বাসস
প্রকাশ : ২৭ এপ্রিল ২০২৬ ১৮:৫১ পিএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সোমবার দুপুরে ৫০০ শয্যার যশোর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ভবনের নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ছবি: বাসস/পিএমও
সুস্থ জাতি গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সবল মানুষ ছাড়া দেশ পিছিয়ে যাবে।
যশোর শহরের চাচড়ার হরিণার বিল এলাকায় সোমবার দুপুরে ৫০০ শয্যার যশোর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ভবনের নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
আধুনিক চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতের অংশ হিসেবে হাসপাতালটির নির্মণকাজের আনুষ্ঠানিকতার সূচনা করেন সরকারপ্রধান। ভবনটি নির্মাণ করছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়।
‘আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে দ্রুত মানুষের কাছে চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেওয়া। আমাদের সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে মানুষকে অসুস্থ হওয়া থেকে দূরে রাখা এবং মানুষকে সচেতন করে গড়ে তোলা’, বলেন প্রধানমন্ত্রী।
‘আমাদের সকলকে এটা মনে রাখতে হবে, আমরা যদি সামনে বাড়তে চাই, আমরা যদি দেশকে সামনে নিতে চাই, জাতিকে সামনে নিতে চাই, অবশ্যই একটি সুস্থ জাতির প্রয়োজন। জাতি সুস্থ সবল না থাকলে আমরা পিছিয়ে যাব’, যোগ করেন তিনি।
নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান, প্রয়াত তরিকুল ইসলামের স্ত্রী অধ্যাপক নার্গিস বেগম, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমসহ অনেকে।
বক্তব্যে জনগণের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা সরকারকে সহযোগিতা করলে আমাদের জন্য পুরো বিষয়টি সহজ হবে। আমাদের লক্ষ্য হলো এই কাজগুলোকে এমনভাবে সামনে নিয়ে যাওয়া, যাতে আমরা বাংলাদেশের মানুষকে স্বাস্থ্য সেবা সহজেই তাদের ঘরে পৌঁছে দিতে পারি। এটাই হোক আমাদের প্রত্যাশা, আমাদের আগামী দিনের পরিকল্পনা।’
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শাসনামলে যশোর সদর হাসপাতালকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। ২০০৬ সালে যশোরে মেডিক্যাল কলেজ স্থাপনের অনুমোদন দেয় বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার। পরে যশোর শহর থেকে ৫ কিলোমিটার দক্ষিণে হরিণার বিলে ৭৫ বিঘা জমি অধিগ্রহণ করা হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় ২০১০ সালে যশোর মেডিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হয় এবং ২০১০-১১ সেশনে প্রথমবারের মতো শিক্ষার্থী ভর্তি শুরু হয়। শুরুতে অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম শহরের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পরিচালনা হয়।
হরিণার বিল এলাকায় ২০১৬ সালের আগস্টে নিজস্ব ক্যাম্পাসে হাসপাতাল ছাড়াই কলেজের অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম চালু হয়।
যশোরে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার দাবিতে আন্দোলন শুরু হলে একপর্যায়ে ২০২৩ সালের ২৯ আগস্ট জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) ৫০০ শয্যার যশোর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল অনুমোদন করা হয়। ২০২৫ সালের জুনে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করা হয়।