রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি
শরীফুজ্জামান ফাহিম, সাভার
প্রকাশ : ২৫ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:৩৯ এএম
২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভারে ধসে পড়া আটতলা পোশাক কারখানার ভবন রানা প্লাজায় উদ্ধারকর্মীরা জীবিতদের সন্ধান করছেন। ছবি: গেটি ইমেজেস
সাভারে রানা প্লাজা ভবন ধসের ১৩ বছর পূর্ণ হলো গতকাল। ২০১৩ সালের এই দিনে ১ হাজার ১৩৮ জন শ্রমিক এই ভবন ধসে নিহত হন। এদিন ভবনের সামনে অস্থায়ী বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন নিহতদের স্বজন, আহত শ্রমিক ও বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা। অশ্রুসিক্ত নয়নে নিহতদের স্মরণ করার পাশাপাশি এ সময় দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ক্ষতিগ্রস্তদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের দাবি জানানো হয়।
শুক্রবার সকালে শ্রদ্ধা নিবেদনের আগে বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের পক্ষ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি সাভারের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে রানা প্লাজার অস্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভের সামনে এসে শেষ হয়। এ সময় শ্রমিক নেতারা অভিযোগ করেন, এক দশকের বেশি সময় পার হলেও এখনও অনেক আহত শ্রমিক সুচিকিৎসা ও ন্যায্য ক্ষতিপূরণ থেকে বঞ্চিত।
বাংলাদেশ গার্মেন্ট ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইন বিষয়ক সম্পাদক খাইরুল মামুন মিন্টু বলেন, রানা প্লাজার ঘটনায় আহত শ্রমিকরা চিকিৎসার জন্য এখনও দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) কনভেনশন ১২১ অনুসারে নিহত ও আহতদের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
বিপ্লবী গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি অরবিন্দু ব্যাপারী বিন্দু বিচারের দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গত ১২ বছর ধরে আমরা শুধু বিচারের আশ্বাসই পেয়েছি, কিন্তু বাস্তবায়ন দেখিনি। বর্তমান সরকারের কাছে আমাদের দাবি, রানা প্লাজা হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের যেন দ্রুত বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হয়।
সকাল থেকেই অস্থায়ী বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায় গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র, গার্মেন্টস শ্রমিক অধিকার আন্দোলন, বাংলাদেশ টেক্সটাইল-গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল, গার্মেন্টস শ্রমিক জোট বাংলাদেশসহ অন্তত ২০টি সংগঠন। এছাড়া শিল্প পুলিশের পক্ষ থেকেও নিহতদের স্মরণে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। বিদেশি অনেক সংগঠনও শ্রদ্ধা নিবেদন করে।
২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সকালে সাভার বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ৯ তলাবিশিষ্ট রানা প্লাজা ভবনটি ধসে পড়ে। এটি বিশ্বের পোশাক শিল্পের ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ দুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচিত। ভবনটিতে পাঁচটি পোশাক কারখানা ছিল, যেখানে কর্মরত ১ হাজার ১৩৮ জন শ্রমিক প্রাণ হারান এবং দুই সহস্রাধিক পঙ্গুত্ব বরণ করেন। ১৩ বছর পেরিয়ে গেলেও ভবন মালিক সোহেল রানাসহ অন্যান্য আসামির বিচারকার্য চূড়ান্ত না হওয়ায় এবং শ্রমিকদের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা নিশ্চিত না হওয়ায় সাধারণ শ্রমিক ও জনমনে এখনও গভীর ক্ষোভ বিরাজ করছে।