ্জে ৫৩, নেত্রকোণায় ৬৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার মৌলভীবাজারে ৪২, নেত্রকোণায় ৮৯, কিশোরগঞ্জে ১৬০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। গতকাল বুধবার ঢাকায় ৪৫, ময়মনসিংহে ১০৪, নেত্রকোণায় ১০১, সিলেটে ২৯, মৌলভীবাজারে ২৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।
চলতি বছর বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বেশি হবে
এ বছর বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বেশি হবে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মমিনুল ইসলাম। তিনি প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, আমরা প্রাক-বর্ষার শুরু থেকেই এ বছর অধিক বৃষ্টিপাত হবে সে কথা জানিয়ে আসছিলাম। আমাদের সেই পূর্বাভাস পুরোপুরি ঠিক দেখতে পাওয়া যাচ্ছে।
আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুল ইসলাম বলেন, আমরা ৪-৫ দিন ধরে কালবৈশাখী ঝড়, ভারী ও অতি ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়ে যাচ্ছি। তিনি বলেন, প্রাক-বর্ষা মৌসুমে এত পরিমাণ সাধারণত হয় না, তবে এ বছর হচ্ছে। তা ছাড়া কখনও কখনও কিছুটা ব্যতিক্রম হয়ে বৃষ্টি হয়। আমাদের দেশে কালবৈশাখী তৈরি হলে বা আশপাশের দেশগুলো থেকে কালবৈশাখী এলে এ পরিস্থিতি হতে পারে। তিনি বলেন, এখন কালবৈশাখী এ ধানের পরিস্থিতি সৃষ্টির অনুকূলে থাকায় বৃষ্টি হচ্ছে। একের পর এক কালবৈশাখী সৃষ্টি হচ্ছে। আঘাত করছে। বৃষ্টি হচ্ছে।
কালবৈশাখী সৃষ্টি সম্পর্কে মো. শাহীনুল ইসলাম বলেন, কোন কারণে হিট লঘুচাপ বা তাপের কারণে বা যেকোনো কারণে স্থলে লঘুচাপ সৃষ্টি হয়। এখান থেকে কনভেকশন আকারে ক্লাউড তৈরি হয়ে ওপরে যায়। তারপর চারপাশ থেকে ময়েশ্চার এসে আরও ঘনীভূত করে। তারপর কোনো এক দিকে ছুটে চলে। বেশিরভাগই নর্থওয়েস্ট, সাউথইস্টে ছুটে চলে। আর বেশিরভাগই এগুলো আমাদের দেশের ভেতরে তৈরি হয়। কিছু দেশের আশপাশ দেশ তথা ভারতের কিছু অঙ্গরাজ্যে।
এ বৃষ্টির ধারাবাহিকতা সপ্তাহব্যাপী হবে বলে মন্তব্য করেন আবহাওয়াবিদ ড. মো. বজলুর রশিদ। তিনি বলেন, আমরা এপ্রিলের শুরু থেকেই বলে আসছিলাম মাসের শেষের দিকে দীর্ঘতর একটি বৃষ্টির স্পেল আসবে। সেটি গত ২৫ এপ্রিল থেকে শুরু হয়েছে। এদিন রংপুরে ১২৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে অর্থাৎ অতি ভারী বৃষ্টি। রংপুর, রাজশাহী, সিলেট, ময়মনসিংহ ও ঢাকাতেও এই ভারী ও কোথাও কোথাও অতি ভারী বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। এই বৃষ্টি ৩ মে পর্যন্ত হতে পারে। সাধারণত এ ধরনের স্পেল ৫ থেকে ৭ দিন পর্যন্ত হয়ে থাকে। এতে তাপমাত্রা সহনীয় থাকবে। অতি ভারী বৃষ্টির কারণে হাওরাঞ্চলে পানি বেড়ে যাবে।
ড. মো. বজলুর রশিদ বলেন, মে মাসের প্রথম সপ্তাহে তাপমাত্রা একটু একটু করে তাপমাত্রা বাড়বে। চতুর্থ সপ্তাহে গিয়ে তাপমাত্রা অনেক বেড়ে গিয়ে তাপপ্রবাহ হবে। আর্দ্রতাও বেশি থাকবে। তখন প্রচণ্ড গরম অনুভূত হবে।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. এসএম ফারুখ বলেন, এ বছরের প্রাক-বর্ষায় বৃষ্টির একটি কারণ এলনিনোর প্রভাব। আমরা দেখেছি এর কারণে দুটি বড় ধরনের বৃষ্টির স্পেল রয়েছে, যা ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে।
৫ বিভাগে অতি ভারী বৃষ্টির আভাস : এদিকে ময়মনসিংহ, ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও আজ (বৃহস্পতিবার) মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
৫ জেলায় বন্যার আশঙ্কা : মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ নেত্রকোণা, সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলা তথা হাওরাঞ্চলের কয়েকটি নদীর পানি প্রাক-বর্ষা মৌসুমে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় এসব জেলা নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টির আশঙ্কা করেছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। গতকাল কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী মোস্তফা কামাল জিহান এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, গতকাল বুধবার সন্ধ্যা ৬টায় মৌলভীবাজার জেলার মনু নদী মৌলভীবাজার পয়েন্টে প্রাকমৌসুমি বিপদসীমার ১৯ সে.মি. ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নেত্রকোণা জেলার ভুগাই-কংস নদী জারিয়াঝাঞ্জাইল পয়েন্টে প্রাকমৌসুমি বিপদসীমার ৯৩ সে.মি. ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সোমেশ্বরী নদী কলমাকান্দা পয়েন্টে প্রাকমৌসুমি বিপদসীমার ৬৩ সে.মি. ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। মগরা নদী নেত্রকোণা পয়েন্টে প্রাকমৌসুমি বিপদসীমার ৩৮ সে.মি. ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। মগরা নদী আটপাড়া পয়েন্টে প্রাকমৌসুমি বিপদসীমার ৩ সে.মি. ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। হবিগঞ্জ জেলার সুতাং নদী সুতাং রেলওয়ে ব্রিজ পয়েন্টে প্রাকমৌসুমি বিপদসীমার ৩ সে.মি. ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ নেত্রকোণা, সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।
(প্রতিবেদন তৈরিতে সহায়তা করেছেন কিশোরগঞ্জ, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, সুনামগঞ্জের শাল্লা, নেত্রকোণা, মৌলভীবাজার, চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি ও কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম প্রতিবেদক)