× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

মাদক-জুয়া

দেশজুড়ে শুরু হচ্ছে সাঁড়াশি অভিযান

কবির হোসেন

প্রকাশ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬ ১০:৫৮ এএম

মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে দেশজুড়ে শুরু হচ্ছে সাঁড়াশি অভিযান। প্রতীকী ছবি

মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে দেশজুড়ে শুরু হচ্ছে সাঁড়াশি অভিযান। প্রতীকী ছবি

বিএনপি সরকার গঠন করার পরপরই সব ধরনের অপরাধমূলক কাজ ও তৎপরতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে দলটির তৃণমূল থেকে শুরু করে হাইকমান্ড। দলটির এই অবস্থানের বাস্তব প্রতিফলনও ঘটে গত রমজান মাসে। ওই সময় চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে কঠোর অভিযান চালানো হয়। সেই অভিযানে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নয়, বর্তমান সরকারের এমপিদেরও নিজেদের সংসদীয় আসনে অপরাধ রোধে বিশেষ ভূমিকা পালন করতে দেখা যায়। সরকার গঠনের তিন মাসের মাথায় দেশজুড়ে মাদক ও অবৈধ জুয়ার বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযানের কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সংসদ অধিবেশন সমাপ্ত হওয়ার পর যেকোনো দিন শুরু হতে চলেছে এই অভিযান।

সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো বলছে, মাদক নির্মূলে দেশব্যাপী যে অভিযান চালানো হবে ইতোমধ্যে তার সকল কর্মপরিকল্পনা সাজানো হয়েছে। এ নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উচ্চ পর্যায়ে একটি সমন্বয় সভা হয়। সেখানে মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সমন্বয় করে ভূমিকা রাখবে বলে জানা গেছে। অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, এ অভিযানের বিষয়ে সকল বাহিনীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং সকল বিষয়ে তারা একমত হয়েছেন। শীঘ্রই মেট্রোপলিটন এলাকা, জেলা ও থানা পর্যায়ে সকল স্তরে সাঁড়াশি অভিযান চলবে। বিশেষ করে রাজধানীর মতো এলাকায় যৌথ বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করবে অধিদপ্তর। আইনের আওতায় আনা হবে তালিকা ধরে ধরে সকল মাদক ব্যবসায়ীকে। একই সঙ্গে সাঁড়াশি অভিযান চলবে সকল ধরনের অবৈধ জুয়ার বিরুদ্ধে। 

সরকার মাদক ও অবৈধ জুয়ার বিরুদ্ধে যে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে এবং দেশজুড়ে কঠোর সাঁড়াশি অভিযান চালানোর বার্তা দিয়েছে, তাকে পুলিশ সদর দপ্তর এবং মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা তাদের জন্য অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে গণ্য করছেন। দেশের মাদক ব্যবসার মূল রুটগুলো (যেমনÑ কক্সবাজার) শনাক্ত করে সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। পুলিশ মনে করে, শুধু আইন প্রয়োগ করে মাদক নির্মূল সম্ভব নয়, এজন্য সামাজিক আন্দোলনও প্রয়োজন।

১১ হাজার সিসি ক্যামেরা বসছে রাজধানীতে : কয়েকটি দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, সকল অপরাধপ্রবণ এলাকাকে চিহ্নিত করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে রাজধানীতে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি জোরদারে ১১ হাজার সিসি (ক্লোজড সার্কিট) ক্যামেরা বসানোর পরিকল্পনা করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। এর মধ্যে অপরাধপ্রবণ মোহাম্মদপুর এলাকায় বসানো হবে প্রায় ৭০০ ক্যামেরা। পাশাপাশি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে মোহাম্মদপুরের বছিলা এলাকায়। বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা তৎপরতা। কাজ করছে পুলিশ, র‍্যাব ও ডিবি (গোয়েন্দা শাখা)। 

অপরাধীদের গ্রেপ্তারের বিষয়টিকে পুলিশ সদর দপ্তরের পাশাপাশি ডিএমপিও চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে। এ বিষয়ে ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার বলেন, ‘রাজধানীজুড়ে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি বাড়ানোর এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা সহজ হবে। মোহাম্মদপুর এলাকায় কিশোর গ্যাং, ছিনতাই ও মাদক সংক্রান্ত অপরাধের প্রবণতা বেশি থাকায় এখানে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। এলাকাটিতে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে এবং নতুন পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’ 

তিনি বলেন, ‘অপরাধীদের একটি তালিকা পুলিশের কাছে রয়েছে। তাদের আয়ের উৎস ও কার্যক্রম বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিশোর গ্যাং সদস্যদের বিরুদ্ধেও কঠোর অভিযান পরিচালনা করা হবে। গুলশান-বনানী এলাকার মডেল অনুসরণ করে মোহাম্মদপুরেও নজরদারি জোরদার করা হবে।’ তিনি বলেন, ‘তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীদের ছবি প্রকাশ করা হবে।’

যেভাবে এলো সাঁড়াশি অভিযানের কর্মসূচি : গত ২৭ এপ্রিল জাতীয় সংসদের অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, আগামী ৩০ এপ্রিল জাতীয় সংসদের চলমান অধিবেশন শেষ হওয়ার পরপরই সারা দেশে মাদক, জুয়া ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে সমন্বিত এবং কঠোর সাঁড়াশি অভিযানে নামবে সরকার। 

নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক রাজধানীর অভিজাত এলাকায় আবাসিক ভবন ও রেস্টুরেন্টের আড়ালে অবৈধ ‘শিশা লাউঞ্জ’ পরিচালনার বিষয়টি উত্থাপন করলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার জবাবে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, ‘মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে সারা দেশে একটি সুসমন্বিত অভিযান পরিচালনা করব। যুবসমাজকে বাঁচাতে এর কোনো বিকল্প নেই।’ এ সময় তিনি জানান, গত ১৬ ও ২০ এপ্রিল রাজধানীর গুলশানসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ শিশা ও সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে গোয়েন্দা নজরদারিও জোরদার করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তি ও প্রশাসনের কতিপয় কর্মকর্তার ছত্রছায়ায় গুলশান, বনানী, ধানমন্ডি ও উত্তরার মতো এলাকায় অবৈধ শিশা বার ও মাদক স্পট গড়ে উঠেছিল। বর্তমানে এসব স্থানে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও পুলিশ নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে।

যা বলছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘যদি কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে এসব অবৈধ ব্যবসায় মদদ দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ মন্ত্রী জানান, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার কাজ শুরু হয়েছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মাধ্যমেও শিশা বারের মতো ট্রেড লাইসেন্সবিহীন অবৈধ প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করে বন্ধের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

অধিদপ্তরের ভাষ্য

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (ডিডি) মো. রাজিউর রহমান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘অভিযানের বিষয়ে আমাদের সকল পরিকল্পনা ইতোমধ্যে জমা দিয়েছি। মেট্রোপলিটন যেসব এলাকা রয়েছে সেসব এলাকায় যৌথ অভিযান চালানো হবে। একই সঙ্গে আমাদের তালিকাভুক্ত যে মাদক ব্যবসায়ীরা আছে তাদের আটকের ক্ষেত্রেও যৌথ অভিযান চলবে। বিষয়টি আমরা সকল বাহিনীর সঙ্গে আলোচনা করেছি। আমরা আমাদের কাজের ক্ষেত্র সম্পর্কে একমত হয়েছি। মেট্রোপলিটনের বাইরে জেলা ও থানা পর্যায়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সবাই তাদের কর্মপরিকল্পনা জমা দিয়ে দিয়েছে। এ ছাড়া স্বাভাবিকভাবে আমাদের অভিযানের অংশ হিসেবে স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে।’

এ প্রসঙ্গে পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) এএইচএম শাহাদাত হোসেন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘সারা দেশে মাদকবিরোধী সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনায় পুলিশ পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে রয়েছে। গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি, সীমান্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বিশেষ তদারকির পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে অভিযান পরিচালনা করা হবে। মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে পুলিশ সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে থাকবে।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা