এনবিআর, আত্মার প্রাক-বাজেট আলোচনা
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৮ এপ্রিল ২০২৬ ১৭:৪১ পিএম
ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
সিগারেটের নিম্ন ও মধ্যম স্তরকে একত্রিত করে প্রতি ১০ শলাকার খুচরা মূল্য ১০০ টাকা, উচ্চ স্তরে ১৫০ টাকা এবং প্রিমিয়াম স্তরের সিগারেটের মূল্য ২০০ টাকা বা তদূর্ধ্ব নির্ধারণের পাশাপাশি বিদ্যমান ৬৭ শতাংশ সম্পূরক শুল্কের সঙ্গে প্রতি ১০ শলাকার প্যাকেটে ৪ টাকা সুনির্দিষ্ট শুল্ক আরোপ করা হলে চলতি অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব আয় হবে। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে প্রায় চার লাখ অকাল মৃত্যু রোধ করা সম্ভব হতে পারে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সম্মেলনকক্ষে মঙ্গলবার প্রাক-বাজেট আলোচনায় অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া অ্যালায়েন্সের (আত্মা) পক্ষ থেকে এ সংস্কার প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।
প্রাক বাজেট আলোচনায় আত্মার প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নিয়েছেন দৈনিক জনকণ্ঠের চিফ রিপোর্টার কাওসার রহমান, ডেইলি টাইমস অব বাংলাদেশ-এর হেড অব অনলাইন (বাংলা) মনির হোসেন লিটন, বাংলা ট্রিবিউনের বিজনেস ইনচার্জ শফিকুল ইসলাম, আত্মার কনভেনর মর্তুজা হায়দার লিটন ও কো-কনভেনর নাদিরা কিরণ ও মিজান চৌধুরী।
আলোচনায় এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেন, ‘কর এবং মূল্য বৃদ্ধি করলে সিগারেটের ব্যবহার কমে। এটি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাছে প্রমাণিত। কাজেই আগামীতেও কর ও মূল্য বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।’
আলোচনা সভায় জানানো হয়, কার্যকর মূল্য বৃদ্ধির অভাবে সিগারেট ও অন্যান্য তামাক পণ্যের প্রকৃত মূল্য কমে যাচ্ছে এবং নিত্যপণ্যের তুলনায় সস্তা হয়ে পড়ছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া সিগারেটের দামের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, ভুটান, নেপাল ও ভারতের নিচে। তামাকজাত পণ্যের মূল্য কার্যকরভাবে বৃদ্ধি করতে এরই মধ্যে ভারত, থাইল্যান্ড, তুরস্কসহ বিশ্বের ৬৯টি দেশ অ্যাডভেলরেম পদ্ধতির পাশাপাশি সুনির্দিষ্ট কর প্রচলন করেছে। সুনির্দিষ্ট কর তামাক পণ্যের সর্বনিম্ন মূল্য বৃদ্ধিতে অত্যন্ত কার্যকর এবং এ পদ্ধতিতে কর আহরণ তুলনামূলক সহজ।
আলোচনায় ২০ শলাকা ফিল্টারযুক্ত ও ফিল্টারবিহীন বিড়ির অভিন্ন দাম ও করহার যথাক্রমে ৩০ টাকা ও ৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ, জর্দা ও গুলের ক্ষেত্রে যথাক্রমে প্রতি ১০ গ্রাম ৬০ টাকা ও ৩০ টাকা খুচরা মূল্য নির্ধারণ করে ৬০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ এবং সব তামাক পণ্যের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ১ শতাংশ স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ বহাল রাখার দাবি জানানো হয়।
বাংলাদেশে ৩৫.৩ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তামাক ব্যবহার করেন। তামাক ব্যবহারজনিত কারণে বছরে প্রায় ২ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তামাক ব্যবহারজনিত স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ক্ষতি হয়েছে ৮৭ হাজার কোটি টাকার, যা এ খাত থেকে আদায়কৃত রাজস্বের দ্বিগুণ।