প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬ ১৪:৫১ পিএম
ঢাকা বার এ্যাসোসিয়েশন। ফাইল ছবি
দীর্ঘ বিরতির পর ঢাকা আইনজীবী সমিতির (ঢাকা বার) নির্বাচন শুরু হয়েছে। বুধবার ও বৃহস্পতিবার দুদিনব্যাপী এই নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলবে। এবারের নির্বাচনে ২৩টি পদের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৫৪ জন প্রার্থী, আর মোট ভোটার সংখ্যা ২১ হাজার ৭৩১ জন।
পুরনো সমীকরণ ভেঙে নতুন বাস্তবতা, এবারের নির্বাচন ঠিক এমনই এক ভিন্ন দৃশ্যের সাক্ষী। একদিকে সাবেক জোটের বিচ্ছেদ, অন্যদিকে একটি বড় রাজনৈতিক শক্তির অনুপস্থিতি।
সাধারণত প্রতি বছর ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ঢাকা বার নির্বাচন হয়ে থাকে কিন্তু গত দুই বছরে তা হয়নি। সর্বশেষ নির্বাচন হয়েছিল ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে। পরে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের পরিবর্তন এবং বিভিন্ন কারণে নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন আয়োজন সম্ভব হয়নি। ফলে মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় ১৪ মাস পর এবার নতুন কমিটি গঠনের ভোট হচ্ছে। তাই নির্বাচন ঘিরে আইনজীবীদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
দুই প্যানেলের লড়াই, নেই আওয়ামী লীগ
এবারের নির্বাচনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে বিএনপি সমর্থিত ‘নীল প্যানেল’ এবং জামায়াত-এনসিপি সমর্থিত ‘সবুজ প্যানেল’-এর মধ্যে। দুই দশকের বেশি সময় একসঙ্গে নির্বাচন করা এই দুই রাজনৈতিক ধারার আইনজীবীরা এবার আলাদা হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন, ফলে প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হয়েছে।
অন্যদিকে, আওয়ামী লীগপন্থি কোনও প্যানেল এবারের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না। তাদের দাবি, অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়নি।
নির্বাচনি প্রচারে প্রার্থীরা আইনজীবীদের কল্যাণ তহবিল শক্তিশালী করা, আদালত প্রাঙ্গণের পরিবেশ উন্নয়ন এবং ডিজিটাল সেবা বাড়ানোর মতো নানা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
বিএনপি সমর্থিত (নীল) প্যানেল থেকে সভাপতি পদে মো. আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া এবং সাধারণ সম্পাদক পদে মোহাম্মদ আবুল কালাম খান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
প্যানেলের অন্য প্রার্থীরা হলেন- সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. রেজাউল করিম চৌধুরী, সহ-সভাপতি মো. আবুল কালাম আজাদ, কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান আনিস, সিনিয়র সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. এলতুতমিশ সওদাগর অ্যানি, সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. মাহাদী হাসান জুয়েল, লাইব্রেরি সম্পাদক খন্দকার মাকসুদুল হাসান সবুজ, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মারজিয়া হেরা, অফিস সম্পাদক মো. আফজাল হোসেন মৃধা, ক্রীড়া সম্পাদক মো. সোহেল খান, সমাজকল্যাণ সম্পাদক এএসএম ফিরোজ এবং তথ্য ও যোগাযোগ সম্পাদক পদে সফিকুল ইসলাম শফিক।
সদস্য পদে, এএইচএম রেজওয়ানুল সাঈদ রোমিও, ফারজানা ইয়াসমিন, মো. আদনান রহমান, মো. নিজাম উদ্দিন, মো. নজরুল ইসলাম মামুন, মো. সানাউল, মামুন মিয়া, মুজাহিদুল ইসলাম সায়েম, শেখ শওকত হোসেন এবং সৈয়দ সারোয়ার আলম নিশান।
জামায়াত সমর্থিত (সবুজ)প্যানেল থেকে সভাপতি পদে এসএম কামাল উদ্দিন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে মো. আবু বকর সিদ্দিক লড়ছেন।
এই প্যানেলের অন্য প্রার্থীরা হলেন– সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. শাহিদুল ইসলাম, সহ-সভাপতি মো. লুৎফর রহমান আজাদ, কোষাধ্যক্ষ মো. আজমত হোসেন, সিনিয়র সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. শাহীন আক্তার, সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. মেহেদী হাসান ভূঁইয়া, লাইব্রেরি সম্পাদক মো. শাহাদাত হোসেন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক বিলকিস আক্তার, অফিস সম্পাদক মো. আবদুর রাজ্জাক, ক্রীড়া সম্পাদক বাবুল আক্তার বাবু, সমাজকল্যাণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহজাহান মোল্লা এবং তথ্য ও যোগাযোগ সম্পাদক পদে মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ।
সদস্য পদে প্রার্থীরা হলেন, বেলাল হোসেন, দিলরুবা আক্তার সুবর্ণা, জহিরুল ইসলাম, কাওসার আহমেদ, মো. কাইয়ুম হোসেন নয়ন, মো. মহসিন রেজা, মো. ওমর ফারুক, মো. শাহ আলম, মো. ইউনূস এবং মোশাররফ হোসেন।
প্রার্থীদের জয়-পরাজয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে যে সমীকরণ
ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে জয়-পরাজয় নির্ধারণে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে রাজনৈতিক পরিচয়, আঞ্চলিক ভিত্তি, শিক্ষাগত পটভূমি ও ব্যক্তিগত আচরণ। আইনজীবীদের মতে, ভোটের বড় অংশই এই চার উপাদানের ওপর নির্ভরশীল।
সমীকরণ অনুযায়ী, প্রায় ৩৫ শতাংশ ভোট আসে রাজনৈতিক অবস্থান থেকে এবং আরও ৩৫ শতাংশ নির্ধারিত হয় আঞ্চলিক পরিচয়ে। বিশেষ করে নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলের প্রার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ পদে এগিয়ে থাকেন। এছাড়া ২০ শতাংশ ভোট নির্ভর করে শিক্ষাজীবন ও বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক পরিচয়ে, আর বাকি ১০ শতাংশ প্রভাবিত হয় ব্যক্তিত্ব, আচরণ ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতায়।
বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রার্থীর যোগ্যতার পাশাপাশি তার রাজনৈতিক সংযোগ, নিজ এলাকা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক- সবকিছু মিলিয়েই তৈরি হয় ভোটের এই বাস্তব হিসাব। অনেক সময় দক্ষ প্রার্থীও এই সমীকরণের বাইরে থাকলে পিছিয়ে পড়েন।
ভোটের নিয়ম ও চিত্র
দুদিনব্যাপী এই নির্বাচনে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ ২৩টি পদে ভোটগ্রহণ হবে। এর মধ্যে ১৩টি সম্পাদকীয় এবং ১০টি সদস্য পদ। সদস্য পদে নির্ধারিত সংখ্যার কম বা বেশি ভোট দিলে সেই ব্যালট বাতিল বলে গণ্য হবে।
সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে প্রত্যাশা
নির্বাচন কমিশন বলছে, তারা একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে প্রস্তুত। প্রার্থীদের সঙ্গে আলোচনা ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কমিশন।