আইজিসির মূল্যায়নে বাংলাদেশ
ছবি: সংগৃহীত
'কাজে নেমে পড়েছে বাংলাদেশের নয়া সরকার' শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সংকট মন্ডলী বা ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ (আইসিজি)। এতে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি, নতুন সরকারের সামনের চ্যালেঞ্জ ও করণীয় এর ওপর আলোকপাত করা হয়েছে।
তাদের ওয়েবসাইটে বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।
গ্রুপটি মনে করে, সামনের দিনগুলো খুব কঠিন এবং সরকার পাহাড় সমান চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের প্রভাবশালী দল আওয়ামী লীগের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হবে না বলে মন্তব্য করে আইসিজি বলেছে, দেশের স্থিতিশীলতার স্বার্থে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক প্রক্রিয়া বজায় রাখা জরুরি এবং আওয়ামী লীগের মতো দলকে অনির্দিষ্টকালের জন্য রাজনীতির বাইরে রাখা কঠিন হবে।
আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ: আইসিজি-র সিনিয়র কনসালট্যান্ট থমাস কিন উল্লেখ করেছেন যে, স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের যে ঐতিহাসিক ভূমিকা ও জনভিত্তি রয়েছে, তাতে দলটিকে দীর্ঘসময় নিষিদ্ধ রাখা সম্ভব নয়। তারা পরামর্শ দিয়েছে, এই সংবেদনশীল বিষয়টি রাজনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত।
ভারতের ভূমিকা: প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ নেতাদের একটি বড় অংশ বর্তমানে ভারতে নির্বাসিত। এমতাবস্থায় নয়াদিল্লির উচিত তাদের প্রভাব খাটিয়ে দলটির নেতৃত্বকে এমন পথে আনা, যাতে তারা ভবিষ্যতে সুস্থ ধারার রাজনীতিতে ফিরতে পারে।
অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান কেন্দ্রিক উত্তেজনার ফলে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও বিশ্ব অর্থনীতির অস্থিরতা বাংলাদেশের নতুন সরকারের জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াবে। আইসিজি বলছে, বিগত সরকারের আমলের অব্যবস্থাপনা কাটিয়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সচল করাই হবে বর্তমান প্রশাসনের প্রধান কাজ।
কূটনৈতিক ভারসাম্য: ভারতের সাথে শীতল হয়ে যাওয়া সম্পর্ক পুনর্গঠনকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথেও ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার তাগিদ দিয়েছে সংস্থাটি।
সংস্কারের সুযোগ: ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পর নতুন সরকার যে জনসমর্থন পেয়েছে, তা কাজে লাগিয়ে দ্রুত শাসনতান্ত্রিক, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সংস্কার সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, সংস্কারে বিলম্ব হলে জনগণের মোহভঙ্গ হতে পারে।
আইসিজি: ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ একটি আন্তর্জাতিক, অলাভজনক ও অরাজনৈতিক গবেষণা সংস্থা। এটি সাধারণত বিশ্বজুড়ে প্রাণঘাতী সংঘর্ষ বা সংঘাত প্রতিরোধ এবং সমাধানের উপায় নিয়ে কাজ করে। ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সংস্থার সদর দপ্তর বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে। এর কাজ হলো মাঠপর্যায় থেকে তথ্য সংগ্রহ করে নীতিনির্ধারকদের কাছে নিরপেক্ষ বিশ্লেষণ ও পরামর্শ পৌঁছে দেওয়া। জাতিসংঘসহ বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলো তাদের প্রতিবেদনকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে।
সারসংক্ষেপ: ক্রাইসিস গ্রুপের মতে, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ এখন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। নতুন সরকারের উচিত প্রতিশোধমূলক রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে দ্রুত সংস্কার সম্পন্ন করা এবং একটি অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করা।