চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ২৫ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:২১ এএম
চট্টগ্রাম বন্দর। ছবি: বাসস
আজ ১৩৯তম বর্ষে পদার্পণ করেছে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম বন্দর। ১৩৮ বছর আগে কর্ণফুলী নদীর মোহনায় প্রতিষ্ঠিত হয় এই বন্দরটি। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে বন্দরটি। সময়ের সঙ্গে আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এই বন্দর দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় আরও শক্তিশালী ভূমিকা রাখছে।
বন্দর কর্তৃপক্ষের উপসচিব (জনসংযোগ) মো. নাহিদ মোস্তফা জানান, দিবসটি উপলক্ষে আজ শনিবার সকালে জাতীয় পতাকা ও বন্দর পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির সূচনা করবেন বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এসএম মনিরুজ্জামান। এরপর কেক কেটে দিবসটি উদযাপন করা হবে।
১৮৮৭ সালে পোর্ট কমিশনার্স অ্যাক্ট প্রণয়ন করে ব্রিটিশ সরকার। ১৮৮৮ সালের ২৫ এপ্রিল তা কার্যকর হয়। তখন থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। তাই প্রতি বছর ২৫ এপ্রিল বন্দর দিবস উদযাপন করা হয়।
বন্দর সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চট্টগ্রাম বন্দরের যাত্রা শুরু হয় ব্রিটিশ শাসনামলের শুরুর দিকে। সে সময় ইংরেজ ও দেশীয় ব্যবসায়ীরা বার্ষিক এক টাকা সেলামির বিনিময়ে নিজস্ব অর্থায়নে কর্ণফুলী নদীতে কাঠের জেটি নির্মাণ করেন। পরবর্তীতে ১৮৬০ সালে নির্মিত হয় দুটি অস্থায়ী জেটি।
এরপর ১৮৭৭ সালে গঠিত হয় চট্টগ্রাম পোর্ট কমিশনার। ১৮৮৮ সালে বন্দরে নির্মিত হয় দুটি মুরিং জেটি এবং একই বছরের ২৫ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করে পোর্ট কমিশনার। ১৮৯৯ থেকে ১৯১০ সালের মধ্যে পোর্ট কমিশনার ও আসাম বেঙ্গল রেলওয়ে যৌথভাবে চারটি স্থায়ী জেটি নির্মাণ করে, যা বন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে।
১৯১০ সালে চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে রেল যোগাযোগ স্থাপিত হয়, যা বাণিজ্য সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পরবর্তীতে ১৯২৬ সালে চট্টগ্রাম বন্দরকে ‘মেজর পোর্ট’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
এরপর বাংলাদেশ আমলে ১৯৭৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে চট্টগ্রাম পোর্ট ট্রাস্টকে চট্টগ্রাম পোর্ট অথরিটিতে পরিণত করা হয়। বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দর একটি স্বায়ত্তশাসিত সরকারি সংস্থা হিসেবে পরিচালিত হয়ে আসছে।