× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

লোভে বিপন্ন স্কুলশিশুরা

হাসনাত শাহীন

প্রকাশ : ২৭ এপ্রিল ২০২৬ ১২:৫২ পিএম

আপডেট : ২৭ এপ্রিল ২০২৬ ১২:৫৪ পিএম

পলাশ উপজেলার চরনগরদি প্রাইমারি স্কুলে রবিবার রুটিন অনুযায়ী ডিম ও রুটি দেওয়ার কথা থাকলেও প্রদান করা হয় শুধু ডিম। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

পলাশ উপজেলার চরনগরদি প্রাইমারি স্কুলে রবিবার রুটিন অনুযায়ী ডিম ও রুটি দেওয়ার কথা থাকলেও প্রদান করা হয় শুধু ডিম। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঝরে পড়া রোধ, উপস্থিতি বাড়ানোসহ শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিতে চালু করা ‘মিড-ডে মিল’ (শিক্ষার্থীদের পুষ্টিকর টিফিন) কর্মসূচি ঘিরে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এ কর্মসূচিতে মন্ত্রণালয়ের মানসম্মত খাবার দেওয়ার কড়া বার্তা থাকলেও ঘটছে উল্টো। এ প্রকল্পে ঢুকে পড়েছে অনিয়ম-দুর্নীতিও। বর্তমানে দেশের যেসব জেলা-উপজেলা পর্যায়ের স্কুলগুলোতে এ প্রকল্প চলমান সেসব স্কুলে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই বেশি মুনাফার লোভে সরবরাহ করছে অপুষ্টিকর মানহীন খাবার। তারা শিক্ষার্থীদের মাঝে পরিবেশন করছে পচা কিংবা অপরিপক্ব কলা, ছোট ও নিম্নমানের ডিম, ফাঙ্গাস ধরা পাউরুটিসহ দুর্গন্ধযুক্ত খাবার। এসব খাবার খেয়ে ইতোমধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নরসিংদী, মাদারীপুর, পিরোজপুর, কিশোরগঞ্জ, ঝালকাঠি, বরগুনা ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় বেশ কিছু শিক্ষার্থী অসুস্থ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সর্বশেষ গতকাল রবিবার চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার মকরমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে টিফিন হিসেবে দেওয়া ডিম খাওয়ার পর শতাধিক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে।

এসব ঘটনার বাইরে দেশের কোথাও নির্ধারিত খাদ্যতালিকা অনুযায়ী খাবার দেওয়া হচ্ছে না এবং কিছু ক্ষেত্রে আংশিক বিতরণেরও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া এসব খাদ্যে কোনো নির্দিষ্ট প্যাকেজিং বা চিহ্ন না থাকায় অপব্যবহার বা সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের খাবার না দিয়ে বাইরে বিক্রি করে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটছে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষা বিশ্লেষকরা। 

‘প্রতিদিনের বাংলাদেশ’-এর প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য বলছেÑ গতকাল রবিবার চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার মকরমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে টিফিন হিসেবে দেওয়া ডিম খাওয়ার পর শতাধিক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। এর আগে গত ২২ এপ্রিল চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার শংকরবাটি ১ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির সরবরাহকৃত নিম্নমানের খাবার খেয়ে অন্তত ৮ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং আরও ১৬ শিক্ষার্থীর বমি, পেটব্যথা ও চোখ জ্বালাপোড়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। ২৫ এপ্রিল দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার চাতরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির সরবরাহকৃত খাবার খেয়ে আরও ১৫-২০ জন শিক্ষার্থী পেটে ব্যথায় আক্রান্ত হয়। গত ৯ এপ্রিল মাদারীপুর সদর উপজেলার কয়েকটি বিদ্যালয়ে নিম্নমানের খাবার খেয়ে অন্তত ১৫ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। এ ছাড়া পিরোজপুরের নেছারাবাদ, ঝালকাঠির নলছিটি, বরগুনার তালতলী ও চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলাতেও একই ঘটনা ঘটেছে। আর কিশোরগঞ্জ জেলার কুলিয়ারচরের রামদী ইউনিয়নের ১০টি বিদ্যালয়ের প্রায় ১৬০০ শিক্ষার্থী ২৩ এপ্রিল ও ২৫ এপ্রিল খাবার না পাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

এর আগে হবিগঞ্জের বাহুবলের ১০৪টি বিদ্যালয়ে নির্ধারিত তালিকা অনুযায়ী ডিম ও রুটি সরবরাহের কথা থাকলেও অর্ধেকের বেশি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কোনো কিছুই পায়নি। কয়েকটি বিদ্যালয়ে শুধু ডিম দিয়ে দায়সারা কাজ করেছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার। একই অভিযোগ পিরোজপুর জেলার নেছারাবাদ ও স্বরূপকাঠি উপজেলায়ও। গত ২৯ মার্চ নেছারাবাদ উপজেলার দুই শতাধিক বিদ্যালয়ের কর্মসূচির শুরুতেই সরবরাহকৃত ডিমের ওজন নিয়ে গরমিলের অভিযোগ ওঠে। সে সময় স্বরূপকাঠি উপজেলার একটি বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সুজন সমদ্দার বলেন, ‘সরবরাহ করা ডিমের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই ছোট, যা নির্ধারিত ওজনের কম।’ এই দুই উপজেলায় মিড-ডে মিলের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানে গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থার ডেপুটি ডিরেক্টর অ্যাডভোকেট গোপাল চন্দ্র শীল বলেন, ‘এটি একটি বড়ো প্রকল্প। একসঙ্গে এতগুলো বিদ্যালয়ে কাজ করতে গিয়ে প্রাথমিকভাবে কিছু ত্রুটি থাকতে পারে। তবে দ্রুতই খাবারের মান ও নির্ধারিত ওজন নিশ্চিত করা হবে। এখানে কোনো গাফিলতি নেই।’

এর বাইরে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা, মুন্সীগঞ্জ সদর, ভোলার দৌলতখান, বোরহানউদ্দীন, তজুমদ্দীন ও মনপুরা, ময়মনসিংহের ফুলপুর, ঈশ্বরগঞ্জ, ধোবাউড়া, হালুয়াঘাট, পটুয়াখালীর বাউফল, বরিশালের বাকেরগঞ্জ, বানারীপাড়া, গৌরনদী, হিজলা, মুলাদী, উজিরপুর, ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া ও নলছিটিতে নিম্নমানের খাবার সরবরাহের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বাকেরগঞ্জ পৌর শহরের সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী রাফিজা আক্তারের ভাষ্য, ‘কলা পচা, ডিম আগের দিন সিদ্ধ করা; খাওয়া যায় না।’

চাঁপাইনবাবগঞ্জে গোমস্তাপুরে টিফিনের ডিম খেয়ে শতাধিক শিক্ষার্থী অসুস্থ

গোমস্তাপুরের প্রতিবেদক এমরান আলী বাবু জানানÑ রবিবার দুপুরে উপজেলার মকরমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে নিয়মিত টিফিন হিসেবে ডিম বিতরণ করা হয়। তবে ডিম খাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই শতাধিক শিক্ষার্থীর শরীরে হঠাৎ চুলকানি শুরু হয়। দ্রুতই বিষয়টি অভিভাবক ও শিক্ষকদের নজরে এলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়।

খবর পেয়ে গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একটি চিকিৎসক দল দ্রুত বিদ্যালয়ে পৌঁছে আক্রান্ত শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করে। চিকিৎসক শহিদুল ইসলাম জানান, অধিকাংশ শিক্ষার্থীর শরীরে অ্যালার্জিজনিত চুলকানি দেখা গেছে এবং তাৎক্ষণিক চিকিৎসার ফলে তারা এখন স্থিতিশীল রয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি খাদ্যজনিত অ্যালার্জি বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

একজন অভিভাবক আবুল কাশেম বলেন, হঠাৎ করেই তার সন্তানের শরীরে তীব্র চুলকানি শুরু হয়, যা দেখে তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পরে চিকিৎসকরা এসে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মমতাজ বেগম জানিয়েছেন, ডিমের সরবরাহের উৎস ও মান যাচাই করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ইসাহাক বলেন, ঘটনার পরপরই শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারি বাড়ানো হবে।

অন্যদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিবেদক মেহেদী হাসান শিয়াম জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির সরবরাহকৃত নিম্নমানের ও বাসি পাউরুটি খেয়ে পৃথক দুটি ঘটনায় অন্তত ২৮ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। ২২ এপ্রিল দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার শংকরবাটি ১ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম ঘটনাটি ঘটে। সেখানে টিফিনের সময় সরবরাহকৃত পাউরুটি খাওয়ার পর তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির ৮ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং আরও ১৬ শিক্ষার্থীর বমি, পেটব্যথা ও চোখে জ্বালাপোড়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। এর ঠিক তিন দিন পর ২৫ এপ্রিল দুপুরে শিবগঞ্জ উপজেলার চাতরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একই ধরনের খাবার খেয়ে আরও ১৫-২০ জন শিক্ষার্থী পেটে ব্যথায় আক্রান্ত হয়ে পড়ে। এই দুটি ঘটনার পরই আতঙ্কিত শিক্ষার্থীদের দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অভিভাবকদের মাধ্যমে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয় এবং বর্তমানে তারা আশঙ্কামুক্ত রয়েছে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সাইফুল ইসলাম খাবারের মান নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, সরবরাহকৃত পাউরুটিগুলো এতটাই নিম্নমানের ও বাসি ছিল যে হাতে ধরলেই তা ঝুরঝুর করে ভেঙে পড়ছিল। 

এদিকে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠান গাক-এর সিনিয়র পরিচালক মাহবুব আলম ঘটনার দায় স্বীকার করে জানিয়েছেন, তারা ‘বিস্কুট বিপণনী’ ও বগুড়ার ‘খাজা বেকারী’ নামক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এসব খাবার সরবরাহ করে থাকেন। সংশ্লিষ্ট সাব-কন্ট্রাক্টর প্রতিষ্ঠানগুলো ইতোমধ্যে তাদের ভুলের কথা স্বীকার করেছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস জানিয়েছে, এ ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে ইতিমধ্যে আনুষ্ঠানিক তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

অপরদিকে, ‘গাক’-এর প্রতিনিধিকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। ২২ এপ্রিল রাতে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মারুফ আফজাল রাজনের নেতৃত্বে হরিপুরস্থ গুদামে অভিযানে অস্বাস্থ্যকর ও মানহীন খাবার মজুদের প্রমাণ মেলে। ভোক্তা অধিকার আইনে জরিমানার পাশাপাশি পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত গুদামটি সিলগালা ও কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে রোববার পর্যন্ত সদর উপজেলাজুড়ে স্কুল ফিডিং কার্যক্রম আপতত বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। 

শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী পরিদর্শনের পরও খাবার সরবরাহে অনিয়ম

নরসিংদী জেলা প্রতিবেদক শামীম মিয়া জানানÑ নরসিংদীর প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ পরিদর্শনের পরদিনই শিক্ষার্থীদের মিড ডে মিলে নির্ধারিত খাবার দেওয়া হয়নি। মিড ডে মিলে রবিবারের খাদ্য তালিকায় বনরুটি ও ডিম দেওয়ার কথা থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শুধু ডিম সরবরাহ করেছে। ডিমের ওজন ৬০ গ্রাম হওয়ার কথা থাকলেও সরবরাহ করা ডিমের সাইজ একেবারে ছোট ছিল, আবার ভাঙাও ছিল। রবিবার দুপুরে পলাশ উপজেলার চরনগরদি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘুরে এ চিত্র দেখা যায়।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. তোফাজ্জল কবির সরকার বলেন, আমরা সরবরাহকৃত খাবার চেক করে নিয়ে থাকি। তারপরও কিছু সমস্যা হয়ে থাকে। রুটি ও ডিমের ওজনে কম রয়েছে। আর মাঝে মধ্যে দুই ধরনের খাবার দেওয়ার কথা থাকলেও শুধু একধরনের খাবার পেয়ে থাকি। এ বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।

জানা যায়, নরসিংদীর পলাশ, নরসিংদী সদর, রায়পুরা, বেলাব, মনোহরদী ও শিবপুর উপজেলার স্কুলগুলোয় খাবার সরবরাহ করতে কক্সবাজার জেলার আইল্যান্ড ট্রেডিং লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তি করা হয়। চুক্তি মোতাবেক ৭৭৩টি বিদ্যালয়ে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য বনরুটি ১২০ গ্রাম, সিদ্ধ ডিম ৬০ গ্রাম এবং ১০০ গ্রাম ওজনের একটি কলা সরবরাহের কথা। এছাড়া ২০০ গ্রাম ইউএইচটি দুধ সরবরাহের জন্য পলাশ উপজেলায় অবস্থিত প্রাণ কোম্পানির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়।

এদিকে মিড ডে মিল কর্মসূচির শুরুর পর থেকেই নানা ধরনের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আইল্যান্ড ট্রেডিং লিমিটেডের বিরুদ্ধে। প্রতিষ্ঠানটি মূল ঠিকাদার হলেও নরসিংদীর ৬টি উপজেলায় কার্যক্রম পরিচালনা করে জেলা বিএনপির ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ও চিনিশপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আওলাদ হোসেন মোল্লা। স্কুলগুলোতে মানহীন খাবার, ওজনে কমসহ নানা ধরনের অভিযোগ করেছেন শিক্ষকরা। শনিবার নরসিংদীর বাসাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনকালে মিড ডে মিলের খাবার পর্যবেক্ষণ করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। এ সময় তিনি মিড ডে মিলের খাবারের মান নিয়ে ঠিকাদারের দায়িত্বে থাকা আওলাদ হোসেন মোল্লার সাথে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি খাবারের মানের উন্নতি না হলে কার্যাদেশ বাতিলেরও হুঁশিয়ারি দেন। পরে শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ বনরুটিতে গন্ধ সন্দেহজনক হওয়ায় দুটি স্যাম্পল ঢাকার ল্যাবে টেস্টের জন্য নিয়ে যায়।

নরসিংদীর দত্তপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মিড ডে মিলের দায়িত্বে থাকা সহকারী শিক্ষক সানি আক্তার বলেন, আমরা বনরুটির মান মাঝে মধ্যে খারাপ পেয়ে থাকি। বাচ্চারা বনরুটির প্যাকেট খুললে কিছুটা কাঁচা থাকতে দেখা যায়। আবার ডিমগুলো ভাঙা ও ছোট থাকে। আমরা বিষয়গুলো কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।

‘মিড-ডে মিল’ কর্মসূচির খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান আইল্যান্ড ট্রেডিং লিমিটেডের ডেপুটি ডিরেক্টর মঞ্জুর মাসুদ জানান, শনিবার নরসিংদীর একটি স্কুল পরিদর্শনের সময় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী খাবারের কিছু ত্রুটি মনে করে তা পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠান। 

এ ছাড়া পলাশের ২১ নম্বর চরনগরদি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রুটিন অনুযায়ী রবিবার ডিম ও রুটি দেওয়ার কথা থাকলেও শুধু ডিম দেওয়া হয়েছে এমন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মঞ্জুর মাসুদ বলেন, এসব তথ্য সঠিক নয়, নিয়ম মেনেই সব সরবরাহ করা হয়েছে।

এ ছাড়াও কয়েকটি স্কুলে খাবারের মান নিম্নমানের ডিম ছোট বা ভাঙা, কলা কাঁচা, রুটি অপরিপক্ব এসব অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি দায়ভার শিক্ষকদের ওপর চাপিয়ে বলেন, স্থানীয়ভাবে শিক্ষকদের মাধ্যমে খাবার সরবরাহের দায়িত্ব দিলে এ ধরনের সমস্যা হতো না, তাদের সম্পৃক্ত না করার কারণেই এসব জটিলতা তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা ও মাদারীপুর সদর উপজেলার কয়েকটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড ডে মিলের খাবার খেয়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়েছে। সরকার এ বিষয়ে দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইতোমধ্যে এ বিষয়ে মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। মাদারীপুরের খাদ্য সরবরাহকারীদের সাথে চুক্তি কেন বাতিল করা হবে না এ মর্মে প্রকল্প পরিচালকের পক্ষ হতে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী এ বিষয়ে সিভিল সার্জনকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি কমিটি গঠনের জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসককে নির্দেশনা দিয়েছেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এ বিষয়ে তদন্ত করে ইতোমধ্যে একটি রিপোর্ট প্রদান করেছেন। 

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মুশতাক হোসেন বলেন, শিশুরা খুবই সংবেদনশীল। এটা তাদের বেড়ে ওঠার বয়স। যদি তাদের খাবারটি ভালো না হয় তাহলে শিশুর পুষ্টি চাহিদা পূরণ হবে না তার গ্রোথ বাড়বে না। দ্বিতীয়ত, শিশু পেটে পীড়াজনিত রোগ দেখা দেবে। এতে স্কুলে উপস্থিতি বাড়ার বিপরীতে স্কুলে অনুপস্থিতি বাড়বে। তাই শিশুদের যে খাবার দেওয়া হোক না কেন, তা হতে হবে অবশ্যই মানসম্মত।

প্রসঙ্গত, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর গত বছরের ১৫ নভেম্বর শুরু হয় প্রাথমিকের মিড ডে মিল বা স্কুল ফিডিং কার্যক্রম। ওইদিন নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার খুবজীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তৎকালীন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা